১২:১৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬

শিক্ষার্থীদের বর্জনের মুখে দিঘড়ী দাখিল মাদ্রাসার শ্রেণিকক্ষে তালা, বিতর্কের কেন্দ্রে বহিস্কৃত সুপার

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৮:৩৭:৩৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৫
  • ৫৫৭

যশোরের দিঘড়ী দাখিল মাদ্রাসার সাময়িক বহিস্কৃত সুপার শাহনাজ পারভীন মাদ্রাসায় প্রবেশ করলে সেখানে তীব্র বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। এর প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে শ্রেণিকক্ষে তালা মেরে বাড়ি ফিরে যায়। এই ঘটনা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। বৃহস্পতিবার সুপার মাদ্রাসায় গেলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
জানা গেছে, সাময়িক বরখাস্ত থাকা সুপার শাহনাজ পারভীন সম্প্রতি মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর জালিয়াতির মাধ্যমে একটি কমিটি গঠন সংক্রান্ত চিঠি তৈরি করেন। যে ব্যক্তিকে সভাপতি করা হয়, এলাকাবাসী তার নাম এর আগে শোনেননি। এই অবৈধ সভাপতিকে ব্যবহার করে সুপার তার বকেয়া সমস্ত বেতন বিল উত্তোলন করে নেন এবং সাময়িক বরখাস্তের আদেশও বাতিল করিয়ে নেন, যা সম্পূর্ণভাবে আইনবহির্ভূত বলে অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদেই বৃহস্পতিবার সুপার মাদ্রাসায় এলে শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে।
মাদ্রাসা শিক্ষক শাহিনুর রহমান বাবু জানান, সাময়িক বহিস্কৃত সুপার শাহনাজ পারভীন মাদ্রাসায় আসায় শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে বাড়ি চলে যায়। শিক্ষক মাসুদুর রহমান বলেন, সুপার-এর অবৈধ কার্যক্রমের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করেছে এবং এই পরিস্থিতির জন্য সুপার নিজেই দায়ী।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এস এম বজলুর রশিদ ঘটনাটি নিশ্চিত করে বলেন, সুপার মাদ্রাসায় গেলে শিক্ষার্থীরা তাকে বর্জন করে শ্রেণিকক্ষে তালা মেরে বাড়ি ফিরে যায়। খবর পাওয়ার পর তিনি মাদ্রাসাটি পরিদর্শন করেন।
উল্লেখ্য, সুপার শাহানাজ পারভীন মাদ্রাসায় যোগদানের পর থেকেই নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা, অর্থ আত্মসাৎ, সরকারি কম্পিউটার ল্যাব আত্মসাৎ, জালিয়াতি করে নিয়োগ বাণিজ্য, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ফি আদায় এবং রাজনৈতিক দাপট দেখানোর অভিযোগ রয়েছে। তার এসব কর্মকাণ্ডে প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়ে।
এলাকাবাসী সুপার শাহানাজ পারভীনের অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করলে আন্দোলনের মুখে ২০২৪ সালের ২১ অক্টোবর তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুস্মিতা সাহা তাকে বরখাস্ত করেন। পরবর্তীতে এ বিষয়ে একটি তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়, যার প্রধান ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কালাম মোহাম্মদ রফিকুজ্জামান। কমিটির অন্য সদস্যরা ছিলেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মেহেদী হাসান ও উপজেলা বিআরডিবি কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান।

সর্বাধিক পঠিত

ঈদ পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময়ে নুরুজ্জামান লিটনের সঙ্গে বাগআঁচড়া বিএনপি নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ

শিক্ষার্থীদের বর্জনের মুখে দিঘড়ী দাখিল মাদ্রাসার শ্রেণিকক্ষে তালা, বিতর্কের কেন্দ্রে বহিস্কৃত সুপার

আপডেট: ০৮:৩৭:৩৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৫

যশোরের দিঘড়ী দাখিল মাদ্রাসার সাময়িক বহিস্কৃত সুপার শাহনাজ পারভীন মাদ্রাসায় প্রবেশ করলে সেখানে তীব্র বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। এর প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে শ্রেণিকক্ষে তালা মেরে বাড়ি ফিরে যায়। এই ঘটনা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। বৃহস্পতিবার সুপার মাদ্রাসায় গেলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
জানা গেছে, সাময়িক বরখাস্ত থাকা সুপার শাহনাজ পারভীন সম্প্রতি মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর জালিয়াতির মাধ্যমে একটি কমিটি গঠন সংক্রান্ত চিঠি তৈরি করেন। যে ব্যক্তিকে সভাপতি করা হয়, এলাকাবাসী তার নাম এর আগে শোনেননি। এই অবৈধ সভাপতিকে ব্যবহার করে সুপার তার বকেয়া সমস্ত বেতন বিল উত্তোলন করে নেন এবং সাময়িক বরখাস্তের আদেশও বাতিল করিয়ে নেন, যা সম্পূর্ণভাবে আইনবহির্ভূত বলে অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদেই বৃহস্পতিবার সুপার মাদ্রাসায় এলে শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে।
মাদ্রাসা শিক্ষক শাহিনুর রহমান বাবু জানান, সাময়িক বহিস্কৃত সুপার শাহনাজ পারভীন মাদ্রাসায় আসায় শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে বাড়ি চলে যায়। শিক্ষক মাসুদুর রহমান বলেন, সুপার-এর অবৈধ কার্যক্রমের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করেছে এবং এই পরিস্থিতির জন্য সুপার নিজেই দায়ী।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এস এম বজলুর রশিদ ঘটনাটি নিশ্চিত করে বলেন, সুপার মাদ্রাসায় গেলে শিক্ষার্থীরা তাকে বর্জন করে শ্রেণিকক্ষে তালা মেরে বাড়ি ফিরে যায়। খবর পাওয়ার পর তিনি মাদ্রাসাটি পরিদর্শন করেন।
উল্লেখ্য, সুপার শাহানাজ পারভীন মাদ্রাসায় যোগদানের পর থেকেই নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা, অর্থ আত্মসাৎ, সরকারি কম্পিউটার ল্যাব আত্মসাৎ, জালিয়াতি করে নিয়োগ বাণিজ্য, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ফি আদায় এবং রাজনৈতিক দাপট দেখানোর অভিযোগ রয়েছে। তার এসব কর্মকাণ্ডে প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়ে।
এলাকাবাসী সুপার শাহানাজ পারভীনের অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করলে আন্দোলনের মুখে ২০২৪ সালের ২১ অক্টোবর তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুস্মিতা সাহা তাকে বরখাস্ত করেন। পরবর্তীতে এ বিষয়ে একটি তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়, যার প্রধান ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কালাম মোহাম্মদ রফিকুজ্জামান। কমিটির অন্য সদস্যরা ছিলেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মেহেদী হাসান ও উপজেলা বিআরডিবি কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান।