অমর একুশে বইমেলার তৃতীয় দিনে লহমায় বদলে গেল মেলার দৃশ্যপট। ছুটির দিনের সকালে শিশুপ্রহরের কলকাকলিতে যে উৎসবমুখরতা শুরু হয়েছিল, দুপুরের তপ্ত রোদে তা কিছুটা ম্লান হলেও ইফতারের পর জনসমুদ্রে পরিণত হয় মেলা প্রাঙ্গণ। প্রকাশকদের মুখে ফুটে ওঠে সন্তুষ্টির হাসি।
শিশুপ্রহর ও প্রকাশকদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া
শনিবার সকালে ছিল মেলার দ্বিতীয় ‘শিশুপ্রহর’। শিশুদের বইয়ের প্রতি আগ্রহ দেখে আশাবাদী হয়ে ওঠেন প্রকাশকরা। তবে দুপুর ১টায় শিশুপ্রহর শেষ হওয়ার পর মেলায় সাময়িক স্থবিরতা নেমে আসে। দুপুর ২টা থেকে ইফতারের আগ পর্যন্ত ক্রেতাশূন্য স্টলগুলো দেখে প্রকাশকদের মধ্যে কিছুটা হতাশা দেখা দিলেও সন্ধ্যার পর চিত্র পুরোপুরি বদলে যায়।
পুথিপ্রকাশের স্বত্বাধিকারী সুজন বিশ্বাস জানান, “বিকেলের পরিস্থিতি দেখে মন খারাপ হলেও ইফতারের পর পাঠকদের ভিড় ও বিক্রি দেখে সব কষ্ট দূর হয়ে গেছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে মেলা সফল হবে।”
মেলার তৃতীয় দিনেও অনেক স্টলের নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রাঙ্গণে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল নির্মাণসামগ্রী। হাতুড়ি-বাটালের শব্দে মেলার নান্দনিকতা বিঘ্নিত হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দর্শনার্থীরা। এ বিষয়ে মেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ড. সেলিম রেজা জানান, নানা শঙ্কার কারণে প্রকাশকরা দেরিতে কাজ শুরু করেছেন, তবে আগামী দু-এক দিনের মধ্যে সব গুছিয়ে আসবে।
* নতুন বই: বাংলা একাডেমির তথ্যমতে, গতকাল মেলায় নতুন বই এসেছে ৩৮টি। তিন দিনে মোট নতুন বইয়ের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৪টিতে।
* সংগীত প্রতিযোগিতা: সকালে ৩৪৭ জন প্রতিযোগীর অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় শিশু-কিশোর সংগীত প্রতিযোগিতার প্রাথমিক বাছাই পর্ব। যার চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৭ মার্চ।
: বিকেলে অনুষ্ঠিত হয় ‘স্মরণ: আহমদ রফিক’ শীর্ষক আলোচনা সভা। এতে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক মনসুর মুসা এবং প্রবন্ধ পাঠ করেন ইসমাইল সাদী। বক্তারা ভাষা আন্দোলনে আহমদ রফিকের অনন্য অবদানের কথা স্মরণ করেন।
সাংস্কৃতিক পর্বে কবিতা আবৃত্তি ও সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শেষ হয় মেলার তৃতীয় দিনের আনুষ্ঠানিকতা।
















