মেহেদী হাসান,
যশোরের রাজারহাট রেল ক্রসিং এলাকায় পুলিশ পরিচয়ে সাড়ে ১৯ ভরি স্বর্ণালংকার ডাকাতির ঘটনায় আরও চারজন আসামিকে আটক করেছে ডিবি পুলিশ। আটককৃতদের মধ্যে একজন সাতক্ষীরার দেবহাটা থানায় কর্মরত পুলিশ সদস্য রায়হানুল হক। আটক হওয়ার পর তিনি ডাকাতির সঙ্গে নিজের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
এই ঘটনায় এ পর্যন্ত মোট নয়জনকে আটক করা হলো। যশোর জেলা পুলিশ আটককৃতদের আদালতে সোপর্দ করেছে। এদিকে, অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য রায়হানুল হকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা হিসেবে সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে এবং একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
আটককৃতদের পরিচয়:
আটক চারজনের মধ্যে রয়েছেন:
১. পুলিশ সদস্য রায়হানুল হক (কুষ্টিয়ার মীরপুর)।
২. গৌরাঙ্গ সরকার (সাতক্ষীরা সদর)।
৩. বিকাশ মজুমদার বাবু (সাতক্ষীরা সদর)।
৪. মাহিন রহমান শাওন (সাতক্ষীরা সদর)।
ডাকাতির ঘটনা ও তদন্তের অগ্রগতি:
গত ১৪ জুলাই, সাতক্ষীরার এক স্বর্ণ দোকানের মালিকের শ্যালক ও কর্মচারী যশোর থেকে স্বর্ণ কিনে প্রাইভেটকারে সাতক্ষীরার দিকে যাচ্ছিলেন। রাজারহাট রেল ক্রসিং এলাকায় পৌঁছালে অজ্ঞাতনামা কয়েকজন নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে তাদের গাড়ি থামিয়ে চোখ বেঁধে ও হ্যান্ডকাফ পরিয়ে ১৯ ভরি ৮ আনা স্বর্ণালংকার, নগদ ২৬ হাজার টাকা ও ৪টি মোবাইল ফোন ডাকাতি করে নিয়ে যায়। এই ঘটনায় ১৫ জুলাই কোতোয়ালি থানায় মামলা হয়।
মামলার তদন্তে নেমে ডিবি পুলিশ খুলনা ও ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন জেলায় অভিযান চালিয়ে প্রথমে নিশান হোসেন ও মো. উজ্জ্বল হোসেনকে গ্রেপ্তার করে। তাদের কাছ থেকে গলানো রূপে ৫ ভরি ১১ আনা স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী রতন শেখ ও মুসাব্বির হোসেন টুটুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের হেফাজত থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত হ্যান্ডকাফ, ওয়াকি-টকি, কসটেপ এবং একটি সাদা প্রাইভেটকার উদ্ধার করা হয়।
এরপরই বেরিয়ে আসে মূল রহস্য। একজন আসামির তথ্য অনুযায়ী, এই ঘটনার সঙ্গে পুলিশ কনস্টেবল রায়হানুল হক জড়িত। পরে রায়হানুল হকসহ আরও চারজনকে আটক করা হয়।
আদালতে স্বীকারোক্তি:
সোমবার আটককৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হলে পুলিশ কনস্টেবল রায়হানুল হক ও মাহিন রহমান শাওন ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে তারা জানান, রায়হানুল হক সাদা পোশাকে ডাকাতির সময় মোটরসাইকেলে তার সঙ্গী ছিলেন মাহিন রহমান শাওন। অন্যদিকে, জুয়েলারি ব্যবসায়ী গৌরাঙ্গ সরকার ও বিকাশ মজুমদার বাবু স্বর্ণ ক্রয়ের তথ্য ডাকাতদের গোপন সূত্রে সরবরাহ করেছিলেন। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আদালত আটক চারজনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পুলিশের বক্তব্য:
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা অলোক কুমার দে জানান, এ পর্যন্ত মোট নয়জনকে আটক করা হয়েছে এবং ৫ ভরি ১১ আনা সোনা উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটিত হলেও মাস্টারমাইন্ডদের একজন এখনো আত্মগোপনে রয়েছে, যাকে দ্রুত আটক করে চার্জশিট জমা দেওয়া হবে।
যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আবুল বাশার জানান, যশোর জেলা পুলিশ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখেছে এবং সাফল্য অর্জন করেছে। তিনি বলেন, অপরাধী যেই হোক, যশোর জেলা পুলিশ কাউকে ছাড় দেবে না।
সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, পুলিশ অপরাধীকে অপরাধী হিসেবেই দেখবে। ইতোমধ্যে রায়হানুল হককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ বিষয়ে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
০৪:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬
শিরোনাম:
যশোরে পুলিশ পরিচয়ে ডাকাতির ঘটনায় আরও চারজন আটক: জড়িত সাতক্ষীরার পুলিশ সদস্য
-
নিউজ ডেস্ক - আপডেট: ০৮:২৫:৫৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ অক্টোবর ২০২৫
- ৫৮০
সর্বাধিক পঠিত



























