১২:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আর্জেন্টিনার জার্সিকে বিদায় বলছেন মেসি,

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১১:১৯:৫০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫০৭

আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের জার্সিতে আর দেখা যাবে না লিওনেল মেসিকে। দুই দশকের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আর্জেন্টাইন ফুটবলের এই মহাতারকা। বিশ্বকাপ জয়ের পর থেকেই আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে সরে দাঁড়ানোর বিষয়টি নিয়ে ভাবছিলেন তিনি। তবে বাবার মৃত্যুর পর সেই সিদ্ধান্ত আরও দৃঢ় হয়েছে বলে জানিয়েছেন মেসি।

জীবনের সবচেয়ে কঠিন ব্যক্তিগত অধ্যায়ের মধ্য দিয়েও যেতে হচ্ছে আর্জেন্টাইন অধিনায়ককে। গত ৮ আগস্ট আর্জেন্টিনার রোজারিও শহরের একটি হাসপাতালে মারা যান তার বাবা হোর্হে মেসি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর।

ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত এক লেখায় মেসি জাতীয় দলের সঙ্গে নিজের দীর্ঘ পথচলা, অর্জন এবং ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্তের কথা জানান। লেখার শেষে তিনি একটি বিশেষ নোটও যোগ করেন। সেখানে জানান, ফাইনালের দুই দিন পর ২১ জুলাই তিনি কথাগুলো লিখেছিলেন। পরবর্তী সময়ে বাবার সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার পর নিজের সিদ্ধান্তের বিষয়ে তিনি আরও নিশ্চিত হয়েছেন।

মেসির বক্তব্যে স্পষ্ট, আন্তর্জাতিক ফুটবল ছাড়ার সিদ্ধান্তটি হঠাৎ নেওয়া কোনো সিদ্ধান্ত নয়। বিশ্বকাপের পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে ভাবছিলেন তিনি। বাবার মৃত্যুর পর মানসিকভাবে সেই সিদ্ধান্ত আরও দৃঢ় হয়েছে।

আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের জার্সির সঙ্গে নিজের গভীর সম্পর্কের কথা তুলে ধরে মেসি বলেন, জাতীয় দলের অংশ হতে তিনি ভালোবাসেন এবং সবসময় ভালোবাসবেন। দেশের হয়ে নিজের সবটুকু উজাড় করে দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

মেসি বলেন, ‘আমি আমার সবকিছু দিয়ে দিয়েছি। আমার আর কিছু দেওয়ার নেই।’

জাতীয় দলে নতুন প্রজন্মের ফুটবলারদের সুযোগ দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি। তার মতে, দারুণ কিছু তরুণ খেলোয়াড় উঠে আসছে, যারা এখন জাতীয় দলের অংশ হওয়ার যোগ্য।

দুই দশকের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে আর্জেন্টিনার সমর্থকদের কাছ থেকে পাওয়া ভালোবাসার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন মেসি।

তিনি বলেন, গত ২০ বছরের সমর্থকদের ভালোবাসা তিনি কখনো ভুলবেন না। মাঠে দাঁড়িয়ে গ্যালারি থেকে সমর্থকদের কণ্ঠ শোনা তিনি মিস করবেন বলেও জানান।

তবে জাতীয় দল থেকে সরে গেলেও আর্জেন্টিনার সঙ্গে তার সম্পর্ক শেষ হচ্ছে না। বরং একজন সমর্থক হিসেবে বাইরে থেকে দলটির পাশে থাকার কথা জানিয়েছেন তিনি।

বিশেষ করে দলের খারাপ সময়েও সমর্থন দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি।

আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার যেন রূপকথার গল্প। দীর্ঘ হতাশা ও ব্যর্থতার পর শেষ পর্যন্ত দেশকে এনে দিয়েছেন ফুটবলের সবচেয়ে বড় সাফল্যগুলো।

২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে মেসির নেতৃত্বে ৩৬ বছর পর বিশ্বকাপের শিরোপা জেতে আর্জেন্টিনা। এটি ছিল দেশটির ইতিহাসে তৃতীয় বিশ্বকাপ জয়।

এর আগে ২৮ বছরের শিরোপা-খরা কাটিয়ে ২০২১ সালে কোপা আমেরিকার শিরোপা জিতেছিল আর্জেন্টিনা। মেসির নেতৃত্বে ২০২৪ সালেও কোপা আমেরিকার শিরোপা ধরে রাখে দলটি।

ফলে জাতীয় দলের হয়ে ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়ে এসে মেসির হাতে উঠে এসেছে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত ট্রফি।

তবে মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার সবসময় এতটা সাফল্যময় ছিল না। দীর্ঘ সময় ধরে জাতীয় দলের হয়ে বড় কোনো শিরোপা না জেতায় তাকে নানা সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়েছে।

২০১৬ সালে টানা তিনটি ফাইনালে পরাজয়ের পর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু পরে সেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে আবার আর্জেন্টিনার জার্সিতে ফিরে আসেন।

ফিরে এসে বদলে দেন আর্জেন্টিনার ফুটবলের ইতিহাস। একে একে কোপা আমেরিকা ও বিশ্বকাপ জয়ের পর পূর্ণতা পায় তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার।

আর্জেন্টিনার হয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা এবং সবচেয়ে বেশি গোল করা খেলোয়াড় লিওনেল মেসি। জাতীয় দলের হয়ে ২০৩ ম্যাচে তার গোলসংখ্যা ১২৪টি।

দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল ইতিহাসেও পুরুষদের মধ্যে সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক গোলদাতা তিনি।

দুই দশকের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে মেসি শুধু ব্যক্তিগত রেকর্ডই গড়েননি; আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্যগুলোরও নেতৃত্ব দিয়েছেন।

একসময় যে জাতীয় দলের জার্সি তার জন্য হয়ে উঠেছিল অপূর্ণতার প্রতীক, শেষ পর্যন্ত সেই জার্সিতেই বিশ্বকাপ হাতে তুলে নিয়ে নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারকে দিয়েছেন পূর্ণতা।

আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির বিদায় তাই কেবল একজন ফুটবলারের অবসর নয়—এটি একটি যুগের সমাপ্তি।

সর্বাধিক পঠিত

শার্শায় বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচির শুভ সূচনা

আর্জেন্টিনার জার্সিকে বিদায় বলছেন মেসি,

আপডেট: ১১:১৯:৫০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের জার্সিতে আর দেখা যাবে না লিওনেল মেসিকে। দুই দশকের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আর্জেন্টাইন ফুটবলের এই মহাতারকা। বিশ্বকাপ জয়ের পর থেকেই আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে সরে দাঁড়ানোর বিষয়টি নিয়ে ভাবছিলেন তিনি। তবে বাবার মৃত্যুর পর সেই সিদ্ধান্ত আরও দৃঢ় হয়েছে বলে জানিয়েছেন মেসি।

জীবনের সবচেয়ে কঠিন ব্যক্তিগত অধ্যায়ের মধ্য দিয়েও যেতে হচ্ছে আর্জেন্টাইন অধিনায়ককে। গত ৮ আগস্ট আর্জেন্টিনার রোজারিও শহরের একটি হাসপাতালে মারা যান তার বাবা হোর্হে মেসি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর।

ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত এক লেখায় মেসি জাতীয় দলের সঙ্গে নিজের দীর্ঘ পথচলা, অর্জন এবং ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্তের কথা জানান। লেখার শেষে তিনি একটি বিশেষ নোটও যোগ করেন। সেখানে জানান, ফাইনালের দুই দিন পর ২১ জুলাই তিনি কথাগুলো লিখেছিলেন। পরবর্তী সময়ে বাবার সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার পর নিজের সিদ্ধান্তের বিষয়ে তিনি আরও নিশ্চিত হয়েছেন।

মেসির বক্তব্যে স্পষ্ট, আন্তর্জাতিক ফুটবল ছাড়ার সিদ্ধান্তটি হঠাৎ নেওয়া কোনো সিদ্ধান্ত নয়। বিশ্বকাপের পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে ভাবছিলেন তিনি। বাবার মৃত্যুর পর মানসিকভাবে সেই সিদ্ধান্ত আরও দৃঢ় হয়েছে।

আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের জার্সির সঙ্গে নিজের গভীর সম্পর্কের কথা তুলে ধরে মেসি বলেন, জাতীয় দলের অংশ হতে তিনি ভালোবাসেন এবং সবসময় ভালোবাসবেন। দেশের হয়ে নিজের সবটুকু উজাড় করে দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

মেসি বলেন, ‘আমি আমার সবকিছু দিয়ে দিয়েছি। আমার আর কিছু দেওয়ার নেই।’

জাতীয় দলে নতুন প্রজন্মের ফুটবলারদের সুযোগ দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি। তার মতে, দারুণ কিছু তরুণ খেলোয়াড় উঠে আসছে, যারা এখন জাতীয় দলের অংশ হওয়ার যোগ্য।

দুই দশকের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে আর্জেন্টিনার সমর্থকদের কাছ থেকে পাওয়া ভালোবাসার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন মেসি।

তিনি বলেন, গত ২০ বছরের সমর্থকদের ভালোবাসা তিনি কখনো ভুলবেন না। মাঠে দাঁড়িয়ে গ্যালারি থেকে সমর্থকদের কণ্ঠ শোনা তিনি মিস করবেন বলেও জানান।

তবে জাতীয় দল থেকে সরে গেলেও আর্জেন্টিনার সঙ্গে তার সম্পর্ক শেষ হচ্ছে না। বরং একজন সমর্থক হিসেবে বাইরে থেকে দলটির পাশে থাকার কথা জানিয়েছেন তিনি।

বিশেষ করে দলের খারাপ সময়েও সমর্থন দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি।

আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার যেন রূপকথার গল্প। দীর্ঘ হতাশা ও ব্যর্থতার পর শেষ পর্যন্ত দেশকে এনে দিয়েছেন ফুটবলের সবচেয়ে বড় সাফল্যগুলো।

২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে মেসির নেতৃত্বে ৩৬ বছর পর বিশ্বকাপের শিরোপা জেতে আর্জেন্টিনা। এটি ছিল দেশটির ইতিহাসে তৃতীয় বিশ্বকাপ জয়।

এর আগে ২৮ বছরের শিরোপা-খরা কাটিয়ে ২০২১ সালে কোপা আমেরিকার শিরোপা জিতেছিল আর্জেন্টিনা। মেসির নেতৃত্বে ২০২৪ সালেও কোপা আমেরিকার শিরোপা ধরে রাখে দলটি।

ফলে জাতীয় দলের হয়ে ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়ে এসে মেসির হাতে উঠে এসেছে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত ট্রফি।

তবে মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার সবসময় এতটা সাফল্যময় ছিল না। দীর্ঘ সময় ধরে জাতীয় দলের হয়ে বড় কোনো শিরোপা না জেতায় তাকে নানা সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়েছে।

২০১৬ সালে টানা তিনটি ফাইনালে পরাজয়ের পর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু পরে সেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে আবার আর্জেন্টিনার জার্সিতে ফিরে আসেন।

ফিরে এসে বদলে দেন আর্জেন্টিনার ফুটবলের ইতিহাস। একে একে কোপা আমেরিকা ও বিশ্বকাপ জয়ের পর পূর্ণতা পায় তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার।

আর্জেন্টিনার হয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা এবং সবচেয়ে বেশি গোল করা খেলোয়াড় লিওনেল মেসি। জাতীয় দলের হয়ে ২০৩ ম্যাচে তার গোলসংখ্যা ১২৪টি।

দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল ইতিহাসেও পুরুষদের মধ্যে সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক গোলদাতা তিনি।

দুই দশকের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে মেসি শুধু ব্যক্তিগত রেকর্ডই গড়েননি; আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্যগুলোরও নেতৃত্ব দিয়েছেন।

একসময় যে জাতীয় দলের জার্সি তার জন্য হয়ে উঠেছিল অপূর্ণতার প্রতীক, শেষ পর্যন্ত সেই জার্সিতেই বিশ্বকাপ হাতে তুলে নিয়ে নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারকে দিয়েছেন পূর্ণতা।

আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির বিদায় তাই কেবল একজন ফুটবলারের অবসর নয়—এটি একটি যুগের সমাপ্তি।