০৬:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬

৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট পাস, আজ থেকে কার্যকর বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেট

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১০:৩৫:১৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
  • ৫১৪

জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট পাস হয়েছে। নতুন অর্থবছরের প্রথম দিন বুধবার (১ জুলাই) থেকে এই বাজেট কার্যকর হয়েছে। টানা তিন সপ্তাহের আলোচনা-সমালোচনা, বিরোধী দলের বিভিন্ন প্রস্তাব এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনীর পর মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে কণ্ঠভোটে বাজেটটি পাস হয়।

এটি বাংলাদেশের ৫৫তম জাতীয় বাজেট এবং চলতি বছরের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী বিএনপি সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট। গত ১১ জুন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। এরপর বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, স্বতন্ত্র এবং বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা বাজেটের বিভিন্ন দিক নিয়ে টানা তিন সপ্তাহ আলোচনা করেন। বিশেষ করে করনীতি, মূল্যস্ফীতি, রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং বিভিন্ন খাতে বরাদ্দ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা ও পরামর্শ উঠে আসে।

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী “মানবিক অর্থনীতি” গড়ে তোলার একটি সমন্বিত রূপরেখা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্যে তিন বছর মেয়াদি একটি রোডম্যাপ ঘোষণা করেন। এই পরিকল্পনার আওতায় অর্থনীতির পুনরুদ্ধার, স্থিতিশীলতা এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে ধাপে ধাপে বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে।

বাজেট পাসের আগে সমাপনী বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী জানান, সংসদ সদস্যদের বিভিন্ন মতামত ও সুপারিশ বিবেচনায় নিয়ে বাজেটে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে।

বাজেট পাসের আগে সোমবার জাতীয় সংসদে অর্থ বিল-২০২৬ পাস হয়। এতে মোট ৬৮টি সংশোধনী আনা হয়। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে ব্যক্তির করমুক্ত আয়সীমা ৪ লাখ টাকা নির্ধারণ।

এছাড়া ব্যাংক হিসাব খুলতে বাধ্যতামূলক টিআইএন (ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর) দাখিলের শর্ত থেকে সরে এসেছে সরকার। এর ফলে যাদের করযোগ্য আয় নেই, তারা অপ্রয়োজনীয় হয়রানি থেকে মুক্তি পাবেন।

সরকার আবাসন খাতে বহুল আলোচিত বিনা প্রশ্নে কালোটাকা সাদা করার সুযোগও বাতিল করেছে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র মুদি দোকানদারদের প্যাকেজ ভ্যাটের আওতায় আনার সিদ্ধান্ত থেকেও সরে এসেছে সরকার। তবে অপেক্ষাকৃত বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য প্যাকেজ ভ্যাট বহাল রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া ব্যবসায়ীদের জন্য বেশ কয়েকটি কর ও শুল্কে ছাড় দেওয়া হয়েছে এবং নতুন আরোপিত কিছু কর প্রত্যাহার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে বাজেট কণ্ঠভোটে পাস হয়। বাজেট অনুমোদনের আগে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ব্যয় নির্বাহের জন্য ৫৯টি মঞ্জুরি দাবি উত্থাপন করেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা, যা কণ্ঠভোটে অনুমোদিত হয়।

অন্যদিকে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা এসব মঞ্জুরি দাবির বিপরীতে মোট ১ হাজার ৩৪২টি ছাঁটাই প্রস্তাব উত্থাপন করলেও সবগুলো কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়। পরে নির্দিষ্টকরণ বিল-২০২৬ পাসের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের পাস হওয়া বাজেটের আকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যা আগের অর্থবছরের ৮ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার মূল বাজেটের তুলনায় ৪৮ হাজার কোটি টাকা বেশি।

এবারের বাজেটে মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর মাধ্যমে আদায়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা।

বাজেটে মোট ঘাটতি নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩ দশমিক ৬ শতাংশ।

সরকার আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

অর্থমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেছেন, বাজেটে বিভিন্ন খাতে কর ছাড় ও সংশোধনী আনা হলেও নির্ধারিত রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে। সরকারের দাবি, এই বাজেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে।

সর্বাধিক পঠিত

শার্শায় মাদ্রাসাছাত্রীকে কু-প্রস্তাব ও হুমকির অভিযোগ, সুপারের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ

৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট পাস, আজ থেকে কার্যকর বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেট

আপডেট: ১০:৩৫:১৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট পাস হয়েছে। নতুন অর্থবছরের প্রথম দিন বুধবার (১ জুলাই) থেকে এই বাজেট কার্যকর হয়েছে। টানা তিন সপ্তাহের আলোচনা-সমালোচনা, বিরোধী দলের বিভিন্ন প্রস্তাব এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনীর পর মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে কণ্ঠভোটে বাজেটটি পাস হয়।

এটি বাংলাদেশের ৫৫তম জাতীয় বাজেট এবং চলতি বছরের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী বিএনপি সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট। গত ১১ জুন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। এরপর বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, স্বতন্ত্র এবং বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা বাজেটের বিভিন্ন দিক নিয়ে টানা তিন সপ্তাহ আলোচনা করেন। বিশেষ করে করনীতি, মূল্যস্ফীতি, রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং বিভিন্ন খাতে বরাদ্দ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা ও পরামর্শ উঠে আসে।

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী “মানবিক অর্থনীতি” গড়ে তোলার একটি সমন্বিত রূপরেখা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্যে তিন বছর মেয়াদি একটি রোডম্যাপ ঘোষণা করেন। এই পরিকল্পনার আওতায় অর্থনীতির পুনরুদ্ধার, স্থিতিশীলতা এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে ধাপে ধাপে বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে।

বাজেট পাসের আগে সমাপনী বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী জানান, সংসদ সদস্যদের বিভিন্ন মতামত ও সুপারিশ বিবেচনায় নিয়ে বাজেটে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে।

বাজেট পাসের আগে সোমবার জাতীয় সংসদে অর্থ বিল-২০২৬ পাস হয়। এতে মোট ৬৮টি সংশোধনী আনা হয়। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে ব্যক্তির করমুক্ত আয়সীমা ৪ লাখ টাকা নির্ধারণ।

এছাড়া ব্যাংক হিসাব খুলতে বাধ্যতামূলক টিআইএন (ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর) দাখিলের শর্ত থেকে সরে এসেছে সরকার। এর ফলে যাদের করযোগ্য আয় নেই, তারা অপ্রয়োজনীয় হয়রানি থেকে মুক্তি পাবেন।

সরকার আবাসন খাতে বহুল আলোচিত বিনা প্রশ্নে কালোটাকা সাদা করার সুযোগও বাতিল করেছে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র মুদি দোকানদারদের প্যাকেজ ভ্যাটের আওতায় আনার সিদ্ধান্ত থেকেও সরে এসেছে সরকার। তবে অপেক্ষাকৃত বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য প্যাকেজ ভ্যাট বহাল রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া ব্যবসায়ীদের জন্য বেশ কয়েকটি কর ও শুল্কে ছাড় দেওয়া হয়েছে এবং নতুন আরোপিত কিছু কর প্রত্যাহার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে বাজেট কণ্ঠভোটে পাস হয়। বাজেট অনুমোদনের আগে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ব্যয় নির্বাহের জন্য ৫৯টি মঞ্জুরি দাবি উত্থাপন করেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা, যা কণ্ঠভোটে অনুমোদিত হয়।

অন্যদিকে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা এসব মঞ্জুরি দাবির বিপরীতে মোট ১ হাজার ৩৪২টি ছাঁটাই প্রস্তাব উত্থাপন করলেও সবগুলো কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়। পরে নির্দিষ্টকরণ বিল-২০২৬ পাসের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের পাস হওয়া বাজেটের আকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যা আগের অর্থবছরের ৮ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার মূল বাজেটের তুলনায় ৪৮ হাজার কোটি টাকা বেশি।

এবারের বাজেটে মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর মাধ্যমে আদায়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা।

বাজেটে মোট ঘাটতি নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩ দশমিক ৬ শতাংশ।

সরকার আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

অর্থমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেছেন, বাজেটে বিভিন্ন খাতে কর ছাড় ও সংশোধনী আনা হলেও নির্ধারিত রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে। সরকারের দাবি, এই বাজেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে।