যশোরের চৌগাছায় মডেল মসজিদ নির্মাণের জন্য নির্ধারিত জায়গায় থাকা দোকানপাট উচ্ছেদে হাইকোর্টের দেওয়া নিষেধাজ্ঞা অমান্যের অভিযোগ উঠেছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তিন মাসের ‘স্ট্যাটাস-কো’ বহাল থাকার কথা থাকলেও মঙ্গলবার চৌগাছা কাঁচাবাজারের ১০ থেকে ১২টি দোকান ভাঙচুর ও উচ্ছেদ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ীরা। এ ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
আদালতের নথি সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ গত ৯ আগস্ট এ বিষয়ে আদেশ দেন। মামলাটি রিট পিটিশন নম্বর ১০৬৪৩/২০২৬।
মামলার নথি অনুযায়ী, ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম ২০০৮ সাল থেকে চৌগাছা শাহাদাত পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সঙ্গে ভাড়া চুক্তির ভিত্তিতে একটি দোকানে ব্যবসা করে আসছেন। তিনি নিয়মিত ভাড়াও পরিশোধ করে আসছেন। মডেল মসজিদ নির্মাণের জন্য জায়গাটি প্রয়োজন হওয়ায় গত ২৪ মে তাকে দোকান উচ্ছেদের নোটিশ দেওয়া হয়।
পরে বিষয়টি নিয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন শফিকুল ইসলাম। শুনানি শেষে আদালত দোকানটি তাৎক্ষণিকভাবে উচ্ছেদ না করে তিন মাসের জন্য ‘স্ট্যাটাস-কো’ বজায় রাখার নির্দেশ দেন। এ সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দোকানটি উচ্ছেদ না করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়।
ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ‘হাইকোর্ট তিন মাসের জন্য স্ট্যাটাস-কো দিয়েছেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী এখনও সময় শেষ হয়নি। কিন্তু মঙ্গলবার আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে আমার দোকানসহ কাঁচাবাজারের প্রায় ১০ থেকে ১২টি দোকান ভাঙচুর ও উচ্ছেদ করা হয়েছে।’
এ বিষয়ে মডেল মসজিদ নির্মাণ কমিটির সদস্য ও চৌগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুশাব্বির হোসাইন বলেন, ‘নির্ধারিত জায়গা থেকে দোকানপাট সরিয়ে নিতে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। ওই নোটিশ অনুযায়ী মসজিদ নির্মাণের জায়গায় থাকা দোকানপাট উচ্ছেদ করা হয়েছে।’
তবে হাইকোর্টের দেওয়া ‘স্ট্যাটাস-কো’ আদেশের মেয়াদ থাকা অবস্থায় দোকান উচ্ছেদের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন করে প্রশ্ন ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।




















