যশোর প্রতিনিধি:
যশোর সদর উপজেলার বসুন্দিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় দুইজনকে আটক করেছে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেলে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
আটক ব্যক্তিরা হলেন বসুন্দিয়া গ্রামের মৃত জব্বার খানের ছেলে রুবেল খান এবং হামিদপুর গ্রামের জালাল উদ্দিনের ছেলে বাবুল আহমেদ। পুলিশ জানায়, রুবেল খানকে সোমবার রাতে বসুন্দিয়া এলাকা থেকে এবং বাবুল আহমেদকে মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে যশোর শহরের খড়কি এলাকা থেকে আটক করা হয়।
এর আগে এ ঘটনায় বসুন্দিয়া সদুল্লাপুর গ্রামের বাসিন্দা ও ঢাকা উত্তর ভাষানটেক ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর হোসেন বাদী হয়ে যশোর কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বিপুল, যশোর পৌরসভার সাবেক ৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাজী সুমনসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ৩৯ জন নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ৬ জুন রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে আলমগীর হোসেন নিজ বাড়িতে অবস্থানকালে খবর পান, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকর্মী জঙ্গলবাধাল মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অবস্থান করে নাশকতা ও সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা করছেন।
অভিযোগে বলা হয়, পরে তিনি স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে গেলে দেখেন, আসামিরা ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিতে দিতে পাশের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালাচ্ছেন। এ সময় তারা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, প্রয়াত মন্ত্রী তরিকুল ইসলাম এবং প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের ছবি ভাঙচুর করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
এছাড়া হামলাকারীরা প্রায় ২০ মিনিট ধরে কার্যালয়ে তাণ্ডব চালিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটায় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোফাজ্জেল হোসেন জানান, ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সন্দেহভাজন হিসেবে দুইজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের আদালতে পাঠানো হলে আদালত কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তবে এ ঘটনায় মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।













