যশোরের বেনাপোল পোর্ট থানাধীন হরিণাপোতা গ্রামের একটি মাঠ থেকে ইউনুছ হোসেন (৪৮) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে।
নিহত ইউনুছ হোসেন বেনাপোলের ছোট আঁচড়া গ্রামের মোস্তাব আলীর ছেলে। তিনি পেশায় আমদানিকৃত পণ্যবাহী গাড়ির ‘স্কট’ (নিরাপত্তা কর্মী) হিসেবে কাজ করতেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ ভোরে হরিণাপোতা গ্রামের পাশের একটি মাঠে কাজ করতে যাচ্ছিলেন কৃষকরা। এসময় মাঠের মাঝখানে এক ব্যক্তির নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে তারা চিৎকার শুরু করেন। মুহূর্তের মধ্যে খবরটি ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের গ্রাম থেকে শত শত মানুষ ভিড় জমায়। পরে খবর পেয়ে বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে মরদেহটি উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি যশোর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এই ঘটনায় নিহতের ভাই ইউসুফ তার ভাবি অর্থাৎ ইউনুছের স্ত্রীর বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ তুলেছেন। তিনি জানান:
“ইউনুছের সাথে তার স্ত্রী তাসলিমার দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহ ছিল। এর জেরে একবার তাদের বিবাহবিচ্ছেদও হয়। কিন্তু কিছুদিন পর তাসলিমা আবার ইউনুছের সংসারে ফিরে আসে। আমাদের ধারণা, তাসলিমা অন্য কোনো ব্যক্তির সঙ্গে যোগসাজশ করে পরিকল্পিতভাবে আমার ভাইকে হত্যা করে মাঠে ফেলে রেখেছে।”
পারিবারিক কলহ এবং স্ত্রীর পরকীয়া সংক্রান্ত কোনো বিরোধ এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকতে পারে বলে নিহতের স্বজনরা দাবি করছেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফ হোসেন জানান, মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন:
“প্রাথমিকভাবে এটি একটি হত্যাকাণ্ড বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। নিহতের পরিবারের অভিযোগ আমরা গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছি। ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে।”
এই ঘটনায় এলাকায় শোকের পাশাপাশি চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ তদন্তের প্রয়োজনে নিহতের পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে।




















