০৪:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬

যশোরে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে সংঘর্ষ, ‘ডাকাত এসেছে’ মাইকিংয়ের অভিযোগ; আহত অন্তত ১০

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৩:৪৫:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
  • ৫১২

যশোর প্রতিনিধি:

যশোর সদর উপজেলার গোপালপুর গ্রামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় একটি পক্ষ মসজিদের মাইকে ‘ডাকাত এসেছে’ বলে ঘোষণা দিয়ে স্থানীয় লোকজনকে জড়ো করে নিহতের স্বজনদের ওপর হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনজনকে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নিহত গৃহবধূ রিমা (ছদ্মনাম নয়), যশোর সদর উপজেলার গোপালপুর গ্রামের টিপু সুলতানের স্ত্রী এবং ঝুমঝুমপুর বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের হোসেন মোল্লার মেয়ে।

আহতদের মধ্যে বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের আসলাম (৩৫), সোহেল রানা (৪২) ও আরও একজন যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের পুরুষ সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অন্য আহতরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই রিমার শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা এক লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে তাকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করছিল। বুধবার বিকেলে আরও ১০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। ওই টাকা দিতে না পারায় তাকে নির্যাতনের পর হত্যা করে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা হিসেবে ঘটনাটি প্রচারের চেষ্টা করা হয়েছে বলে দাবি পরিবারের।

খবর পেয়ে বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে রিমার চাচাতো ভাই আসলাম, সোহেল রানা ও অন্যান্য স্বজন গোপালপুরে তার শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে মরদেহ দেখতে চান। পরিবারের দাবি, সেখানে তারা রিমার শরীর ও কপালে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান। এ নিয়ে প্রতিবাদ জানালে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় ঘটনাটি মীমাংসার জন্য টিপু ও তার পরিবারের সদস্যরা চাপ প্রয়োগ করেন।

একপর্যায়ে টিপুর পক্ষের লোকজন মসজিদের মাইকে ‘ডাকাত এসেছে’ বলে ঘোষণা দেন বলে অভিযোগ করেছেন নিহতের স্বজনরা। ওই ঘোষণার পর স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে এসে রিমার স্বজনদের ওপর হামলা চালালে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হন।

খবর পেয়ে যশোর কোতোয়ালি থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) কাজী বাবুল এবং ইন্সপেক্টর (অপারেশন) মমিনুল হকের নেতৃত্বে পুলিশের একাধিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

বর্তমানে রিমার মরদেহ যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। নিহতের পরিবারের সদস্যরা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে কোতোয়ালি থানায় অবস্থান করছেন।

অন্যদিকে, টিপু সুলতানের পরিবারের দাবি, পারিবারিক কলহের জেরে রিমা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তাকে হত্যা করা হয়নি।

এ বিষয়ে যশোর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুম খান বলেন, “ঘটনাটি নিয়ে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। দুই পক্ষের বক্তব্য নেওয়া হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ভিত্তিতেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নির্ধারণ করা হবে।”

পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতেই রিমার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে এবং সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সর্বাধিক পঠিত

বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও গভীর করতে সম্মত চীন: রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন

যশোরে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে সংঘর্ষ, ‘ডাকাত এসেছে’ মাইকিংয়ের অভিযোগ; আহত অন্তত ১০

আপডেট: ০৩:৪৫:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

যশোর প্রতিনিধি:

যশোর সদর উপজেলার গোপালপুর গ্রামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় একটি পক্ষ মসজিদের মাইকে ‘ডাকাত এসেছে’ বলে ঘোষণা দিয়ে স্থানীয় লোকজনকে জড়ো করে নিহতের স্বজনদের ওপর হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনজনকে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নিহত গৃহবধূ রিমা (ছদ্মনাম নয়), যশোর সদর উপজেলার গোপালপুর গ্রামের টিপু সুলতানের স্ত্রী এবং ঝুমঝুমপুর বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের হোসেন মোল্লার মেয়ে।

আহতদের মধ্যে বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের আসলাম (৩৫), সোহেল রানা (৪২) ও আরও একজন যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের পুরুষ সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অন্য আহতরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই রিমার শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা এক লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে তাকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করছিল। বুধবার বিকেলে আরও ১০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। ওই টাকা দিতে না পারায় তাকে নির্যাতনের পর হত্যা করে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা হিসেবে ঘটনাটি প্রচারের চেষ্টা করা হয়েছে বলে দাবি পরিবারের।

খবর পেয়ে বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে রিমার চাচাতো ভাই আসলাম, সোহেল রানা ও অন্যান্য স্বজন গোপালপুরে তার শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে মরদেহ দেখতে চান। পরিবারের দাবি, সেখানে তারা রিমার শরীর ও কপালে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান। এ নিয়ে প্রতিবাদ জানালে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় ঘটনাটি মীমাংসার জন্য টিপু ও তার পরিবারের সদস্যরা চাপ প্রয়োগ করেন।

একপর্যায়ে টিপুর পক্ষের লোকজন মসজিদের মাইকে ‘ডাকাত এসেছে’ বলে ঘোষণা দেন বলে অভিযোগ করেছেন নিহতের স্বজনরা। ওই ঘোষণার পর স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে এসে রিমার স্বজনদের ওপর হামলা চালালে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হন।

খবর পেয়ে যশোর কোতোয়ালি থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) কাজী বাবুল এবং ইন্সপেক্টর (অপারেশন) মমিনুল হকের নেতৃত্বে পুলিশের একাধিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

বর্তমানে রিমার মরদেহ যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। নিহতের পরিবারের সদস্যরা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে কোতোয়ালি থানায় অবস্থান করছেন।

অন্যদিকে, টিপু সুলতানের পরিবারের দাবি, পারিবারিক কলহের জেরে রিমা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তাকে হত্যা করা হয়নি।

এ বিষয়ে যশোর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুম খান বলেন, “ঘটনাটি নিয়ে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। দুই পক্ষের বক্তব্য নেওয়া হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ভিত্তিতেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নির্ধারণ করা হবে।”

পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতেই রিমার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে এবং সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।