ভারতের উত্তরপ্রদেশের কোশাম্বী জেলায় একটি আতশবাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও অন্তত ১৮ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে কোশাম্বী জেলার পিসরি থানা এলাকার মনোরি গ্রামের একটি আতশবাজি কারখানায় এ বিস্ফোরণ ঘটে। স্থানীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস, এনডিটিভি ও গালফ নিউজ।
কোশাম্বীর জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (ডিএম) অমিত পাল জানান, মনোরি পাওয়ার হাউসের কাছে অবস্থিত ওই আতশবাজি কারখানায় হঠাৎ বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের পর কারখানাটিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ, দমকল বাহিনী ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান শুরু করে।
বিস্ফোরণে আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে প্রয়াগরাজের এসআরএন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১১ জনের মৃত্যু হয়। হাসপাতালে আরও পাঁচজন গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে পুরো আতশবাজি কারখানাটি ধসে পড়ে। আশপাশের বেশ কয়েকটি স্থাপনাও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কারখানার পাশে থাকা অন্তত পাঁচ থেকে ছয়টি বাড়ি বিস্ফোরণের ধাক্কায় পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নিহতদের সবাই কারখানার সংলগ্ন এলাকায় বসবাস করতেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কেউ আটকা পড়ে আছেন কি না, তা খতিয়ে দেখতে উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে। ফলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিস্ফোরণের পর নিরাপত্তার স্বার্থে দুর্ঘটনাস্থলের কাছ দিয়ে যাওয়া দিল্লি-হাওড়া রেলপথে প্রায় এক ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়। এতে ওই রুটে চলাচলকারী কয়েকটি ট্রেনের যাত্রায় বিঘ্ন ঘটে।
আজমির-শিয়ালদহ এক্সপ্রেস দুর্ঘটনাস্থলের কাছাকাছি পৌঁছে গেলেও নিরাপত্তাজনিত কারণে ট্রেনটিকে ঘুরিয়ে মনোরি রেলওয়ে স্টেশনে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। অন্যদিকে দিল্লি থেকে বারাণসীগামী বন্দে ভারত এক্সপ্রেসকে দুর্ঘটনাস্থলের আগের স্টেশন সাইয়াদ সারওয়ানে থামিয়ে রাখা হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর রেল চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।
বিস্ফোরণের সঠিক কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। আতশবাজি কারখানাটিতে কীভাবে বিস্ফোরণ ঘটল এবং সেখানে নিরাপত্তাবিধি যথাযথভাবে মানা হয়েছিল কি না—তা খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এদিকে ভয়াবহ এ দুর্ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। উদ্ধারকাজ অব্যাহত রয়েছে এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।












