১২:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

দাবি আদায়ে আন্দোলনরত শিক্ষকদের ওপর পুলিশের হামলা, দেশজুড়ে কর্মবিরতির ডাক

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৯:১৬:০৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৫
  • ৫৭২

বেতন-ভাতার ন্যায্য হিস্যাসহ ২০ শতাংশ বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ও উৎসব ভাতার প্রজ্ঞাপন জারির দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষকদের ওপর পুলিশ চড়াও হয়েছে। গতকাল রোববার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে শিক্ষকদের সমাবেশে জলকামান নিক্ষেপ, সাউন্ড গ্রেনেড ও লাঠিচার্জ করা হয়। এতে শিক্ষকরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েন এবং পাঁচজনকে আটক করা হয়। এই হামলার প্রতিবাদে আজ সোমবার থেকে দেশের সব এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মবিরতি পালনের ঘোষণা দিয়েছে আন্দোলনকারী শিক্ষকরা।
সংঘর্ষ ও আহত হওয়ার ঘটনা:
প্রত্যক্ষদর্শী ও শিক্ষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী শিক্ষকরা গতকাল সকালে প্রেস ক্লাবের সামনে জড়ো হন। তাঁদের একটি প্রতিনিধিদল অর্থ মন্ত্রণালয়ে বৈঠক করে। বৈঠক শেষে কর্মকর্তারা আগামী ২২ অক্টোবরের মধ্যে দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিলেও ‘আশ্বাসে বিশ্বাস নেই’ জানিয়ে শিক্ষকরা প্রজ্ঞাপন জারির দাবিতে রাজপথে অবস্থান ধরে রাখেন।
দুপুর পৌনে ২টার দিকে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে শুরু করে। শিক্ষকরা সচিবালয় অভিমুখে পদযাত্রার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। এর পরই শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। আন্দোলনরত শিক্ষকদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে, মুহুর্মুহু সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে এবং জলকামান ব্যবহার করে। এতে শিক্ষকরা দিগ্বিদিক ছোটাছুটি শুরু করেন।
পুলিশের লাঠিচার্জে পিরোজপুর থেকে আসা শিক্ষক গণপতি হাওলাদার (৩২), কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীর মো. শফিকুল ইসলাম কাজল (৪০) এবং চাঁদপুরের আক্কাস আলী (৫৫) গুরুতর আহত হন। তাঁদের মাথা, পা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। সহকর্মীরা তাঁদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান।
ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, আহত তিন শিক্ষককে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁরা হাসপাতাল ছেড়েছেন।
দেশজুড়ে কর্মবিরতির ঘোষণা:
পুলিশি হামলার পর আন্দোলনরত শিক্ষকরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েন। শিক্ষকদের একটি অংশ প্রেস ক্লাবের সামনেই অবস্থান ধরে রাখলেও এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজীজির নেতৃত্বে আরেকটি বড় অংশ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে অবস্থান নেন।
সেখান থেকেই অধ্যক্ষ আজীজি শিক্ষকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে আজ থেকে সারা দেশে লাগাতার কর্মবিরতি পালনের ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ‘শিক্ষকদের ওপর এই ন্যক্কারজনক হামলা আমরা মেনে নেব না। দাবি আদায় এবং হামলার প্রতিবাদে দেশের সব এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কাল (আজ) থেকে বন্ধ থাকবে।’

সর্বাধিক পঠিত

বেনাপোলে ছোট ভাইয়ের হাতে বড় ভাই জখম

দাবি আদায়ে আন্দোলনরত শিক্ষকদের ওপর পুলিশের হামলা, দেশজুড়ে কর্মবিরতির ডাক

আপডেট: ০৯:১৬:০৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৫

বেতন-ভাতার ন্যায্য হিস্যাসহ ২০ শতাংশ বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ও উৎসব ভাতার প্রজ্ঞাপন জারির দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষকদের ওপর পুলিশ চড়াও হয়েছে। গতকাল রোববার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে শিক্ষকদের সমাবেশে জলকামান নিক্ষেপ, সাউন্ড গ্রেনেড ও লাঠিচার্জ করা হয়। এতে শিক্ষকরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েন এবং পাঁচজনকে আটক করা হয়। এই হামলার প্রতিবাদে আজ সোমবার থেকে দেশের সব এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মবিরতি পালনের ঘোষণা দিয়েছে আন্দোলনকারী শিক্ষকরা।
সংঘর্ষ ও আহত হওয়ার ঘটনা:
প্রত্যক্ষদর্শী ও শিক্ষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী শিক্ষকরা গতকাল সকালে প্রেস ক্লাবের সামনে জড়ো হন। তাঁদের একটি প্রতিনিধিদল অর্থ মন্ত্রণালয়ে বৈঠক করে। বৈঠক শেষে কর্মকর্তারা আগামী ২২ অক্টোবরের মধ্যে দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিলেও ‘আশ্বাসে বিশ্বাস নেই’ জানিয়ে শিক্ষকরা প্রজ্ঞাপন জারির দাবিতে রাজপথে অবস্থান ধরে রাখেন।
দুপুর পৌনে ২টার দিকে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে শুরু করে। শিক্ষকরা সচিবালয় অভিমুখে পদযাত্রার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। এর পরই শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। আন্দোলনরত শিক্ষকদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে, মুহুর্মুহু সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে এবং জলকামান ব্যবহার করে। এতে শিক্ষকরা দিগ্বিদিক ছোটাছুটি শুরু করেন।
পুলিশের লাঠিচার্জে পিরোজপুর থেকে আসা শিক্ষক গণপতি হাওলাদার (৩২), কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীর মো. শফিকুল ইসলাম কাজল (৪০) এবং চাঁদপুরের আক্কাস আলী (৫৫) গুরুতর আহত হন। তাঁদের মাথা, পা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। সহকর্মীরা তাঁদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান।
ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, আহত তিন শিক্ষককে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁরা হাসপাতাল ছেড়েছেন।
দেশজুড়ে কর্মবিরতির ঘোষণা:
পুলিশি হামলার পর আন্দোলনরত শিক্ষকরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েন। শিক্ষকদের একটি অংশ প্রেস ক্লাবের সামনেই অবস্থান ধরে রাখলেও এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজীজির নেতৃত্বে আরেকটি বড় অংশ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে অবস্থান নেন।
সেখান থেকেই অধ্যক্ষ আজীজি শিক্ষকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে আজ থেকে সারা দেশে লাগাতার কর্মবিরতি পালনের ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ‘শিক্ষকদের ওপর এই ন্যক্কারজনক হামলা আমরা মেনে নেব না। দাবি আদায় এবং হামলার প্রতিবাদে দেশের সব এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কাল (আজ) থেকে বন্ধ থাকবে।’