১১:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬

দীর্ঘ নির্বাসন শেষে দেশে ফিরছেন তারেক রহমান: অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১২:০৯:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ অক্টোবর ২০২৫
  • ৫৬৯

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রায় দুই দশক পর দীর্ঘ নির্বাসন ভেঙে দেশে ফিরছেন। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে তিনি লন্ডন থেকে ফেরার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছেলে এবং বিএনপির কার্যত প্রধান নেতা, ৫৯ বছর বয়সী তারেক রহমান, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট জানিয়েছে।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও মামলার অব্যাহতি
গত বছর দেশে এক বিশাল গণ-অভ্যুত্থানের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতা ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। এই রাজনৈতিক শূন্যতার মধ্যে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়। আন্দোলন চলাকালীন সহিংসতায় প্রায় ১,৪০০ মানুষের প্রাণহানি ঘটে। এর ধারাবাহিকতায় আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয় এবং শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে তার বিরুদ্ধে বিচার শুরু হয়।
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে থাকা সব মামলা থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। উল্লেখ্য, ২০০৮ সাল থেকে লন্ডনে অবস্থানরত তারেক রহমান অনুপস্থিতিতে একাধিক মামলায় দণ্ডিত হয়েছিলেন। এর মধ্যে বহুল আলোচিত ছিল ২০০৪ সালের গ্রেনেড হামলা মামলা, যেখানে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তবে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আদালত থেকে মুক্তি পান।
তারেক রহমানের বক্তব্য ও খালেদা জিয়ার অসুস্থতা
বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান বলেন, “সময় এসেছে, ইনশাআল্লাহ, আমি শিগগিরই ফিরে আসব। হয়ত কিছু ব্যক্তিগত কারণে এখনও ফিরতে পারিনি। কিন্তু এটি এমন একটি নির্বাচন, যার জন্য মানুষ অপেক্ষা করছিল। আমি এই সময় নিজেকে দূরে রাখতে পারব না।”
এদিকে, তার মা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ। তারেক রহমান জানিয়েছেন, তিনি সুস্থ অবস্থায় জেলে গেলেও অসুস্থ অবস্থায় ফিরেছেন এবং চিকিৎসার অধিকার থেকেও বঞ্চিত ছিলেন। তবে তিনি আশাবাদী যে স্বাস্থ্যের উন্নতি হলে খালেদা জিয়া অবশ্যই নির্বাচনে কোনো না কোনোভাবে ভূমিকা রাখবেন।
বিএনপি আশাবাদী যে তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনে দলটির পুনর্জাগরণের নতুন অধ্যায় শুরু হবে এবং আসন্ন নির্বাচন তাদের জন্য বিজয় বয়ে আনবে।

সর্বাধিক পঠিত

ঈদ পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময়ে নুরুজ্জামান লিটনের সঙ্গে বাগআঁচড়া বিএনপি নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ

দীর্ঘ নির্বাসন শেষে দেশে ফিরছেন তারেক রহমান: অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি

আপডেট: ১২:০৯:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ অক্টোবর ২০২৫

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রায় দুই দশক পর দীর্ঘ নির্বাসন ভেঙে দেশে ফিরছেন। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে তিনি লন্ডন থেকে ফেরার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছেলে এবং বিএনপির কার্যত প্রধান নেতা, ৫৯ বছর বয়সী তারেক রহমান, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট জানিয়েছে।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও মামলার অব্যাহতি
গত বছর দেশে এক বিশাল গণ-অভ্যুত্থানের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতা ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। এই রাজনৈতিক শূন্যতার মধ্যে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়। আন্দোলন চলাকালীন সহিংসতায় প্রায় ১,৪০০ মানুষের প্রাণহানি ঘটে। এর ধারাবাহিকতায় আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয় এবং শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে তার বিরুদ্ধে বিচার শুরু হয়।
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে থাকা সব মামলা থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। উল্লেখ্য, ২০০৮ সাল থেকে লন্ডনে অবস্থানরত তারেক রহমান অনুপস্থিতিতে একাধিক মামলায় দণ্ডিত হয়েছিলেন। এর মধ্যে বহুল আলোচিত ছিল ২০০৪ সালের গ্রেনেড হামলা মামলা, যেখানে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তবে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আদালত থেকে মুক্তি পান।
তারেক রহমানের বক্তব্য ও খালেদা জিয়ার অসুস্থতা
বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান বলেন, “সময় এসেছে, ইনশাআল্লাহ, আমি শিগগিরই ফিরে আসব। হয়ত কিছু ব্যক্তিগত কারণে এখনও ফিরতে পারিনি। কিন্তু এটি এমন একটি নির্বাচন, যার জন্য মানুষ অপেক্ষা করছিল। আমি এই সময় নিজেকে দূরে রাখতে পারব না।”
এদিকে, তার মা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ। তারেক রহমান জানিয়েছেন, তিনি সুস্থ অবস্থায় জেলে গেলেও অসুস্থ অবস্থায় ফিরেছেন এবং চিকিৎসার অধিকার থেকেও বঞ্চিত ছিলেন। তবে তিনি আশাবাদী যে স্বাস্থ্যের উন্নতি হলে খালেদা জিয়া অবশ্যই নির্বাচনে কোনো না কোনোভাবে ভূমিকা রাখবেন।
বিএনপি আশাবাদী যে তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনে দলটির পুনর্জাগরণের নতুন অধ্যায় শুরু হবে এবং আসন্ন নির্বাচন তাদের জন্য বিজয় বয়ে আনবে।