খাগড়াছড়িতে ১২ বছর বয়সী কিশোরী ধর্ষণকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সহিংস পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পাহাড়ি, বাঙালি ও বিভিন্ন পক্ষ থেকে শান্তি প্রতিষ্ঠা, বিচার বিভাগীয় তদন্ত এবং সামরিক নিরাপত্তা বৃদ্ধির দাবি উঠেছে। এরই মধ্যে ‘জুম্ম ছাত্র-জনতা’ আট দফা দাবিতে তিন পার্বত্য জেলায় অনির্দিষ্টকালের জন্য সড়ক অবরোধের ডাক দিয়েছে।
গোলাগুলির ঘটনা ও সেনার তৎপরতা
সংঘর্ষের একপর্যায়ে সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যস্ত থাকা সেনাসদস্যদের লক্ষ্য করে ১০০ থেকে ১৫০ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে। এতে এলাকার বেশ কয়েকজন বাসিন্দা গুলিবিদ্ধ হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনাবাহিনীর টহল দল দ্রুত সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের ধাওয়া করতে ওই এলাকায় গেলে সশস্ত্র দলটি দ্রুত এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়।
শান্তি প্রতিষ্ঠার আহ্বান সুপ্রদীপ চাকমার
পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা পাহাড়ি-বাঙালি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। গতকাল দুপুরে খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে বিশেষ আইনশৃঙ্খলা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, জানমালের ক্ষয়ক্ষতি রোধে প্রশাসনকে কঠোরভাবে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, পাহাড়ে শুধু সরকারি বাহিনীর কাছেই অস্ত্র থাকবে এবং চাঁদাবাজির কারণে এই অঞ্চলে যে উন্নয়নে ব্যাঘাত ঘটছে, সে বিষয়ে প্রশাসনকে কঠোর অবস্থান নিতে হবে। তিনি ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সবাইকে সতর্ক থাকারও পরামর্শ দেন।
টিআইবি’র বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) খাগড়াছড়িতে কিশোরী ধর্ষণের প্রতিবাদে চলা আন্দোলনে ব্যাপক সহিংসতা ও হতাহতের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি অবিলম্বে এ ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানায়।
টিআইবি উল্লেখ করে, গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী গত এক বছরে এ জেলায় সাতজন আদিবাসী নারী ধর্ষণের শিকার হলেও এখন পর্যন্ত কোনো ঘটনার বিচার হয়নি। তারা প্রশ্ন তোলেন, “এ অবস্থায় ফের কিশোরীকে বর্বরোচিত ধর্ষণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ন্যায়বিচারের দাবিতে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর যৌক্তিক আন্দোলন কি অপরাধ?” সংস্থাটি ধর্ষণকারীদের শাস্তির পাশাপাশি আন্দোলনকে সহিংস রূপ দেওয়ার পেছনে জড়িত কুশীলবদের খুঁজে বের করার দাবি জানায়।
ঐক্য পরিষদের সহিংসতা বন্ধের আহ্বান
বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ খাগড়াছড়ির সহিংসতা অনতিবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তারা দুষ্কৃতকারীদের গ্রেপ্তার, ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ ও আহতদের সুচিকিৎসার জোর দাবি জানায়।
সামরিক নিরাপত্তা বৃদ্ধির পক্ষে হেফাজতে ইসলাম
গুইমারায় সেনাবাহিনীর ওপর সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। সংগঠনের আমির মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব সাজেদুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় পার্বত্য চট্টগ্রামে সামরিক নিরাপত্তা পদক্ষেপ আরও বাড়াতে হবে। তারা অভিযোগ করেন, পার্বত্য অঞ্চলকে মুসলিম-অধ্যুষিত বাংলাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ‘খ্রিষ্টান রাষ্ট্র’ বানানোর আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র বহু পুরোনো এবং দেশপ্রেমিক জনগণ সেনাবাহিনী ও বিজিবির পাশে আছে।
তিন পার্বত্য জেলায় অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ
এদিকে, ‘জুম্ম ছাত্র-জনতা’ আট দফা দাবিতে তিন পার্বত্য জেলায় অনির্দিষ্টকালের জন্য সড়ক অবরোধের ডাক দিয়েছে। এই অবরোধ চলাকালে সব পর্যটন কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ থাকবে। গতকাল সন্ধ্যায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তারা এই ঘোষণা দেয়।
তাদের আট দফা দাবির মধ্যে রয়েছে:
১. ধর্ষণ মামলার অবশিষ্ট দুই আসামিকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া।
২. ২৭ ও ২৮ সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়ি ও গুইমারায় ঘটে যাওয়া লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার তদন্ত করা।
৩. জুম্ম ছাত্র-জনতার ওপর সংঘটিত হামলা, দোকানপাট ও বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগে সৃষ্ট ক্ষতির পূর্ণ ক্ষতিপূরণ প্রদান।
৪. চলমান আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে আটককৃত সবাইকে মুক্তি দেওয়া এবং ১৪৪ ধারা বাতিল করা।
০৪:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬
শিরোনাম:
খাগড়াছড়ি সহিংসতা: শান্তিস্থাপনের আহ্বান, সামরিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি ও সড়ক অবরোধ
-
নিউজ ডেস্ক - আপডেট: ১০:৫৮:০৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- ৫৯৬
সর্বাধিক পঠিত



























