সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে ১৮১৮ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আমলে স্থাপিত বলে ধারণা করা একটি ঐতিহাসিক সীমানা পিলার উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে পিলারটি বিক্রির চেষ্টার অভিযোগে চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া পিলারটির বয়স প্রায় ২০৮ বছর বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
শুক্রবার (৬ জুন) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার খেশরা ইউনিয়নের কলাগাছি গ্রামে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন— কলাগাছি গ্রামের মৃত চতুর চন্দ্র সানার ছেলে ভোলানাথ সানা (৬০), খুলনার পাইকগাছা উপজেলার লস্কার গ্রামের সুনীল সরদারের ছেলে তুষার কান্তি সরদার (৩৫), একই গ্রামের বিমল কৃষ্ণ সরদারের ছেলে সুশান্ত সরদার (৪২) এবং বটিয়াঘাটা উপজেলার সুন্দর মহল গ্রামের মৃত ধীরেন্দ্রনাথ সরকারের ছেলে যাদব সরকার (৪২)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন যে কলাগাছি গ্রামের একটি বাড়িতে বহু পুরোনো ও ঐতিহাসিক গুরুত্বসম্পন্ন একটি সীমানা পিলার গোপনে বিক্রির প্রস্তুতি চলছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে তালা থানা পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে ভোলানাথ সানার বসতবাড়ির পাশের একটি মাটির ঘরের নিচে সংরক্ষিত অবস্থায় পিলারটি উদ্ধার করে।
অভিযান চলাকালে ঘটনাস্থল থেকে চারজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক করা হয়। পুলিশ ধারণা করছে, তারা পিলারটি অবৈধভাবে বিক্রির চেষ্টা করছিলেন।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া সীমানা পিলারটি ১৮১৮ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনামলে স্থাপন করা হয়েছিল। তবে এর প্রকৃত ইতিহাস, অবস্থান ও প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত হতে বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় আরও তদন্ত করা হবে।
স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের ঐতিহাসিক নিদর্শন এলাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই এর যথাযথ সংরক্ষণ ও গবেষণার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
তালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, “একটি পুরোনো সীমানা পিলারসহ চারজনকে আটক করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। পিলারটির ঐতিহাসিক মূল্য ও উৎস যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে। তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উদ্ধার হওয়া ঐতিহাসিক পিলারটি বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।




















