যশোর সদর উপজেলার মাহিদিয়া গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে একটি নিরীহ পরিবারকে উচ্ছেদ চেষ্টা, মিথ্যা মামলা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। আজ বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের কাছে জীবনের নিরাপত্তা ও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভোগী মো. সাহাফুজ্জামান মিকুল। তিনি জানান, সদর উপজেলার মাহিদিয়া মৌজার খতিয়ান নং ১১৬৭-এর অন্তর্গত দাগ নং ৩৬৬০ ও ৩৬৬১-এর প্রায় ৪৫ শতক জমি দীর্ঘ ১০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে তাদের পরিবার ভোগদখল করে আসছে। জমির ১৯২৭, ১৯৬২ ও ১৯৯০ সালের সকল রেকর্ডীয় কাগজপত্র তার পিতা মো. কামরুজ্জামান কাবুলের নামে রয়েছে। তারা যথাযথভাবে খাজনা ও কর পরিশোধ করে আসছেন।
মিকুল অভিযোগ করেন, তাদের পৈত্রিক জমির পাশের জমির মালিক কামরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী শিল্পী বেগম দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক সুবিধা পাওয়ার চেষ্টা করছেন। কামরুল ইসলামদের জমির সামনে সরকারি চলাচলের রাস্তা থাকা সত্ত্বেও, তারা জোরপূর্বক মিকুলদের ব্যক্তিগত জমির ওপর দিয়ে চলাচলের রাস্তা তৈরির পাঁয়তারা করছেন। এতে বাধা দেওয়ায় প্রতিপক্ষরা চরম ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, রাস্তা দেওয়ার প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় কামরুল ও শিল্পী বেগম ভুক্তভোগী পরিবারকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ বিভিন্ন সময় প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছেন। এ ঘটনায় নিরাপত্তার স্বার্থে এর আগেই যশোর কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
মিকুল আরও দাবি করেন, ঘটনার মোড় অন্যদিকে ঘোরাতে গত ২০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে একটি স্থানীয় পত্রিকায় তাদের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশ করানো হয়েছে। ওই সংবাদের কোনো সত্যতা নেই এবং এটি তাদের সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার একটি অপকৌশল মাত্র।
বর্তমানে কামরুল ইসলাম ও তার সহযোগীদের অব্যাহত হুমকিতে ভুক্তভোগী পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। সংবাদ সম্মেলন থেকে তারা অবিলম্বে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ এবং সরেজমিনে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে মাহিদিয়া এলাকার বাবুল, এনামুল, শিপন, আতিয়ারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।




















