২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) থেকে সারাদেশে শুরু হয়েছে। দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা গ্রহণের পাশাপাশি একই দিনে শুরু হয়েছে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের আলিম এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি (বিএমটি) সমমানের পরীক্ষাও।
এবার দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৬ শতাংশ পরীক্ষার্থী এবার পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন না, যা শিক্ষা খাতে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে এবার প্রতিটি পরীক্ষাকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে গঠন করা হয়েছে একটি কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল, যেখান থেকে দেশের যেকোনো পরীক্ষাকেন্দ্রের কার্যক্রম সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা হবে।
এ ছাড়া পরীক্ষাকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে থাকবে বডি–ওর্ন ক্যামেরা, যাতে নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা আরও জোরদার করা যায়।
প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষার্থীদের অবশ্যই পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে। সকাল সাড়ে ৮টা থেকে কেন্দ্রের প্রবেশপথ খুলে দেওয়া হবে। বিশেষ পরিস্থিতিতে দেরিতে আসা পরীক্ষার্থীদের তথ্য রেজিস্টারে সংরক্ষণ করে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হবে।
প্রথম দিনে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষা। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে আলিমের কোরআন মাজিদ এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসি (বিএমটি)-এর বাংলা-২ বিষয়ের পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে।
এ বছর সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী রয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে। এ বোর্ডে ৩ লাখ ৩৯৩ জন শিক্ষার্থী ৩১০টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন।
অন্য বোর্ডগুলোর পরীক্ষার্থীর সংখ্যা হলো—রাজশাহী বোর্ড: ১ লাখ ৪০ হাজার ৮৩০ জনযশোর বোর্ড: ১ লাখ ১৭ হাজার ২১০ জনদিনাজপুর বোর্ড: ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৭৯ জনচট্টগ্রাম বোর্ড: ৯৯ হাজার ৬৮৮ জনকুমিল্লা বোর্ড: ৯৪ হাজার ৮০২ জনময়মনসিংহ বোর্ড: ৭৩ হাজার ৩৭ জনসিলেট বোর্ড: ৭১ হাজার ৭১১ জনবরিশাল বোর্ড: ৫৮ হাজার ৬৬৪ জন
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা বোর্ডগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে এসএসসি ও সমমান পাস করে প্রায় ১৫ লাখ শিক্ষার্থী একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছিল। কিন্তু এবার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণ করেছেন মাত্র প্রায় সাড়ে ৯ লাখ নিয়মিত শিক্ষার্থী।
অর্থাৎ প্রায় সাড়ে ৫ লাখ শিক্ষার্থী, যা মোট নিয়মিত শিক্ষার্থীর ৩৬ শতাংশ, পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন না। গত বছর এ হার ছিল ২৯ শতাংশের কিছু বেশি। ফলে এক বছরের ব্যবধানে ঝরে পড়ার হার প্রায় ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
সবচেয়ে বেশি ঝরে পড়ার হার দেখা গেছে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে। এ বোর্ডে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের ৫৪ শতাংশেরও বেশি পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণ করেননি, যা সংশ্লিষ্টদের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়।
এ ছাড়া চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষাতেও দেখা গেছে, দুই বছর আগে নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে নিবন্ধন করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ২৩ শতাংশের বেশি পরীক্ষায় অংশ নেয়নি।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের একটি সূত্র জানিয়েছে, নিবন্ধনের পর দুই বছরের মধ্যে অনেক শিক্ষার্থী ধীরে ধীরে পড়াশোনা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ফলে নির্দিষ্ট কারণ তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
তবে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, দারিদ্র্য, বাল্যবিবাহ, পারিবারিক সংকট এবং এসএসসি পাসের পর কর্মসংস্থানে যুক্ত হয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার অন্যতম প্রধান কারণ।
গত ১ জুলাই সচিবালয়ে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পরীক্ষায় অংশ না নেওয়া শিক্ষার্থীদের বিষয়ে সরকার গুরুত্বসহকারে কাজ করছে।
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, “এই দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করা হচ্ছে। প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে আগামী দিনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে ঝরে পড়ার হার কমিয়ে আনা যায়।”



















