০৫:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬

কাটোয়ায় মহাত্মা গান্ধীর মূর্তিতে কালো কাপড় বাঁধার ঘটনা, তীব্র রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৩:৫৪:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
  • ৫১১

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব বর্ধমান জেলার কাটোয়া শহরে মহাত্মা গান্ধীর একটি মূর্তির মুখ ও হাতে কালো কাপড় বাঁধা অবস্থায় পাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার (১ জুলাই) সকালে কাটোয়ার স্টেশন বাজার এলাকায় ঘটনাটি প্রকাশ্যে এলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

খবর পেয়ে স্থানীয় থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মূর্তিতে বাঁধা কালো কাপড় সরিয়ে ফেলে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

স্থানীয় প্রশাসন জানায়, ১৯৯৬ সালে তৎকালীন কংগ্রেস পরিচালিত কাটোয়া পৌরসভার উদ্যোগে স্টেশন বাজার চত্বরে মহাত্মা গান্ধীর মূর্তিটি স্থাপন করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে এটি শহরের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্মারক ও ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে পরিচিত।

কাটোয়ার মহকুমা শাসক রীনা ঘোষ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা গেছে, মঙ্গলবার গভীর রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে এক গৃহহীন ব্যক্তি মূর্তির মুখ ও হাতে কালো কাপড় বেঁধে দেন।

তিনি আরও জানান, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

এদিকে ঘটনাটির ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। নেটিজেনদের অনেকেই ঘটনাটিকে জাতির জনকের স্মৃতির প্রতি অসম্মানজনক ও নিন্দনীয় উল্লেখ করে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। কাটোয়ার সাবেক বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় এ ঘটনাকে ‘দেশবিরোধী কর্মকাণ্ড’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

অন্যদিকে, বিজেপির পূর্ব বর্ধমান জেলা কমিটির সহ-সভাপতি অনিল দত্তও ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, এটি অত্যন্ত জঘন্য ও নিন্দনীয় কাজ। তিনি দোষী ব্যক্তিকে দ্রুত শনাক্ত করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশের প্রতি আহ্বান জানান।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সব দিক গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হলে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বাধিক পঠিত

এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৩৫৭ টাকা কমলো, ১২ কেজির নতুন মূল্য ১ হাজার ৫২৮ টাকা

কাটোয়ায় মহাত্মা গান্ধীর মূর্তিতে কালো কাপড় বাঁধার ঘটনা, তীব্র রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

আপডেট: ০৩:৫৪:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব বর্ধমান জেলার কাটোয়া শহরে মহাত্মা গান্ধীর একটি মূর্তির মুখ ও হাতে কালো কাপড় বাঁধা অবস্থায় পাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার (১ জুলাই) সকালে কাটোয়ার স্টেশন বাজার এলাকায় ঘটনাটি প্রকাশ্যে এলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

খবর পেয়ে স্থানীয় থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মূর্তিতে বাঁধা কালো কাপড় সরিয়ে ফেলে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

স্থানীয় প্রশাসন জানায়, ১৯৯৬ সালে তৎকালীন কংগ্রেস পরিচালিত কাটোয়া পৌরসভার উদ্যোগে স্টেশন বাজার চত্বরে মহাত্মা গান্ধীর মূর্তিটি স্থাপন করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে এটি শহরের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্মারক ও ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে পরিচিত।

কাটোয়ার মহকুমা শাসক রীনা ঘোষ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা গেছে, মঙ্গলবার গভীর রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে এক গৃহহীন ব্যক্তি মূর্তির মুখ ও হাতে কালো কাপড় বেঁধে দেন।

তিনি আরও জানান, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

এদিকে ঘটনাটির ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। নেটিজেনদের অনেকেই ঘটনাটিকে জাতির জনকের স্মৃতির প্রতি অসম্মানজনক ও নিন্দনীয় উল্লেখ করে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। কাটোয়ার সাবেক বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় এ ঘটনাকে ‘দেশবিরোধী কর্মকাণ্ড’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

অন্যদিকে, বিজেপির পূর্ব বর্ধমান জেলা কমিটির সহ-সভাপতি অনিল দত্তও ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, এটি অত্যন্ত জঘন্য ও নিন্দনীয় কাজ। তিনি দোষী ব্যক্তিকে দ্রুত শনাক্ত করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশের প্রতি আহ্বান জানান।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সব দিক গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হলে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।