১০:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

শিক্ষাকে চাকরির যন্ত্র বানাবেন না, মানুষ গড়ার হাতিয়ার করুন’: ড. মুহাম্মদ ইউনূস

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০২:৫০:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫১৬

শিক্ষাকে কেবল কর্মসংস্থানের মাধ্যম হিসেবে না দেখে, একে সৃজনশীল ও উদ্যোক্তা মানসিকতাসম্পন্ন মানুষ গড়ার প্রধান হাতিয়ার হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি জোর দিয়ে বলেন, শিক্ষার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত মানুষের সুপ্ত কল্পনাশক্তিকে জাগ্রত করা এবং স্বাধীনভাবে চিন্তা করার সামর্থ্য তৈরি করা।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাজধানীর লা মেরিডিয়ান হোটেলে আয়োজিত ‘উচ্চশিক্ষার বর্তমান অবস্থা এবং ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা–২০২৬’ শীর্ষক দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
দক্ষ শ্রমিক বনাম সৃজনশীল মানুষ
প্রধান উপদেষ্টা তাঁর বক্তব্যে বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, “শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যদি কেবল দক্ষ শ্রমিক তৈরির কারখানায় পরিণত হয়, তবে তা শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুত হবে।” তাঁর মতে, শিক্ষার্থীদের এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে যেন তারা স্নাতক শেষ করে কেবল চাকরির পেছনে না ছোটে, বরং নিজেরাই কর্মসংস্থান তৈরির সক্ষমতা অর্জন করে। তিনি বলেন, “সৃজনশীল চিন্তা এবং নতুন কিছু উদ্ভাবনের সাহসই একজন শিক্ষার্থীকে প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে।”
দক্ষিণ এশিয়ার সম্ভাবনা ও আগামীর নেতৃত্ব
দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের তরুণদের সম্ভাবনা নিয়ে ড. ইউনূস আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই অঞ্চলটি প্রাকৃতিক সম্পদ ও মেধাবী তরুণ শক্তিতে সমৃদ্ধ। তবে দীর্ঘকাল ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ভুল শিক্ষানীতির কারণে এই মেধার সঠিক মূল্যায়ন হয়নি। তিনি বিশ্বাস করেন, একটি আধুনিক ও যুগোপযোগী শিক্ষাব্যবস্থাই পারে এই অঞ্চলের তরুণদের বিশ্বমঞ্চে আগামীর নেতৃত্বে নিয়ে আসতে।
এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনটি বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ অর্থায়নে এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)-র তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ‘হায়ার এডুকেশন এক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট)’ প্রকল্পের আওতায় আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি প্রথিতযশা শিক্ষাবিদ ও বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা উচ্চশিক্ষার বর্তমান সংকট উত্তরণে এবং দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের শিক্ষার মানোন্নয়নে নিজ নিজ মতামত ও গবেষণালব্ধ তথ্য তুলে ধরেন।
ড. ইউনূসের বক্তব্যের মূল দিকসমূহ:
: পাঠ্যবইয়ের বাইরে চিন্তা করার সুযোগ তৈরি করা।
* উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্য: চাকরিপ্রার্থীর বদলে চাকরিদাতা (Entrepreneur) তৈরি করা।
: দক্ষ জনশক্তিকে সম্পদে রূপান্তর করে দক্ষিণ এশিয়ার উন্নয়ন নিশ্চিত করা।
: যুগের চাহিদা অনুযায়ী উচ্চশিক্ষার কারিকুলামে পরিবর্তন আনা।

সর্বাধিক পঠিত

নড়াইলে যৌথ বাহিনীর অভিযানে : পিস্তল ও ৮০০ রাউন্ড গুলিসহ গ্রেফতার ৪

শিক্ষাকে চাকরির যন্ত্র বানাবেন না, মানুষ গড়ার হাতিয়ার করুন’: ড. মুহাম্মদ ইউনূস

আপডেট: ০২:৫০:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

শিক্ষাকে কেবল কর্মসংস্থানের মাধ্যম হিসেবে না দেখে, একে সৃজনশীল ও উদ্যোক্তা মানসিকতাসম্পন্ন মানুষ গড়ার প্রধান হাতিয়ার হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি জোর দিয়ে বলেন, শিক্ষার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত মানুষের সুপ্ত কল্পনাশক্তিকে জাগ্রত করা এবং স্বাধীনভাবে চিন্তা করার সামর্থ্য তৈরি করা।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাজধানীর লা মেরিডিয়ান হোটেলে আয়োজিত ‘উচ্চশিক্ষার বর্তমান অবস্থা এবং ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা–২০২৬’ শীর্ষক দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
দক্ষ শ্রমিক বনাম সৃজনশীল মানুষ
প্রধান উপদেষ্টা তাঁর বক্তব্যে বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, “শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যদি কেবল দক্ষ শ্রমিক তৈরির কারখানায় পরিণত হয়, তবে তা শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুত হবে।” তাঁর মতে, শিক্ষার্থীদের এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে যেন তারা স্নাতক শেষ করে কেবল চাকরির পেছনে না ছোটে, বরং নিজেরাই কর্মসংস্থান তৈরির সক্ষমতা অর্জন করে। তিনি বলেন, “সৃজনশীল চিন্তা এবং নতুন কিছু উদ্ভাবনের সাহসই একজন শিক্ষার্থীকে প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে।”
দক্ষিণ এশিয়ার সম্ভাবনা ও আগামীর নেতৃত্ব
দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের তরুণদের সম্ভাবনা নিয়ে ড. ইউনূস আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই অঞ্চলটি প্রাকৃতিক সম্পদ ও মেধাবী তরুণ শক্তিতে সমৃদ্ধ। তবে দীর্ঘকাল ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ভুল শিক্ষানীতির কারণে এই মেধার সঠিক মূল্যায়ন হয়নি। তিনি বিশ্বাস করেন, একটি আধুনিক ও যুগোপযোগী শিক্ষাব্যবস্থাই পারে এই অঞ্চলের তরুণদের বিশ্বমঞ্চে আগামীর নেতৃত্বে নিয়ে আসতে।
এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনটি বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ অর্থায়নে এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)-র তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ‘হায়ার এডুকেশন এক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট)’ প্রকল্পের আওতায় আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি প্রথিতযশা শিক্ষাবিদ ও বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা উচ্চশিক্ষার বর্তমান সংকট উত্তরণে এবং দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের শিক্ষার মানোন্নয়নে নিজ নিজ মতামত ও গবেষণালব্ধ তথ্য তুলে ধরেন।
ড. ইউনূসের বক্তব্যের মূল দিকসমূহ:
: পাঠ্যবইয়ের বাইরে চিন্তা করার সুযোগ তৈরি করা।
* উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্য: চাকরিপ্রার্থীর বদলে চাকরিদাতা (Entrepreneur) তৈরি করা।
: দক্ষ জনশক্তিকে সম্পদে রূপান্তর করে দক্ষিণ এশিয়ার উন্নয়ন নিশ্চিত করা।
: যুগের চাহিদা অনুযায়ী উচ্চশিক্ষার কারিকুলামে পরিবর্তন আনা।