০৫:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬

খামেনি পরবর্তী ইরানে ক্ষমতার শীর্ষে কে?

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৯:৫৭:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬
  • ৫১২

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর দেশটিতে চরম নেতৃত্ব সংকট দেখা দিয়েছে। উত্তরসূরি নির্বাচন নিয়ে প্রভাবশালী ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এবং সাংবিধানিক সংস্থা ‘এসেম্বলি অব এক্সপার্টস’-এর মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র মনস্তাত্ত্বিক ও আইনি লড়াই। লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনালের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

ইরানের সংবিধান অনুযায়ী নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের একক এখতিয়ার ‘এসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ বা বিশেষজ্ঞ পরিষদের। তবে চলমান যুদ্ধাবস্থার দোহাই দিয়ে পরিষদ জানিয়েছে, এই মুহূর্তে সদস্যদের নিয়ে বৈঠক ডাকা প্রায় অসম্ভব। এই সুযোগে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া এড়িয়ে দ্রুত নিজেদের পছন্দের কোনো ব্যক্তিকে শীর্ষ পদে বসাতে চাপ দিচ্ছে আইআরজিসি। তারা আইনগত প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়েই ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ নিতে চাইছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সামরিক বাহিনীতে বিশৃঙ্খলা ও চেইন অব কমান্ডে ভাঙন
যৌথ হামলার পর ইরানের শক্তিশালী নিরাপত্তা ও সামরিক কাঠামোর ভেতরে বড় ধরনের অস্থিরতা লক্ষ্য করা গেছে। গোয়েন্দা সূত্রগুলো জানিয়েছে:
* সমন্বয়হীনতা: উচ্চপর্যায় থেকে নিম্নপর্যায়ে নির্দেশ আদান-প্রদানে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে।
: অনেক সামরিক কমান্ডার ও সদস্য হামলার ভয়ে নিজ নিজ ঘাঁটিতে রিপোর্ট না করে আত্মগোপনে রয়েছেন।
* ভীতি: অব্যাহত ড্রোন ও বিমান হামলায় পরবর্তী লক্ষ্যবস্তু হওয়ার আশঙ্কায় সামরিক স্থাপনাগুলোতে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

নেতৃত্ব সংকট ও সামরিক অস্থিরতার মাঝেই ইরানের সাধারণ জনগণের মধ্যে নতুন করে বিক্ষোভের দানা বাঁধছে। আজ রবিবার দিনের আলো ফোটার সাথে সাথেই তেহরানসহ বড় শহরগুলোতে বড় ধরনের জনঅসন্তোষ ও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
একদিকে আইআরজিসি-র ক্ষমতা দখলের চেষ্টা, অন্যদিকে সামরিক বাহিনীর চেইন অব কমান্ডে ভাঙন এবং রাজপথে জনগণের সম্ভাব্য উপস্থিতি—এই ত্রিমুখী চাপে ইসলামি প্রজাতন্ত্রটি এখন ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছে।

সর্বাধিক পঠিত

১৫ লাখ টাকার চুক্তিতে শ্বশুরকে খুন: যশোরে অস্ত্রসহ ১৭ মামলার আসামি মনিরুল আটক

খামেনি পরবর্তী ইরানে ক্ষমতার শীর্ষে কে?

আপডেট: ০৯:৫৭:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর দেশটিতে চরম নেতৃত্ব সংকট দেখা দিয়েছে। উত্তরসূরি নির্বাচন নিয়ে প্রভাবশালী ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এবং সাংবিধানিক সংস্থা ‘এসেম্বলি অব এক্সপার্টস’-এর মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র মনস্তাত্ত্বিক ও আইনি লড়াই। লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনালের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

ইরানের সংবিধান অনুযায়ী নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের একক এখতিয়ার ‘এসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ বা বিশেষজ্ঞ পরিষদের। তবে চলমান যুদ্ধাবস্থার দোহাই দিয়ে পরিষদ জানিয়েছে, এই মুহূর্তে সদস্যদের নিয়ে বৈঠক ডাকা প্রায় অসম্ভব। এই সুযোগে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া এড়িয়ে দ্রুত নিজেদের পছন্দের কোনো ব্যক্তিকে শীর্ষ পদে বসাতে চাপ দিচ্ছে আইআরজিসি। তারা আইনগত প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়েই ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ নিতে চাইছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সামরিক বাহিনীতে বিশৃঙ্খলা ও চেইন অব কমান্ডে ভাঙন
যৌথ হামলার পর ইরানের শক্তিশালী নিরাপত্তা ও সামরিক কাঠামোর ভেতরে বড় ধরনের অস্থিরতা লক্ষ্য করা গেছে। গোয়েন্দা সূত্রগুলো জানিয়েছে:
* সমন্বয়হীনতা: উচ্চপর্যায় থেকে নিম্নপর্যায়ে নির্দেশ আদান-প্রদানে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে।
: অনেক সামরিক কমান্ডার ও সদস্য হামলার ভয়ে নিজ নিজ ঘাঁটিতে রিপোর্ট না করে আত্মগোপনে রয়েছেন।
* ভীতি: অব্যাহত ড্রোন ও বিমান হামলায় পরবর্তী লক্ষ্যবস্তু হওয়ার আশঙ্কায় সামরিক স্থাপনাগুলোতে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

নেতৃত্ব সংকট ও সামরিক অস্থিরতার মাঝেই ইরানের সাধারণ জনগণের মধ্যে নতুন করে বিক্ষোভের দানা বাঁধছে। আজ রবিবার দিনের আলো ফোটার সাথে সাথেই তেহরানসহ বড় শহরগুলোতে বড় ধরনের জনঅসন্তোষ ও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
একদিকে আইআরজিসি-র ক্ষমতা দখলের চেষ্টা, অন্যদিকে সামরিক বাহিনীর চেইন অব কমান্ডে ভাঙন এবং রাজপথে জনগণের সম্ভাব্য উপস্থিতি—এই ত্রিমুখী চাপে ইসলামি প্রজাতন্ত্রটি এখন ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছে।