০৩:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের আশায় মানত: বেনাপোলে জরিনা খাতুনের গণভোজ

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৩:২২:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫১০

আপনার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি একটি পূর্ণাঙ্গ সংবাদ আকারে নিচে সাজিয়ে দেওয়া হ

যশোরের শার্শা উপজেলার বেনাপোল সীমান্তে এক অনন্য রাজনৈতিক আবেগ ও মানবিকতার দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করেছেন জরিনা খাতুন নামের এক নারী। বিএনপি নেতা তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন এবং দলটির রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসার প্রত্যাশায় নিজের করা ‘মানত’ পূরণ করতে আজ বৃহস্পতিবার এক বিশাল গণভোজের আয়োজন করেন তিনি। বেনাপোল পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ডের দুর্গাপুর এলাকায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি এখন পুরো উপজেলার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন মাস আগে জরিনা খাতুন মনে মনে একটি মানত করেছিলেন। তার বিশ্বাস ছিল, দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলে এবং তারেক রহমান বীরের বেশে দেশে ফিরে এলে তিনি এলাকাবাসীকে পেট পুরে খাওয়াবেন। সেই বিশ্বাসের জায়গা থেকেই আজ দুর্গাপুর উত্তরপাড়ায় শতাধিক মানুষের জন্য খাবারের আয়োজন করা হয়। বিশেষ বিষয় হলো, এই দাওয়াত দিতে জরিনা খাতুন নিজেই গত বুধবার বাড়ি বাড়ি গিয়ে এলাকাবাসীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

আজ সকাল থেকেই দুর্গাপুর এলাকায় এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। গণভোজে অংশ নিতে দেখা গেছে সব বয়সী নারী, পুরুষ ও শিশুদের। কোনো বড় রাজনৈতিক নেতার আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি না হলেও, সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এই আয়োজনকে একটি সামাজিক উৎসবে রূপ দিয়েছে। স্থানীয়দের মতে, এটি কেবল রাজনীতি নয়, বরং একজন সাধারণ কর্মীর নেতার প্রতি নিঃস্বার্থ ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ।
আবেগঘন কণ্ঠে জরিনা খাতুন বলেন:
“আমি গত ৩০ বছর ধরে বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত। এই দল আমার আবেগ। আমি শহীদ জিয়াউর রহমানকে ভালোবেসে রাজনীতি শুরু করি, পরে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছি। এখন আমার সব ভালোবাসা তারেক রহমানকে ঘিরে। আমার বিশ্বাস, তিনি খুব দ্রুতই বীরের বেশে দেশে ফিরবেন এবং বিএনপি আবার ক্ষমতায় আসবে। এই বিশ্বাস থেকেই আমি মানত করেছিলাম এবং আজ তা পূরণ করার চেষ্টা করছি।”

তিনি আরও যোগ করেন, রাজনীতি বড় বিষয় হলেও মানুষের সাথে আনন্দ ও ভালোবাসা ভাগ করে নেওয়াই ছিল তার মূল লক্ষ্য।
বেনাপোলের স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে এই ঘটনাটি বেশ গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। অনেকেই বলছেন, তৃণমূলের একজন সাধারণ কর্মীর এমন ত্যাগ এবং বিশ্বাস প্রমাণ করে যে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি সাধারণ মানুষের শেকড় কতটা গভীরে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এমন আয়োজন সমাজে রাজনৈতিক বিভাজন কমিয়ে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ বাড়াতে সহায়তা করে।

বেলা গড়িয়ে বিকেল হলেও দুর্গাপুর এলাকার মানুষের মুখে মুখে ছিল জরিনা খাতুনের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের গল্প। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এলাকায় আনন্দঘন পরিবেশ বিরাজ করছিল।

সর্বাধিক পঠিত

যশোরে জমি সংক্রান্ত বিরোধে ভুক্তভোগী পরিবারের সংবাদ সম্মেলন:

তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের আশায় মানত: বেনাপোলে জরিনা খাতুনের গণভোজ

আপডেট: ০৩:২২:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

আপনার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি একটি পূর্ণাঙ্গ সংবাদ আকারে নিচে সাজিয়ে দেওয়া হ

যশোরের শার্শা উপজেলার বেনাপোল সীমান্তে এক অনন্য রাজনৈতিক আবেগ ও মানবিকতার দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করেছেন জরিনা খাতুন নামের এক নারী। বিএনপি নেতা তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন এবং দলটির রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসার প্রত্যাশায় নিজের করা ‘মানত’ পূরণ করতে আজ বৃহস্পতিবার এক বিশাল গণভোজের আয়োজন করেন তিনি। বেনাপোল পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ডের দুর্গাপুর এলাকায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি এখন পুরো উপজেলার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন মাস আগে জরিনা খাতুন মনে মনে একটি মানত করেছিলেন। তার বিশ্বাস ছিল, দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলে এবং তারেক রহমান বীরের বেশে দেশে ফিরে এলে তিনি এলাকাবাসীকে পেট পুরে খাওয়াবেন। সেই বিশ্বাসের জায়গা থেকেই আজ দুর্গাপুর উত্তরপাড়ায় শতাধিক মানুষের জন্য খাবারের আয়োজন করা হয়। বিশেষ বিষয় হলো, এই দাওয়াত দিতে জরিনা খাতুন নিজেই গত বুধবার বাড়ি বাড়ি গিয়ে এলাকাবাসীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

আজ সকাল থেকেই দুর্গাপুর এলাকায় এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। গণভোজে অংশ নিতে দেখা গেছে সব বয়সী নারী, পুরুষ ও শিশুদের। কোনো বড় রাজনৈতিক নেতার আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি না হলেও, সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এই আয়োজনকে একটি সামাজিক উৎসবে রূপ দিয়েছে। স্থানীয়দের মতে, এটি কেবল রাজনীতি নয়, বরং একজন সাধারণ কর্মীর নেতার প্রতি নিঃস্বার্থ ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ।
আবেগঘন কণ্ঠে জরিনা খাতুন বলেন:
“আমি গত ৩০ বছর ধরে বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত। এই দল আমার আবেগ। আমি শহীদ জিয়াউর রহমানকে ভালোবেসে রাজনীতি শুরু করি, পরে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছি। এখন আমার সব ভালোবাসা তারেক রহমানকে ঘিরে। আমার বিশ্বাস, তিনি খুব দ্রুতই বীরের বেশে দেশে ফিরবেন এবং বিএনপি আবার ক্ষমতায় আসবে। এই বিশ্বাস থেকেই আমি মানত করেছিলাম এবং আজ তা পূরণ করার চেষ্টা করছি।”

তিনি আরও যোগ করেন, রাজনীতি বড় বিষয় হলেও মানুষের সাথে আনন্দ ও ভালোবাসা ভাগ করে নেওয়াই ছিল তার মূল লক্ষ্য।
বেনাপোলের স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে এই ঘটনাটি বেশ গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। অনেকেই বলছেন, তৃণমূলের একজন সাধারণ কর্মীর এমন ত্যাগ এবং বিশ্বাস প্রমাণ করে যে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি সাধারণ মানুষের শেকড় কতটা গভীরে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এমন আয়োজন সমাজে রাজনৈতিক বিভাজন কমিয়ে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ বাড়াতে সহায়তা করে।

বেলা গড়িয়ে বিকেল হলেও দুর্গাপুর এলাকার মানুষের মুখে মুখে ছিল জরিনা খাতুনের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের গল্প। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এলাকায় আনন্দঘন পরিবেশ বিরাজ করছিল।