০১:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬

রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় সোহেল-স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড,

রাজধানীর পল্লবীতে বহুল আলোচিত শিশু রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে সোহেল রানাকে ৫ লাখ টাকা এবং স্বপ্না খাতুনকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

রোববার (৭ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন প্রায় ৪০ মিনিট ধরে রায় পাঠ শেষে এ আদেশ ঘোষণা করেন।

রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, সোহেল রানা শিশু রামিসাকে হত্যার আগে ধর্ষণ করে এবং তদন্তে তার সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়া জবানবন্দীতে সে ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করে। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, ঘটনার পর আসামি সোহেল রানাকে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করেন তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুন। পরবর্তীতে তারা কেউই নিজেদের স্বীকারোক্তি প্রত্যাহারের আবেদন করেননি।

আদালত আরও বলেন, এমন নৃশংস অপরাধের যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত না হলে বিচারব্যবস্থা ব্যর্থ হবে। আসামিদের অপরাধ সংশোধনযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন বিচারক।

রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে নেওয়া হয় কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুনকে আদালতে আনা হয় এবং পরে তাদের হাজতখানায় রাখা হয়।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত ৭ জুন রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন। দেশের ইতিহাসে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচারকাজ মাত্র চার কার্যদিবসে শেষ হওয়ার এটিই প্রথম ঘটনা বলে জানা গেছে। মামলায় মোট ১৬ জন সাক্ষ্য দেন।

রাষ্ট্রপক্ষ দাবি করে, আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে এবং তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রাপ্য। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী সোহেল রানার মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আবেদন জানান।

উল্লেখ্য, গত ১৯ মে পল্লবীতে প্রতিবেশী সোহেল রানার বাসা থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী, ৮ বছর বয়সী রামিসা আক্তারের শিরশ্ছেদ করা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন তার বাবা পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। ঘটনার সাত ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ এবং ছয় দিনের মাথায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। পরে ১ জুন মামলার বিচার শুরু হয় এবং ২ জুন পরিবার, প্রত্যক্ষদর্শী, চিকিৎসক, পুলিশ কর্মকর্তা ও তদন্ত কর্মকর্তাসহ ১৬ জন সাক্ষ্য প্রদান করেন।

সর্বাধিক পঠিত

ঐতিহাসিক ৭ জুন: বাঙালির মুক্তির সনদ ছয় দফা দিবস আজ

রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় সোহেল-স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড,

আপডেট: ১২:৩৭:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

রাজধানীর পল্লবীতে বহুল আলোচিত শিশু রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে সোহেল রানাকে ৫ লাখ টাকা এবং স্বপ্না খাতুনকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

রোববার (৭ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন প্রায় ৪০ মিনিট ধরে রায় পাঠ শেষে এ আদেশ ঘোষণা করেন।

রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, সোহেল রানা শিশু রামিসাকে হত্যার আগে ধর্ষণ করে এবং তদন্তে তার সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়া জবানবন্দীতে সে ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করে। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, ঘটনার পর আসামি সোহেল রানাকে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করেন তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুন। পরবর্তীতে তারা কেউই নিজেদের স্বীকারোক্তি প্রত্যাহারের আবেদন করেননি।

আদালত আরও বলেন, এমন নৃশংস অপরাধের যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত না হলে বিচারব্যবস্থা ব্যর্থ হবে। আসামিদের অপরাধ সংশোধনযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন বিচারক।

রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে নেওয়া হয় কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুনকে আদালতে আনা হয় এবং পরে তাদের হাজতখানায় রাখা হয়।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত ৭ জুন রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন। দেশের ইতিহাসে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচারকাজ মাত্র চার কার্যদিবসে শেষ হওয়ার এটিই প্রথম ঘটনা বলে জানা গেছে। মামলায় মোট ১৬ জন সাক্ষ্য দেন।

রাষ্ট্রপক্ষ দাবি করে, আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে এবং তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রাপ্য। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী সোহেল রানার মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আবেদন জানান।

উল্লেখ্য, গত ১৯ মে পল্লবীতে প্রতিবেশী সোহেল রানার বাসা থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী, ৮ বছর বয়সী রামিসা আক্তারের শিরশ্ছেদ করা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন তার বাবা পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। ঘটনার সাত ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ এবং ছয় দিনের মাথায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। পরে ১ জুন মামলার বিচার শুরু হয় এবং ২ জুন পরিবার, প্রত্যক্ষদর্শী, চিকিৎসক, পুলিশ কর্মকর্তা ও তদন্ত কর্মকর্তাসহ ১৬ জন সাক্ষ্য প্রদান করেন।