১০:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬

কেশবপুরে ইউএনওর নাম ভাঙিয়ে ৫০ হাজার টাকা দাবির অভিযোগ

যশোরের কেশবপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নাম ভাঙিয়ে ৫০ হাজার টাকা দাবি করার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক মো. ওয়াজেদ আলী খান ডবলুর বিরুদ্ধে। শনিবার বিকেলে কেশবপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. তাসের আলী।

লিখিত বক্তব্যে তাসের আলী জানান, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসের শুরুতে হাজী জমশের খাঁন ওয়াকফ এস্টেটের যুগ্ম অফিসিয়াল মোতাওয়াল্লীদের কাছ থেকে অগ্রিম জামানতের ভিত্তিতে ট্রাক টার্মিনালের উত্তর পাশে ওয়াকফ এস্টেটের জমিতে পাঁচ বছরের চুক্তিতে ব্যবসা পরিচালনার জন্য একটি সেমিপাকা ঘর নির্মাণের কাজ শুরু করেন। ইটের গাঁথুনির কাজ শেষ হওয়ার পর ছাউনির কাজ শুরু করলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নোটিশ দিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়।

তার অভিযোগ, এরপর উপজেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক ওয়াজেদ আলী খান ডবলু তাকে ডেকে বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে তিনি কাজ বন্ধ করিয়েছেন এবং পুনরায় কাজের অনুমতি পেতে হলে তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। তাসের আলীর দাবি, কোরবানির ঈদের আগে ডবলু তার কাছে ইউএনওর কাছ থেকে কাজের অনুমতি এনে দেওয়ার কথা বলে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন এবং একই সঙ্গে নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু করতে বলেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, দাবিকৃত টাকা না দেওয়ায় তার নির্মাণকাজে বিভিন্নভাবে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। পাশাপাশি তার দুই ভাই—কেশবপুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম মোড়লের নাম জড়িয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশ করে তাদের সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে তাসের আলী ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, দল ও প্রশাসনের নাম ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে কিছু বিতর্কিত কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে, যা বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে। এ বিষয়ে উপজেলা, জেলা ও কেন্দ্রীয় বিএনপির হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন তাসের আলীর দুই ভাই নজরুল ইসলাম ও আবুল কাশেম মোড়লসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক মো. ওয়াজেদ আলী খান ডবলু বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা টাকা চাওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”

এ বিষয়ে কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেকসোনা খাতুন বলেন, “ওয়াকফ এস্টেটের জমিতে ঘর নির্মাণের অনুমতি না থাকায় নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে টাকা দাবির অভিযোগের বিষয়ে আমার কোনো জানা নেই।”

ঘটনাটি নিয়ে কেশবপুরে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

সর্বাধিক পঠিত

কেশবপুরে ইউএনওর নাম ভাঙিয়ে ৫০ হাজার টাকা দাবির অভিযোগ

কেশবপুরে ইউএনওর নাম ভাঙিয়ে ৫০ হাজার টাকা দাবির অভিযোগ

আপডেট: ১০:১৮:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬

যশোরের কেশবপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নাম ভাঙিয়ে ৫০ হাজার টাকা দাবি করার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক মো. ওয়াজেদ আলী খান ডবলুর বিরুদ্ধে। শনিবার বিকেলে কেশবপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. তাসের আলী।

লিখিত বক্তব্যে তাসের আলী জানান, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসের শুরুতে হাজী জমশের খাঁন ওয়াকফ এস্টেটের যুগ্ম অফিসিয়াল মোতাওয়াল্লীদের কাছ থেকে অগ্রিম জামানতের ভিত্তিতে ট্রাক টার্মিনালের উত্তর পাশে ওয়াকফ এস্টেটের জমিতে পাঁচ বছরের চুক্তিতে ব্যবসা পরিচালনার জন্য একটি সেমিপাকা ঘর নির্মাণের কাজ শুরু করেন। ইটের গাঁথুনির কাজ শেষ হওয়ার পর ছাউনির কাজ শুরু করলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নোটিশ দিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়।

তার অভিযোগ, এরপর উপজেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক ওয়াজেদ আলী খান ডবলু তাকে ডেকে বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে তিনি কাজ বন্ধ করিয়েছেন এবং পুনরায় কাজের অনুমতি পেতে হলে তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। তাসের আলীর দাবি, কোরবানির ঈদের আগে ডবলু তার কাছে ইউএনওর কাছ থেকে কাজের অনুমতি এনে দেওয়ার কথা বলে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন এবং একই সঙ্গে নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু করতে বলেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, দাবিকৃত টাকা না দেওয়ায় তার নির্মাণকাজে বিভিন্নভাবে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। পাশাপাশি তার দুই ভাই—কেশবপুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম মোড়লের নাম জড়িয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশ করে তাদের সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে তাসের আলী ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, দল ও প্রশাসনের নাম ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে কিছু বিতর্কিত কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে, যা বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে। এ বিষয়ে উপজেলা, জেলা ও কেন্দ্রীয় বিএনপির হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন তাসের আলীর দুই ভাই নজরুল ইসলাম ও আবুল কাশেম মোড়লসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক মো. ওয়াজেদ আলী খান ডবলু বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা টাকা চাওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”

এ বিষয়ে কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেকসোনা খাতুন বলেন, “ওয়াকফ এস্টেটের জমিতে ঘর নির্মাণের অনুমতি না থাকায় নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে টাকা দাবির অভিযোগের বিষয়ে আমার কোনো জানা নেই।”

ঘটনাটি নিয়ে কেশবপুরে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।