১১:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬

যশোরে পারিবারিক কলহের জেরে গৃহবধূকে ছুরিকাঘাতে হত্যা,

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১০:০৬:২২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
  • ৫১১

যশোর প্রতিনিধি:

যশোর শহরে পারিবারিক কলহের জেরে স্বামীর ছুরিকাঘাতে ছামিনা আক্তার নামে এক গৃহবধূ নিহত হয়েছেন। ঘটনার পর অভিযুক্ত স্বামী সুজন নিজ শরীরেও ছুরি দিয়ে আঘাত করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। বর্তমানে তিনি যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের পুরুষ সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

নিহত ছামিনা আক্তার যশোর সদর উপজেলার নওয়াপাড়া ইউনিয়নের তরফ নওয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তবে তিনি ও তার স্বামী সুজন যশোর শহরের শেখহাটি তামালতলা এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। সুজনের বাড়ি টাঙ্গাইল জেলায়। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তারা সম্পর্কে মামাতো ভাই-বোন ছিলেন।

পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সোমবার ভোর আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে নেশার টাকার বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে সুজন ক্ষিপ্ত হয়ে ধারালো ছুরি দিয়ে স্ত্রী ছামিনার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।

পরে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পর সুজন নিজ শরীরেও একাধিক স্থানে ছুরি দিয়ে আঘাত করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে একই হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।

নিহত ছামিনার মামা পিয়াস জানান, সুজন আগে বিদেশে কর্মরত ছিলেন। প্রায় ছয় মাস আগে ভালোবেসে তারা বিয়ে করেন এবং পরে আলাদা ভাড়া বাসায় সংসার শুরু করেন। বর্তমানে সুজন বেকার ছিলেন এবং পুনরায় বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এর মধ্যেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. শাকিরুল ইসলাম বলেন, “ছামিনাকে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল। এছাড়া সুজনের শরীরেও একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।”

এদিকে, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সুজনের ওপর হামলার চেষ্টা করেন নিহত ছামিনার কয়েকজন স্বজন। এতে হাসপাতাল চত্বরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরে সুজনের বাবা ও মাকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়।

কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী বাবুল জানান, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, আত্মীয়তার সম্পর্কের মধ্যে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়ে তারা আলাদাভাবে বসবাস করতেন। পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সর্বাধিক পঠিত

সুন্দরবনে ভারতগামী কার্গো জাহাজে বনদস্যুদের হামলা

যশোরে পারিবারিক কলহের জেরে গৃহবধূকে ছুরিকাঘাতে হত্যা,

আপডেট: ১০:০৬:২২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

যশোর প্রতিনিধি:

যশোর শহরে পারিবারিক কলহের জেরে স্বামীর ছুরিকাঘাতে ছামিনা আক্তার নামে এক গৃহবধূ নিহত হয়েছেন। ঘটনার পর অভিযুক্ত স্বামী সুজন নিজ শরীরেও ছুরি দিয়ে আঘাত করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। বর্তমানে তিনি যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের পুরুষ সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

নিহত ছামিনা আক্তার যশোর সদর উপজেলার নওয়াপাড়া ইউনিয়নের তরফ নওয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তবে তিনি ও তার স্বামী সুজন যশোর শহরের শেখহাটি তামালতলা এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। সুজনের বাড়ি টাঙ্গাইল জেলায়। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তারা সম্পর্কে মামাতো ভাই-বোন ছিলেন।

পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সোমবার ভোর আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে নেশার টাকার বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে সুজন ক্ষিপ্ত হয়ে ধারালো ছুরি দিয়ে স্ত্রী ছামিনার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।

পরে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পর সুজন নিজ শরীরেও একাধিক স্থানে ছুরি দিয়ে আঘাত করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে একই হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।

নিহত ছামিনার মামা পিয়াস জানান, সুজন আগে বিদেশে কর্মরত ছিলেন। প্রায় ছয় মাস আগে ভালোবেসে তারা বিয়ে করেন এবং পরে আলাদা ভাড়া বাসায় সংসার শুরু করেন। বর্তমানে সুজন বেকার ছিলেন এবং পুনরায় বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এর মধ্যেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. শাকিরুল ইসলাম বলেন, “ছামিনাকে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল। এছাড়া সুজনের শরীরেও একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।”

এদিকে, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সুজনের ওপর হামলার চেষ্টা করেন নিহত ছামিনার কয়েকজন স্বজন। এতে হাসপাতাল চত্বরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরে সুজনের বাবা ও মাকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়।

কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী বাবুল জানান, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, আত্মীয়তার সম্পর্কের মধ্যে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়ে তারা আলাদাভাবে বসবাস করতেন। পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।