০১:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬
ট্রানজিট রুট ব্যবহার করে ভারতে ইলিশ পাচার: খবর প্রকাশের পর রপ্তানি বন্ধ

ট্রানজিট রুট ব্যবহার করে ভারতে ইলিশ পাচার: খবর প্রকাশের পর রপ্তানি বন্ধ

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৯:১৮:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ৫৮২

বাংলাদেশ থেকে ইলিশ ভারতে রপ্তানি করে তা তৃতীয় কোনো দেশে পাচারের খবর প্রকাশ হওয়ার পর ইলিশ রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ‘যুগান্তর’ পত্রিকায় এই বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে ইলিশ রপ্তানিকারকরা তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দেন।
পাচারের পদ্ধতি
জানা গেছে, বাংলাদেশের কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে ইলিশের ট্রানজিট রুট হিসেবে ভারতকে ব্যবহার করে আসছিল। তারা দেশের বাজার থেকে প্রতি কেজি ইলিশ ১৯০০ থেকে ২০০০ টাকা দরে কিনে তা ভারতে পাঠাত, যেখানে রপ্তানি মূল্য ধরা হয় মাত্র ১৫২৫ টাকা। ফলে আপাতদৃষ্টিতে প্রতি কেজিতে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা লোকসান হতো। কিন্তু এই ইলিশ ভারতে সামান্য বিক্রি হলেও বেশিরভাগই সেখান থেকে পুনরায় সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার মতো বিভিন্ন দেশে কেজিপ্রতি ৪০-৪৫ ডলারে (প্রায় ৪২০০-৪৭০০ টাকা) রপ্তানি করা হতো। এতে প্রতি কেজিতে তাদের লাভ হতো ২০ থেকে ২৪ ডলার বা প্রায় ২৮০০ টাকা।
কলকাতার কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর সহায়তায় বাংলাদেশের চারজন রপ্তানিকারকের সেখানে আড়ত ও ফ্ল্যাট থাকারও তথ্য পাওয়া গেছে। তারা ভারতীয় ব্যবসায়ীর লাইসেন্স ব্যবহার করে এই পাচার কার্যক্রম চালাতো।
রপ্তানি বন্ধের কারণ
বেনাপোল ফিশ কোয়ারেন্টাইন বিভাগের কর্মকর্তা আকসাদুল ইসলাম জানান, রোববার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত বৈধভাবে কোনো ইলিশ সীমান্ত পার হয়নি। বেনাপোল স্থলবন্দরের এক কর্মকর্তা জানান, রোববার দুটি ইলিশবোঝাই ট্রাক বন্দরে এলেও রহস্যজনক কারণে পরে তা ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
রপ্তানিকারকরা দাবি করছেন, দেশের বাজারে ইলিশের উচ্চ মূল্য এবং ভারতে রপ্তানির কম মূল্যই এই রপ্তানি বন্ধের কারণ। তবে ‘যুগান্তর’-এর অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে যে, পাচারের খবর ফাঁস হয়ে যাওয়ার কারণেই তারা রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে।
ব্যবসায়ীদের প্রতিক্রিয়া
সেভেন স্টার ফিশ প্রসেসিং করপোরেশনের বরিশাল প্রতিনিধি কামাল হোসেন বলেন, ক্রয়মূল্যের চেয়ে রপ্তানিমূল্য কম হওয়ায় তারা দুই ট্রাক ইলিশ ভারতে না পাঠিয়ে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে দিয়েছেন। এই বিষয়ে বাংলাদেশ ফিশ এক্সপোর্টার্স অ্যান্ড ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নিজামউদ্দিন বলেন, রপ্তানি বন্ধের এই কারণটি সরকারের খতিয়ে দেখা উচিত।
তবে বরিশাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি এবায়েদুল হক চান বলেন, “বেশ বড় একটা সিন্ডিকেট বহুদিন ধরে এই অপকর্ম করছে। এবার সব ফাঁস হওয়ায় তারা রপ্তানি বন্ধ করে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে।”

সর্বাধিক পঠিত

বিজিবি ও স্থানীয়দের প্রতিবাদে পঞ্চগড় সীমান্ত থেকে ১০ জনকে সরিয়ে নিল বিএসএফ

ট্রানজিট রুট ব্যবহার করে ভারতে ইলিশ পাচার: খবর প্রকাশের পর রপ্তানি বন্ধ

ট্রানজিট রুট ব্যবহার করে ভারতে ইলিশ পাচার: খবর প্রকাশের পর রপ্তানি বন্ধ

আপডেট: ০৯:১৮:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশ থেকে ইলিশ ভারতে রপ্তানি করে তা তৃতীয় কোনো দেশে পাচারের খবর প্রকাশ হওয়ার পর ইলিশ রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ‘যুগান্তর’ পত্রিকায় এই বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে ইলিশ রপ্তানিকারকরা তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দেন।
পাচারের পদ্ধতি
জানা গেছে, বাংলাদেশের কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে ইলিশের ট্রানজিট রুট হিসেবে ভারতকে ব্যবহার করে আসছিল। তারা দেশের বাজার থেকে প্রতি কেজি ইলিশ ১৯০০ থেকে ২০০০ টাকা দরে কিনে তা ভারতে পাঠাত, যেখানে রপ্তানি মূল্য ধরা হয় মাত্র ১৫২৫ টাকা। ফলে আপাতদৃষ্টিতে প্রতি কেজিতে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা লোকসান হতো। কিন্তু এই ইলিশ ভারতে সামান্য বিক্রি হলেও বেশিরভাগই সেখান থেকে পুনরায় সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার মতো বিভিন্ন দেশে কেজিপ্রতি ৪০-৪৫ ডলারে (প্রায় ৪২০০-৪৭০০ টাকা) রপ্তানি করা হতো। এতে প্রতি কেজিতে তাদের লাভ হতো ২০ থেকে ২৪ ডলার বা প্রায় ২৮০০ টাকা।
কলকাতার কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর সহায়তায় বাংলাদেশের চারজন রপ্তানিকারকের সেখানে আড়ত ও ফ্ল্যাট থাকারও তথ্য পাওয়া গেছে। তারা ভারতীয় ব্যবসায়ীর লাইসেন্স ব্যবহার করে এই পাচার কার্যক্রম চালাতো।
রপ্তানি বন্ধের কারণ
বেনাপোল ফিশ কোয়ারেন্টাইন বিভাগের কর্মকর্তা আকসাদুল ইসলাম জানান, রোববার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত বৈধভাবে কোনো ইলিশ সীমান্ত পার হয়নি। বেনাপোল স্থলবন্দরের এক কর্মকর্তা জানান, রোববার দুটি ইলিশবোঝাই ট্রাক বন্দরে এলেও রহস্যজনক কারণে পরে তা ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
রপ্তানিকারকরা দাবি করছেন, দেশের বাজারে ইলিশের উচ্চ মূল্য এবং ভারতে রপ্তানির কম মূল্যই এই রপ্তানি বন্ধের কারণ। তবে ‘যুগান্তর’-এর অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে যে, পাচারের খবর ফাঁস হয়ে যাওয়ার কারণেই তারা রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে।
ব্যবসায়ীদের প্রতিক্রিয়া
সেভেন স্টার ফিশ প্রসেসিং করপোরেশনের বরিশাল প্রতিনিধি কামাল হোসেন বলেন, ক্রয়মূল্যের চেয়ে রপ্তানিমূল্য কম হওয়ায় তারা দুই ট্রাক ইলিশ ভারতে না পাঠিয়ে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে দিয়েছেন। এই বিষয়ে বাংলাদেশ ফিশ এক্সপোর্টার্স অ্যান্ড ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নিজামউদ্দিন বলেন, রপ্তানি বন্ধের এই কারণটি সরকারের খতিয়ে দেখা উচিত।
তবে বরিশাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি এবায়েদুল হক চান বলেন, “বেশ বড় একটা সিন্ডিকেট বহুদিন ধরে এই অপকর্ম করছে। এবার সব ফাঁস হওয়ায় তারা রপ্তানি বন্ধ করে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে।”