কুমিল্লার দেবিদ্বারে নিজের ২৭ দিন বয়সী কন্যাসন্তানকে ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দিয়ে ‘অপহরণ’ নাটক সাজানোর এক রোমহর্ষক অভিযোগ উঠেছে জন্মদাত্রী মায়ের বিরুদ্ধে। দীর্ঘ ৩৫ ঘণ্টার শ্বাসরুদ্ধকর তদন্ত শেষে সিসিটিভি ফুটেজের সহায়তায় পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে আকলিমা বেগম তার শিশুকন্যা হাফসাকে চিকিৎসার অজুহাতে দেবিদ্বার উপজেলা সদরে নিয়ে যান। সেখানে এক নিঃসন্তান দম্পতির সাথে ৫০ হাজার টাকায় সন্তান বিক্রির রফা করেন তিনি। শিশুটিকে হস্তান্তর করার পর আকলিমা বুড়িচং উপজেলার সাবের বাজার এলাকায় সড়কের পাশে অচেতন হওয়ার ভান করে পড়ে থাকেন এবং প্রচার করেন যে তার সন্তান অপহৃত হয়েছে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে পুলিশে খবর দিলে প্রাথমিক নাটকটি বিশ্বাসযোগ্য হয়ে ওঠে।
বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে পুলিশ গভীর তদন্তে নামে। দেবিদ্বার ও বুড়িচং এলাকার বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, আকলিমা বেগম স্বেচ্ছায় এক দম্পতির হাতে শিশুটিকে তুলে দিচ্ছেন। শুক্রবার রাতে পুলিশের চাপের মুখে ওই নিঃসন্তান দম্পতি শিশুটিকে ফেরত দিতে বাধ্য হন।
শিশুটির বাবা দিনমজুর কামাল হোসেন স্তম্ভিত হয়ে জানান, সন্তান লালন-পালনের জন্য তাদের কোনো অভাব ছিল না এবং স্ত্রীর এই আত্মঘাতী সিদ্ধান্তের বিষয়ে তিনি কিছুই জানতেন না। অন্যদিকে আকলিমা বেগম তার ভুল স্বীকার করে দাবি করেন, হাসপাতালের এক নার্সের প্ররোচনায় পড়ে তিনি এই কাজ করেছেন। তবে বিক্রির টাকা এখনো হাতে পাননি বলে দাবি তার।
দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, “এটি একটি পরিকল্পিত ঘটনা ছিল। মা নিজেই সন্তান বিক্রি করে দিয়ে অপহরণের মিথ্যা গল্প ফেঁদেছিলেন। সিসিটিভি ফুটেজ ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আমরা শিশুটিকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছি।”
















