০৬:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬

মসজিদ সংস্কারের বরাদ্দ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ: এমপি হাসনাত আবদুল্লাহকে ঘিরে বিতর্ক,

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১২:১৮:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
  • ৫১১

কুমিল্লার দেবিদ্বারে একটি মসজিদ সংস্কারের সরকারি বরাদ্দকে কেন্দ্র করে সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহকে ঘিরে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, নির্বাচনের আগে ব্যক্তিগত অর্থায়নে মসজিদ সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে সরকারি বরাদ্দের অর্থে কাজ করা হয়েছে। একই সঙ্গে কাজের মান ও ব্যয় নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী। তবে অভিযোগের বিষয়ে এখনো হাসনাত আবদুল্লাহর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অভিযোগ অনুযায়ী, কুমিল্লার দেবিদ্বার পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের মরিচাকান্দা পূর্বপাড়ার বাইতুলফালা জামে মসজিদ সংস্কারের জন্য নির্বাচনের আগে হাসনাত আবদুল্লাহ ব্যক্তিগত তহবিল থেকে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি দেন। নির্বাচিত হওয়ার পর দীর্ঘ সময় কাজ না হওয়ায় এলাকায় সমালোচনা শুরু হলে তার অনুসারীরা মসজিদের সংস্কারকাজ সম্পন্ন করেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সংস্কারকাজে সর্বোচ্চ সাড়ে তিন থেকে চার লাখ টাকা ব্যয় হলেও পরে জানা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ই-টেন্ডারের মাধ্যমে ওই মসজিদের জন্য ১১ লাখ ৮১ হাজার টাকা সরকারি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল।

মসজিদ কমিটির উপদেষ্টা সিরাজুল ইসলাম মিরণ বলেন, প্রথমে তাদের জানানো হয়েছিল যে কাজটি ব্যক্তিগত অর্থে করা হবে। পরে জেলা প্রশাসকের এক সভায় তারা জানতে পারেন, মসজিদের নামে ১১ লাখ ৮১ হাজার টাকার সরকারি বরাদ্দ অনুমোদন হয়েছে। বিষয়টি তাদের আগে জানানো হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, বরাদ্দের তুলনায় কাজের পরিমাণ ও মান নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে।

এলাকার আরও কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, সংস্কারকাজের মান সন্তোষজনক নয় এবং সরকারি বরাদ্দের পুরো অর্থ কাজে ব্যয় হয়েছে বলে তাদের মনে হয় না।

এ বিষয়ে ই-টেন্ডারের আবেদনকারী ইয়াহিয়া জানান, তিনি আবেদন করলেও প্রকল্পের মোট বরাদ্দের পরিমাণ সম্পর্কে তাকে অবহিত করা হয়নি। বরাদ্দের বিষয়ে জেলা পরিষদ ও কাজের দায়িত্বপ্রাপ্তদের কাছেই তথ্য রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রকল্পের কার্যাদেশ পাওয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মমতাজ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. ফরহাদুল মিজান বলেন, তিনি কাজটি নিজে না করে সাব-ঠিকাদার বিল্লাল হোসেনকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন। তার দাবি, জেলা পরিষদের প্রকৌশলীরা কাজ তদারকি করেছেন এবং অনিয়ম হওয়ার সুযোগ নেই।

অন্যদিকে বিল্লাল হোসেন জানান, তিনি নিজেও কাজটি আরেক ব্যক্তি রিয়াদের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করিয়েছেন। পরে বিভিন্ন নথির বরাত দিয়ে অভিযোগ করা হয়, বাস্তবে কাজটি বিল্লাল হোসেনের ছোট ভাই ইকবাল হোসেন সম্পন্ন করেছেন।

এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সরকারি বরাদ্দের অর্থ ব্যবহারে কোনো অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. গোলাম জাকারিয়া বলেন, অভিযোগটি তিনি জেনেছেন এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। তদন্তে কোনো অনিয়ম বা ব্যত্যয় পাওয়া গেলে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তবে প্রকাশিত এ অভিযোগের বিষয়ে সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর বক্তব্য এই প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে সংযুক্ত করা হবে।

সর্বাধিক পঠিত

শার্শায় মাদ্রাসাছাত্রীকে কু-প্রস্তাব ও হুমকির অভিযোগ, সুপারের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ

মসজিদ সংস্কারের বরাদ্দ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ: এমপি হাসনাত আবদুল্লাহকে ঘিরে বিতর্ক,

আপডেট: ১২:১৮:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

কুমিল্লার দেবিদ্বারে একটি মসজিদ সংস্কারের সরকারি বরাদ্দকে কেন্দ্র করে সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহকে ঘিরে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, নির্বাচনের আগে ব্যক্তিগত অর্থায়নে মসজিদ সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে সরকারি বরাদ্দের অর্থে কাজ করা হয়েছে। একই সঙ্গে কাজের মান ও ব্যয় নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী। তবে অভিযোগের বিষয়ে এখনো হাসনাত আবদুল্লাহর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অভিযোগ অনুযায়ী, কুমিল্লার দেবিদ্বার পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের মরিচাকান্দা পূর্বপাড়ার বাইতুলফালা জামে মসজিদ সংস্কারের জন্য নির্বাচনের আগে হাসনাত আবদুল্লাহ ব্যক্তিগত তহবিল থেকে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি দেন। নির্বাচিত হওয়ার পর দীর্ঘ সময় কাজ না হওয়ায় এলাকায় সমালোচনা শুরু হলে তার অনুসারীরা মসজিদের সংস্কারকাজ সম্পন্ন করেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সংস্কারকাজে সর্বোচ্চ সাড়ে তিন থেকে চার লাখ টাকা ব্যয় হলেও পরে জানা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ই-টেন্ডারের মাধ্যমে ওই মসজিদের জন্য ১১ লাখ ৮১ হাজার টাকা সরকারি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল।

মসজিদ কমিটির উপদেষ্টা সিরাজুল ইসলাম মিরণ বলেন, প্রথমে তাদের জানানো হয়েছিল যে কাজটি ব্যক্তিগত অর্থে করা হবে। পরে জেলা প্রশাসকের এক সভায় তারা জানতে পারেন, মসজিদের নামে ১১ লাখ ৮১ হাজার টাকার সরকারি বরাদ্দ অনুমোদন হয়েছে। বিষয়টি তাদের আগে জানানো হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, বরাদ্দের তুলনায় কাজের পরিমাণ ও মান নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে।

এলাকার আরও কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, সংস্কারকাজের মান সন্তোষজনক নয় এবং সরকারি বরাদ্দের পুরো অর্থ কাজে ব্যয় হয়েছে বলে তাদের মনে হয় না।

এ বিষয়ে ই-টেন্ডারের আবেদনকারী ইয়াহিয়া জানান, তিনি আবেদন করলেও প্রকল্পের মোট বরাদ্দের পরিমাণ সম্পর্কে তাকে অবহিত করা হয়নি। বরাদ্দের বিষয়ে জেলা পরিষদ ও কাজের দায়িত্বপ্রাপ্তদের কাছেই তথ্য রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রকল্পের কার্যাদেশ পাওয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মমতাজ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. ফরহাদুল মিজান বলেন, তিনি কাজটি নিজে না করে সাব-ঠিকাদার বিল্লাল হোসেনকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন। তার দাবি, জেলা পরিষদের প্রকৌশলীরা কাজ তদারকি করেছেন এবং অনিয়ম হওয়ার সুযোগ নেই।

অন্যদিকে বিল্লাল হোসেন জানান, তিনি নিজেও কাজটি আরেক ব্যক্তি রিয়াদের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করিয়েছেন। পরে বিভিন্ন নথির বরাত দিয়ে অভিযোগ করা হয়, বাস্তবে কাজটি বিল্লাল হোসেনের ছোট ভাই ইকবাল হোসেন সম্পন্ন করেছেন।

এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সরকারি বরাদ্দের অর্থ ব্যবহারে কোনো অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. গোলাম জাকারিয়া বলেন, অভিযোগটি তিনি জেনেছেন এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। তদন্তে কোনো অনিয়ম বা ব্যত্যয় পাওয়া গেলে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তবে প্রকাশিত এ অভিযোগের বিষয়ে সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর বক্তব্য এই প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে সংযুক্ত করা হবে।