০৬:৩২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
প্রথম আলোর প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ, প্রতিবাদে নিহতদের স্বজনরা

প্রথম আলোর প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ, প্রতিবাদে নিহতদের স্বজনরা

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৮:৩৮:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ৫৬৭

যশোরে শাহীন চাকলাদারের মালিকানাধীন জাবির হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের স্বজনরা প্রথম আলোর একটি প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন। তাদের অভিযোগ, পত্রিকাটি নিহতদের ‘শহীদ’ পরিচয় নিয়ে বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা তথ্য প্রকাশ করেছে।
বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরের সামনে এক মানববন্ধনে নিহতদের পরিবার ও স্থানীয়রা এই প্রতিবাদ জানান। একই সময়ে তারা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন এবং প্রথম আলো পত্রিকার কপি পুড়িয়ে দেন। পরে জেলা প্রশাসক এসে পরিস্থিতি শান্ত করেন।
কেন এই প্রতিবাদ?
সম্প্রতি প্রথম আলোর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ৫ আগস্টের অগ্নিকাণ্ডে নিহত ২৪ জনের মধ্যে ১৬টি পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা কেউ নিজেদের প্রিয়জনকে ‘শহীদ’ হিসেবে স্বীকৃতি চান না। নিহতদের স্বজনরা এই তথ্যকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তারা বলেন, কোনো সাংবাদিক তাদের সঙ্গে যোগাযোগই করেননি, অথচ তাদের নামে মিথ্যা মন্তব্য ছাপা হয়েছে।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, এই প্রতিবেদনটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে শহীদদের স্মৃতিকে অসম্মানিত করার চেষ্টা। এর মাধ্যমে গণঅভ্যুত্থানের আন্দোলনকেও প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। তারা অভিযোগ করেন, ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা না বলে মন্তব্য ছাপানো সাংবাদিকতার নীতির পরিপন্থী। তারা অবিলম্বে প্রথম আলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ ও প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ করার দাবি জানান।
‘আমার বাচ্চা দুর্বৃত্ত নয়’
নিহত আবরার মাশরুন নীলের মা জেসমিন আক্তার বলেন, “আমার নয় বছরের বাচ্চা কীভাবে দুর্বৃত্ত হলো? সে তো মানুষকে সাহায্য করতে গিয়ে আগুনে পুড়ে মারা গেছে। ও ছিল নিষ্পাপ শিশু। তাকে নিয়ে রাজনীতি করবেন না, তার গায়ে লুটকারীর কলঙ্ক দেবেন না।”
মানববন্ধনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন যশোরের সাবেক আহ্বায়ক রাশেদ খান, নিহত ইউসুফ আলীর মা শাহীনা খাতুন এবং সোহানুর রহমান সোহানের বাবা আনোয়ার হোসেন লাল্টুসহ অন্যান্যদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের দিনে জাবির হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ২৪ জন নিহত হন। তাদের অনেকেই ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ’ হিসেবে পরিচিত। কিন্তু প্রথম আলোর প্রতিবেদনে ভিন্ন তথ্য উঠে আসার পর এই বিতর্ক শুরু হয়।

সর্বাধিক পঠিত

যশোরে জমি সংক্রান্ত বিরোধে ভুক্তভোগী পরিবারের সংবাদ সম্মেলন:

প্রথম আলোর প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ, প্রতিবাদে নিহতদের স্বজনরা

প্রথম আলোর প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ, প্রতিবাদে নিহতদের স্বজনরা

আপডেট: ০৮:৩৮:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫

যশোরে শাহীন চাকলাদারের মালিকানাধীন জাবির হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের স্বজনরা প্রথম আলোর একটি প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন। তাদের অভিযোগ, পত্রিকাটি নিহতদের ‘শহীদ’ পরিচয় নিয়ে বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা তথ্য প্রকাশ করেছে।
বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরের সামনে এক মানববন্ধনে নিহতদের পরিবার ও স্থানীয়রা এই প্রতিবাদ জানান। একই সময়ে তারা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন এবং প্রথম আলো পত্রিকার কপি পুড়িয়ে দেন। পরে জেলা প্রশাসক এসে পরিস্থিতি শান্ত করেন।
কেন এই প্রতিবাদ?
সম্প্রতি প্রথম আলোর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ৫ আগস্টের অগ্নিকাণ্ডে নিহত ২৪ জনের মধ্যে ১৬টি পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা কেউ নিজেদের প্রিয়জনকে ‘শহীদ’ হিসেবে স্বীকৃতি চান না। নিহতদের স্বজনরা এই তথ্যকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তারা বলেন, কোনো সাংবাদিক তাদের সঙ্গে যোগাযোগই করেননি, অথচ তাদের নামে মিথ্যা মন্তব্য ছাপা হয়েছে।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, এই প্রতিবেদনটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে শহীদদের স্মৃতিকে অসম্মানিত করার চেষ্টা। এর মাধ্যমে গণঅভ্যুত্থানের আন্দোলনকেও প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। তারা অভিযোগ করেন, ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা না বলে মন্তব্য ছাপানো সাংবাদিকতার নীতির পরিপন্থী। তারা অবিলম্বে প্রথম আলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ ও প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ করার দাবি জানান।
‘আমার বাচ্চা দুর্বৃত্ত নয়’
নিহত আবরার মাশরুন নীলের মা জেসমিন আক্তার বলেন, “আমার নয় বছরের বাচ্চা কীভাবে দুর্বৃত্ত হলো? সে তো মানুষকে সাহায্য করতে গিয়ে আগুনে পুড়ে মারা গেছে। ও ছিল নিষ্পাপ শিশু। তাকে নিয়ে রাজনীতি করবেন না, তার গায়ে লুটকারীর কলঙ্ক দেবেন না।”
মানববন্ধনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন যশোরের সাবেক আহ্বায়ক রাশেদ খান, নিহত ইউসুফ আলীর মা শাহীনা খাতুন এবং সোহানুর রহমান সোহানের বাবা আনোয়ার হোসেন লাল্টুসহ অন্যান্যদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের দিনে জাবির হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ২৪ জন নিহত হন। তাদের অনেকেই ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ’ হিসেবে পরিচিত। কিন্তু প্রথম আলোর প্রতিবেদনে ভিন্ন তথ্য উঠে আসার পর এই বিতর্ক শুরু হয়।