যশোর জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের যুব বিষয়ক সম্পাদক পল্লব কুমার দাস শুভ্র এক অনন্য মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চেয়েছিলেন। সমাজ সংস্কারক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে এক অসহায় বিধবাকে বিয়ে করে তাকে সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু এই মানবিকতাই এখন তার ও তার পরিবারের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পূর্বশত্রুতা ও ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ
অনুসন্ধানে জানা যায়, পল্লব দাসের স্ত্রী তার প্রথম স্বামীর মৃত্যুর পর ভরণপোষণ ও সম্পত্তির অধিকারের দাবিতে আইনি লড়াই শুরু করেছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, ওই নারীর প্রথম স্বামীর সৎ ভাই গৌরাঙ্গ বিশ্বাস বিগত সরকারের আমলে স্থানীয় এক যুবলীগ ক্যাডারের সহযোগিতায় সশস্ত্র বাহিনী নিয়ে তার ওপর চড়াও হন। তাকে মানসিক নির্যাতন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক মামলা প্রত্যাহার করতে বাধ্য করা হয় এবং একপর্যায়ে স্বামীর ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করা হয়। সেই দুঃসময়ে পল্লব কুমার তাকে আশ্রয় ও সামাজিক মর্যাদা দিয়ে বিয়ে করলেও গৌরাঙ্গ ও তার প্রভাবশালী চক্রটি এখন নতুন করে তাদের জীবন বিষিয়ে তুলছে।
বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে বিরোধ ও হামলা
সম্প্রতি এই পরিস্থিতির সাথে যুক্ত হয়েছে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে বিরোধ। যশোর সদরের বিরামপুর এলাকায় পল্লবের প্রতিবেশী গৌরাঙ্গ বিশ্বাসের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায় গত ২০ সেপ্টেম্বর সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে বিদ্যুৎ বিভাগ। এরপর গৌরাঙ্গ অবৈধভাবে মেইন খুঁটি থেকে ‘হুক’ সংযোগ নিলে পল্লব দাসের লাইনের ক্ষতি হয়। পল্লব বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানালে বিদ্যুৎ বিভাগ অভিযান চালিয়ে জরিমানা করে এবং গৌরাঙ্গের মিটার জব্দ করে।
এতে ক্ষিপ্ত হয়ে গৌরাঙ্গ ও তার সহযোগীরা পল্লবের পরিবারের ওপর দফায় দফায় হামলা চালায়। গত ২৬ সেপ্টেম্বর এক হামলায় পল্লব, তার স্ত্রী ও দুই বছরের শিশু সন্তান আহত হন। ভুক্তভোগী পল্লব জানান, এই ঘটনায় একাধিকবার থানায় অভিযোগ ও জিডি করা হলেও অভিযুক্তরা প্রভাবশালী মহলের মদদে পার পেয়ে যাচ্ছেন।
সর্বশেষ গত ১১ ফেব্রুয়ারি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পল্লবের বাড়িতে পুনরায় হামলার চেষ্টা চালানো হলে ৯৯৯-এ কল পেয়ে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি পল্লব কুমার জেলা পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। এসপি অফিস থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি সকালে গৌরাঙ্গকে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও তিনি উপস্থিত হননি। উল্টো এলাকায় প্রচার করছেন যে, “৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পুলিশকে গোনার সময় নেই”।
এই বিষয়ে পুলিশ সুপার অফিসের কর্মকর্তা তিতুমির জানান, “অভিযুক্ত গৌরাঙ্গকে আমি নিজে ফোন করে অফিসে উপস্থিত হতে বলেছিলাম। কিন্তু তিনি আসেননি এবং আমাদের সাথে কোনো যোগাযোগও করেননি।”
বর্তমানে ভুক্তভোগী পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে এবং দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হব
















