আদালতে মামলা দায়েরের আগে আপসযোগ্য বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে যশোরে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলাপূর্ব বাধ্যতামূলক মেডিয়েশন কার্যক্রম চালু হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের আরও নয়টি জেলায় এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) জেলা লিগ্যাল এইড অফিস, যশোর আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথি হিসেবে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন ঘোষণা করেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এমপি। যশোরের পাশাপাশি বগুড়া, ঠাকুরগাঁও, পটুয়াখালী, ভোলা, নাটোর, শরীয়তপুর, কক্সবাজার, পঞ্চগড় ও টাঙ্গাইল জেলায়ও একই দিনে কার্যক্রমটি চালু করা হয়।
যশোরে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যশোরের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ এবং জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান বেগম মাহমুদা খাতুন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী বলেন, “আজকের দিনটি দেশের বিচারব্যবস্থার জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন।” মামলাপূর্ব বাধ্যতামূলক মেডিয়েশন কার্যক্রম চালুর মাধ্যমে মামলার জট উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। অযথা ও হয়রানিমূলক মামলা করার প্রবণতা হ্রাস পাবে। আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি হলে সাধারণ মানুষের সময়, অর্থ ও ভোগান্তি অনেকটাই কমে আসবে।
তিনি বলেন, সরকার জনগণের কল্যাণে কাজ করছে। আগামী এক বছরের মধ্যে মামলার জট অর্ধেকে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। এ কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনার জন্য আগামী তিন মাস পর আবারও সভা অনুষ্ঠিত হবে।
সভাপতির বক্তব্যে যশোরের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ বেগম মাহমুদা খাতুন বলেন, মামলাপূর্ব বাধ্যতামূলক মেডিয়েশনের মাধ্যমে আদালতে মামলা দায়েরের আগেই আপসযোগ্য বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ সৃষ্টি হবে। এতে আদালতের ওপর মামলার চাপ কমবে, বিচারপ্রার্থীদের সময় ও অর্থ সাশ্রয় হবে এবং সাধারণ মানুষ দ্রুত ও সহজে ন্যায়বিচার পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
আলোচকরা জানান, নতুন ব্যবস্থায় নির্ধারিত সাত ধরনের বিরোধ বা অভিযোগের ক্ষেত্রে আদালতে মামলা করার আগে সংশ্লিষ্ট জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে বাধ্যতামূলকভাবে মেডিয়েশনের উদ্যোগ নিতে হবে। এর আওতায় পারিবারিক আদালত আইন, বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন, দেওয়ানি আদালতের নির্দিষ্ট বিরোধ, ভূমিসংক্রান্ত কয়েকটি আইন, পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন এবং যৌতুক নিরোধ আইনের অধীন বিরোধ বা অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বক্তারা বলেন, এ কার্যক্রমের মাধ্যমে বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তির পাশাপাশি আদালতের মামলার চাপ কমবে। সাধারণ মানুষ কম সময় ও কম খরচে ন্যায়বিচার পাওয়ার সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় মামলা করে হয়রানির প্রবণতাও কমে আসবে।
অনুষ্ঠানে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক ড. আতোয়ার রহমান, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাহেদ আহমদ, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কমলেশ মজুমদার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাজিবুল ইসলাম, স্পেশাল মিডিয়েটর ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজ গাজী রহমান, জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার নিশাত সুলতানাসহ জজশিপ ও ম্যাজিস্ট্রেসির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া অনুষ্ঠানে জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এম. এ. গফুর, সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট দেবাশীষ দাস, লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্টের আইনজীবী মোস্তাফা হুমায়ুন কবিরসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।




















