১১:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

স্বামীর কবরের পাশে আশ্রয় গৃহবধূর: দুই সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবন, ন্যায়বিচারের আকুতি

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৯:৪৪:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫০৯

স্বামীর মৃত্যুর পর শ্বশুরবাড়িতে ঠাঁই না পেয়ে দুই শিশু সন্তানকে নিয়ে স্বামীর কবরের পাশে অবস্থান নিয়েছেন গৃহবধূ মোছা. সোনিয়া আক্তার (২৭)। গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার উত্তর লস্করচালা গ্রাম-এ এই মর্মান্তিক দৃশ্য স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোনিয়ার স্বামী সুজন মাহমুদ (৩৬) ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হয়ে গত ২ এপ্রিল মারা যান। স্বামীর মৃত্যুর শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই সোনিয়া জানতে পারেন, শ্বশুরবাড়িতে তার ও সন্তানদের জন্য আর কোনো জায়গা নেই। তার অভিযোগ, শ্বশুর কফিল উদ্দিন ও শাশুড়ি শিরীন বেগমসহ পরিবারের সদস্যরা তাদের মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
স্বামীর চিকিৎসার বিষয়ে সোনিয়া জানান, স্বামীর মোটরসাইকেল বিক্রি করে এবং মানুষের কাছ থেকে সহায়তা নিয়ে চিকিৎসা চালিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত স্বামীকে বাঁচাতে পারেননি। এখন দুই সন্তান—৯ বছরের মেয়ে সাজিয়া মাহমুদ সোয়াদ ও দেড় বছর বয়সী ছেলে সাইফান মাহমুদকে নিয়ে তিনি চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন।অসহায় অবস্থায় স্থানীয় এক বাসিন্দার বাড়িতে সাময়িক আশ্রয় পেলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। বর্তমানে রাত কাটাতে হচ্ছে অন্যের বাড়িতে, আর দিনের বেশিরভাগ সময় কাটছে স্বামীর কবরের পাশে। সোনিয়া বলেন, *“আমার অবুঝ দুই সন্তানকে নিয়ে কোথায় যাব? আমি শুধু স্বামীর ভিটায় থাকার অধিকার চাই।”*
এলাকাবাসী জানান, প্রায় ১১ বছর আগে ভালোবেসে সোনিয়াকে বিয়ে করেন গার্মেন্টকর্মী সুজন মাহমুদ। তবে শুরু থেকেই এই বিয়ে পরিবার মেনে নেয়নি। এদিকে সোনিয়ার বাবাও ইতোমধ্যে মারা গেছেন, ফলে তার ফিরে যাওয়ার মতো কোনো পিতৃগৃহও নেই।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, মধ্যপাড়া ইউনিয়নের মহিলা মেম্বার শাহিদা সুলতানা বলেন, “স্ত্রী ও সন্তানদের তাদের প্রাপ্য অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি আমরা গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে।”
অন্যদিকে বাংলাদেশ পুলিশ-এর কালিয়াকৈর থানা-র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম জানান, উভয় পক্ষকে নিয়ে মীমাংসার চেষ্টা চলছে। সমাধান না হলে আদালতের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মানবিক এই ঘটনার দ্রুত সমাধান ও সোনিয়া আক্তার এবং তার শিশু সন্তানদের নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

সর্বাধিক পঠিত

আদানি পাওয়ারের একটি ইউনিট বন্ধ, বাংলাদেশে ৮০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহে সংকটের আশঙ্কা

স্বামীর কবরের পাশে আশ্রয় গৃহবধূর: দুই সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবন, ন্যায়বিচারের আকুতি

আপডেট: ০৯:৪৪:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

স্বামীর মৃত্যুর পর শ্বশুরবাড়িতে ঠাঁই না পেয়ে দুই শিশু সন্তানকে নিয়ে স্বামীর কবরের পাশে অবস্থান নিয়েছেন গৃহবধূ মোছা. সোনিয়া আক্তার (২৭)। গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার উত্তর লস্করচালা গ্রাম-এ এই মর্মান্তিক দৃশ্য স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোনিয়ার স্বামী সুজন মাহমুদ (৩৬) ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হয়ে গত ২ এপ্রিল মারা যান। স্বামীর মৃত্যুর শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই সোনিয়া জানতে পারেন, শ্বশুরবাড়িতে তার ও সন্তানদের জন্য আর কোনো জায়গা নেই। তার অভিযোগ, শ্বশুর কফিল উদ্দিন ও শাশুড়ি শিরীন বেগমসহ পরিবারের সদস্যরা তাদের মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
স্বামীর চিকিৎসার বিষয়ে সোনিয়া জানান, স্বামীর মোটরসাইকেল বিক্রি করে এবং মানুষের কাছ থেকে সহায়তা নিয়ে চিকিৎসা চালিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত স্বামীকে বাঁচাতে পারেননি। এখন দুই সন্তান—৯ বছরের মেয়ে সাজিয়া মাহমুদ সোয়াদ ও দেড় বছর বয়সী ছেলে সাইফান মাহমুদকে নিয়ে তিনি চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন।অসহায় অবস্থায় স্থানীয় এক বাসিন্দার বাড়িতে সাময়িক আশ্রয় পেলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। বর্তমানে রাত কাটাতে হচ্ছে অন্যের বাড়িতে, আর দিনের বেশিরভাগ সময় কাটছে স্বামীর কবরের পাশে। সোনিয়া বলেন, *“আমার অবুঝ দুই সন্তানকে নিয়ে কোথায় যাব? আমি শুধু স্বামীর ভিটায় থাকার অধিকার চাই।”*
এলাকাবাসী জানান, প্রায় ১১ বছর আগে ভালোবেসে সোনিয়াকে বিয়ে করেন গার্মেন্টকর্মী সুজন মাহমুদ। তবে শুরু থেকেই এই বিয়ে পরিবার মেনে নেয়নি। এদিকে সোনিয়ার বাবাও ইতোমধ্যে মারা গেছেন, ফলে তার ফিরে যাওয়ার মতো কোনো পিতৃগৃহও নেই।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, মধ্যপাড়া ইউনিয়নের মহিলা মেম্বার শাহিদা সুলতানা বলেন, “স্ত্রী ও সন্তানদের তাদের প্রাপ্য অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি আমরা গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে।”
অন্যদিকে বাংলাদেশ পুলিশ-এর কালিয়াকৈর থানা-র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম জানান, উভয় পক্ষকে নিয়ে মীমাংসার চেষ্টা চলছে। সমাধান না হলে আদালতের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মানবিক এই ঘটনার দ্রুত সমাধান ও সোনিয়া আক্তার এবং তার শিশু সন্তানদের নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।