১১:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

বিনা স্বার্থে সেবা দেওয়ায় হয়রানির অভিযোগ: নিজের অবস্থান তুলে ধরলেন ভেটেরিনারি কর্মচারী জাহাঙ্গীর আলম

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৯:৫৫:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬
  • ৫০৮

পটুয়াখালী জেলা ভেটেরিনারি হাসপাতালের অফিস সহকারী জাহাঙ্গীর আলম দাবি করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে জনবল সংকটের কারণে প্রান্তিক খামারিদের কথা বিবেচনা করে তিনি বিনা স্বার্থে প্রাথমিক চিকিৎসা-সংক্রান্ত সহযোগিতা করে আসছেন। তবে এ কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর ভিডিও প্রকাশ করে তাকে হয়রানির চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

জাহাঙ্গীর আলম জানান, ‘সিকদার ভেটেরিনারি মেডিসিন পয়েন্ট’ নামে একটি ওষুধের দোকান তার শ্যালিকার মালিকানাধীন এবং সেটি পরিচালনা করেন তার ছেলে। গত ১১ মে ২০২৬ তারিখে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে মৎস্য ও পশুখাদ্য আইন, ২০১০-এর ১৪(২) ধারায় ওই প্রতিষ্ঠানে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

তার অভিযোগ, অভিযানের পর একজন ব্যক্তি ধারণ করা ভিডিও ফুটেজ ব্যবহার করে পরদিন একটি ফেসবুক পেজে বিভ্রান্তিকর শিরোনামে ভিডিও প্রকাশ করেন। সেখানে জরিমানার প্রকৃত কারণ উল্লেখ না করে সরকারি ওষুধ বিক্রির অভিযোগ তুলে তার ব্যক্তিগত ও পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ন করা হয়।

জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ওই ভিডিওটি মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। পরিবার ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা মানহানির মামলা করার পরামর্শ দিলেও তিনি বিষয়টি আইনি পথে না নিয়ে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, কিছুদিন পর একই ফেসবুক পেজে আরেকটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়, যা পরিকল্পিতভাবে তাকে বিতর্কিত করার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে নিজের বক্তব্যে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ঘটনার দিন তার অসুস্থ বাবার কাছে যেতে অফিস থেকে মৌখিক ছুটি নিয়ে বরিশালে যান। এ সময় তার ছেলে জাহিদুল জ্বরে আক্রান্ত অবস্থায় খালার ওষুধের দোকানে বিশ্রাম নিচ্ছিল। পরে জেলা ভেটেরিনারি অফিসের এক সহকর্মী তাকে অফিসে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে বসার কিছুক্ষণ পর কয়েকজন এসে ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করেন।

জাহাঙ্গীর আলমের দাবি, তার ছেলেকে অফিসে ডেকে নেওয়ার বিষয়টির সাক্ষ্য-প্রমাণ রয়েছে। দোকানের এক কর্মচারীও জানান, জাহিদ দোকানের পেছনের কক্ষে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন এবং অফিস থেকে ডেকে নেওয়ার পর তিনি সেখানে যান।

এদিকে জেলা ভেটেরিনারি হাসপাতালের আশপাশের কয়েকজন ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা জাহাঙ্গীর আলম সম্পর্কে ইতিবাচক মন্তব্য করেন। তাদের দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে খামারি ও সাধারণ মানুষের পাশে থেকে সেবা দিয়ে আসছেন। তারা প্রকাশিত ভিডিওগুলোকে পরিকল্পিত বলে অভিহিত করে এর নিন্দা জানান এবং তাকে স্বপদে বহাল রাখার দাবি করেন।

জাহাঙ্গীর আলম তার বিরুদ্ধে প্রচারিত অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং যারা তার মানহানির চেষ্টা করেছে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে প্রচারিত তথ্যকে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর উল্লেখ করে এর প্রতিবাদ জানান তিনি।

সর্বাধিক পঠিত

মিঠাপুকুরে সরকারি রাস্তা উদ্ধার না হওয়ায় ক্ষোভ, এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগ

বিনা স্বার্থে সেবা দেওয়ায় হয়রানির অভিযোগ: নিজের অবস্থান তুলে ধরলেন ভেটেরিনারি কর্মচারী জাহাঙ্গীর আলম

আপডেট: ০৯:৫৫:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

পটুয়াখালী জেলা ভেটেরিনারি হাসপাতালের অফিস সহকারী জাহাঙ্গীর আলম দাবি করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে জনবল সংকটের কারণে প্রান্তিক খামারিদের কথা বিবেচনা করে তিনি বিনা স্বার্থে প্রাথমিক চিকিৎসা-সংক্রান্ত সহযোগিতা করে আসছেন। তবে এ কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর ভিডিও প্রকাশ করে তাকে হয়রানির চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

জাহাঙ্গীর আলম জানান, ‘সিকদার ভেটেরিনারি মেডিসিন পয়েন্ট’ নামে একটি ওষুধের দোকান তার শ্যালিকার মালিকানাধীন এবং সেটি পরিচালনা করেন তার ছেলে। গত ১১ মে ২০২৬ তারিখে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে মৎস্য ও পশুখাদ্য আইন, ২০১০-এর ১৪(২) ধারায় ওই প্রতিষ্ঠানে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

তার অভিযোগ, অভিযানের পর একজন ব্যক্তি ধারণ করা ভিডিও ফুটেজ ব্যবহার করে পরদিন একটি ফেসবুক পেজে বিভ্রান্তিকর শিরোনামে ভিডিও প্রকাশ করেন। সেখানে জরিমানার প্রকৃত কারণ উল্লেখ না করে সরকারি ওষুধ বিক্রির অভিযোগ তুলে তার ব্যক্তিগত ও পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ন করা হয়।

জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ওই ভিডিওটি মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। পরিবার ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা মানহানির মামলা করার পরামর্শ দিলেও তিনি বিষয়টি আইনি পথে না নিয়ে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, কিছুদিন পর একই ফেসবুক পেজে আরেকটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়, যা পরিকল্পিতভাবে তাকে বিতর্কিত করার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে নিজের বক্তব্যে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ঘটনার দিন তার অসুস্থ বাবার কাছে যেতে অফিস থেকে মৌখিক ছুটি নিয়ে বরিশালে যান। এ সময় তার ছেলে জাহিদুল জ্বরে আক্রান্ত অবস্থায় খালার ওষুধের দোকানে বিশ্রাম নিচ্ছিল। পরে জেলা ভেটেরিনারি অফিসের এক সহকর্মী তাকে অফিসে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে বসার কিছুক্ষণ পর কয়েকজন এসে ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করেন।

জাহাঙ্গীর আলমের দাবি, তার ছেলেকে অফিসে ডেকে নেওয়ার বিষয়টির সাক্ষ্য-প্রমাণ রয়েছে। দোকানের এক কর্মচারীও জানান, জাহিদ দোকানের পেছনের কক্ষে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন এবং অফিস থেকে ডেকে নেওয়ার পর তিনি সেখানে যান।

এদিকে জেলা ভেটেরিনারি হাসপাতালের আশপাশের কয়েকজন ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা জাহাঙ্গীর আলম সম্পর্কে ইতিবাচক মন্তব্য করেন। তাদের দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে খামারি ও সাধারণ মানুষের পাশে থেকে সেবা দিয়ে আসছেন। তারা প্রকাশিত ভিডিওগুলোকে পরিকল্পিত বলে অভিহিত করে এর নিন্দা জানান এবং তাকে স্বপদে বহাল রাখার দাবি করেন।

জাহাঙ্গীর আলম তার বিরুদ্ধে প্রচারিত অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং যারা তার মানহানির চেষ্টা করেছে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে প্রচারিত তথ্যকে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর উল্লেখ করে এর প্রতিবাদ জানান তিনি।