০৭:৫০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
মণিরামপুরে নিজের মেয়েকে হত্যা করে লাশ পুকুরে ফেলে দেন বাবা

মণিরামপুরে নিজের মেয়েকে হত্যা করে লাশ পুকুরে ফেলে দেন বাবা

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৯:০২:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ৫৬৫

যশোরের মনিরামপুরে রুটি চুরির অভিযোগের পর ১৩ বছর বয়সী মেয়েকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছেন বাবা। নিহত কিশোরীর নাম মাহমুদা সিদ্দিকা। আটক হওয়ার পর ঘাতক বাবা মাওলানা আয়নুল হক নিজেই এ হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। মণিরামপুর থানা পুলিশ তাকে আটকের পর ঘটনার বিস্তারিত জানতে পারে।
পুলিশ জানায়, গত ৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে স্থানীয় একটি দোকান থেকে মাহমুদার বিরুদ্ধে রুটি চুরির অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনা জানার পর প্রথমে মাহমুদার মা সবার সামনে তাকে জুতা পেটা করেন। পরে বাড়িতে ফিরে বাবা আয়নুল হকও ক্ষিপ্ত হয়ে মাহমুদা-কে মারধর করেন। একপর্যায়ে তিনি গলা টিপে ধরলে শ্বাসরোধ হয়ে মারা যায় মাহমুদা।
হত্যার পর আয়নুল হক প্রথমে মেয়ের লাশ বাড়ির পাশের একটি পুকুর পাড়ের ঝোপে ফেলে রাখেন। পরে এশার নামাজের পর তিনি লাশটি পুকুরে ফেলে দেন। এ সময় তিনি মেয়ের পায়জামা ও ওড়নাও পুকুরে ফেলে দেন। ৯ সেপ্টেম্বর সকালে স্থানীয়রা ওই পুকুর থেকে বিবস্ত্র অবস্থায় লাশ উদ্ধার করে পুলিশকে জানায়।
প্রাথমিক ময়নাতদন্তে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হলেও পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে যে ধর্ষণের কোনো ঘটনা ঘটেনি। তাই মামলা থেকে ধর্ষণের ধারা বাদ যাবে। ঘটনার পর থেকে আয়নুল হক পলাতক ছিলেন। পুলিশ কৌশল করে তার স্ত্রী শাহিনুর আক্তারকে থানায় ডেকে পাঠায় এবং স্বামীকে হাজির করতে বলে। পরে স্ত্রী স্বামীকে বাড়িতে ডেকে আনেন এবং থানায় নিয়ে গেলে পুলিশ আয়নুল হককে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি তার মেয়েকে হত্যার কথা স্বীকার করেন।
আয়নুল হক স্থানীয় একটি মসজিদের ইমাম। তিনি স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে রোহিতা বাজার এলাকায় বসবাস করতেন। নিহত মাহমুদা ছিল তাদের মেজ মেয়ে এবং স্থানীয় একটি কওমি মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী।

সর্বাধিক পঠিত

যশোরে জমি সংক্রান্ত বিরোধে ভুক্তভোগী পরিবারের সংবাদ সম্মেলন:

মণিরামপুরে নিজের মেয়েকে হত্যা করে লাশ পুকুরে ফেলে দেন বাবা

মণিরামপুরে নিজের মেয়েকে হত্যা করে লাশ পুকুরে ফেলে দেন বাবা

আপডেট: ০৯:০২:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫

যশোরের মনিরামপুরে রুটি চুরির অভিযোগের পর ১৩ বছর বয়সী মেয়েকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছেন বাবা। নিহত কিশোরীর নাম মাহমুদা সিদ্দিকা। আটক হওয়ার পর ঘাতক বাবা মাওলানা আয়নুল হক নিজেই এ হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। মণিরামপুর থানা পুলিশ তাকে আটকের পর ঘটনার বিস্তারিত জানতে পারে।
পুলিশ জানায়, গত ৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে স্থানীয় একটি দোকান থেকে মাহমুদার বিরুদ্ধে রুটি চুরির অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনা জানার পর প্রথমে মাহমুদার মা সবার সামনে তাকে জুতা পেটা করেন। পরে বাড়িতে ফিরে বাবা আয়নুল হকও ক্ষিপ্ত হয়ে মাহমুদা-কে মারধর করেন। একপর্যায়ে তিনি গলা টিপে ধরলে শ্বাসরোধ হয়ে মারা যায় মাহমুদা।
হত্যার পর আয়নুল হক প্রথমে মেয়ের লাশ বাড়ির পাশের একটি পুকুর পাড়ের ঝোপে ফেলে রাখেন। পরে এশার নামাজের পর তিনি লাশটি পুকুরে ফেলে দেন। এ সময় তিনি মেয়ের পায়জামা ও ওড়নাও পুকুরে ফেলে দেন। ৯ সেপ্টেম্বর সকালে স্থানীয়রা ওই পুকুর থেকে বিবস্ত্র অবস্থায় লাশ উদ্ধার করে পুলিশকে জানায়।
প্রাথমিক ময়নাতদন্তে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হলেও পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে যে ধর্ষণের কোনো ঘটনা ঘটেনি। তাই মামলা থেকে ধর্ষণের ধারা বাদ যাবে। ঘটনার পর থেকে আয়নুল হক পলাতক ছিলেন। পুলিশ কৌশল করে তার স্ত্রী শাহিনুর আক্তারকে থানায় ডেকে পাঠায় এবং স্বামীকে হাজির করতে বলে। পরে স্ত্রী স্বামীকে বাড়িতে ডেকে আনেন এবং থানায় নিয়ে গেলে পুলিশ আয়নুল হককে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি তার মেয়েকে হত্যার কথা স্বীকার করেন।
আয়নুল হক স্থানীয় একটি মসজিদের ইমাম। তিনি স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে রোহিতা বাজার এলাকায় বসবাস করতেন। নিহত মাহমুদা ছিল তাদের মেজ মেয়ে এবং স্থানীয় একটি কওমি মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী।