০২:২২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬

মামলা তুলে নিতে প্রাণনাশের হুমকি, নিরাপত্তাহীনতায় কেশবপুরের ভুক্তভোগী পরিবার

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৯:৪০:১৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৫
  • ৫৪৭

নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরের কেশবপুরে প্রায় চার বছর আগে দায়ের করা একটি মামলা তুলে নিতে পরিবারকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, প্রতারণার মাধ্যমে ৩৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও হত্যাচেষ্টার সুস্পষ্ট প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এই সুযোগ নিয়ে আসামিরা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ এবং প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে, যার জেরে পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
মামলার বাদী আলাউদ্দীন মোড়ল উল্লেখ করেন, ২০১৭ সালের নভেম্বরে তিনি, রায়হান মোড়ল ও মনিরুল ইসলাম মোড়লসহ আরও দুইজন মিলে ‘মেসার্স জামান ব্রিকস’ নামে একটি ইটভাটা প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি এই ভাটায় ৩০ শতাংশের অংশীদার। বিভিন্ন সময়ে তিনি মোট ৩৭ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেন। ইটভাটার ইট বিক্রি, মালামাল ক্রয়সহ যাবতীয় হিসাব-নিকাশ ও কেনার দায়িত্বে ছিলেন কামরুজ্জামান মোড়ল, রায়হান মোড়ল ও মমতাজ বেগম।
তিনি তাদের কাছে প্রতিষ্ঠানের হিসাব-নিকাশ চাইলে তারা টালবাহানা শুরু করেন এবং মারপিট ও প্রাণনাশের হুমকি দেন। পরে হিসাব নিয়ে একটি সালিশ ডাকা হয়। সেই সালিশে আসামিরা তার পিতাকে গালিগালাজ করে এবং টাকার হিসাব দিতে পারবে না বলে জানিয়ে দেয়।
ওই সময় গালাগালি দিতে নিষেধ করলে ভোগতি নরেন্দ্রপুর গ্রামের কামরুজ্জামান মোড়ল (মনিরুল ইসলাম মোড়লের ছেলে), রায়হান মোড়ল (মৃত ইসমাইল মোড়লের ছেলে), মনিরুল ইসলাম মোড়ল (কওছার আলী মোড়লের ছেলে), রাশেদ মোড়ল (মনিরুল মোড়লের ছেলে) ও তার স্ত্রী মমতাজ বেগম, কামরুজ্জামান মোড়লের স্ত্রী শান্তা খাতুনসহ ৪/৫ জন আসামি দেশীয় অস্ত্র (দা, রড, লাঠি) দিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। তার বড় ও ছোট ছেলে ঠেকাতে এলে তাদেরও অস্ত্র দিয়ে আঘাত ও জখম করা হয়। আসামিরা তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে সাবল দিয়ে মাথায় আঘাত করে এবং পাঁজরে আঘাত করে হাঁটুর মালা ভেঙে দেয়। একই সঙ্গে তার ছেলের কাছ থেকে ডিলারশিপের ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। সালিশে থাকা লোকজন তাদের উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
বাদীর ছোট ছেলে ওহিদুজ্জামান মোড়ল জানান, “ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। কিন্তু পুলিশ তাদের ধরছে না। এই সুযোগে আসামিরা চলমান মামলা তুলে নিতে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে এবং বিভিন্ন মাধ্যমে ভয় দেখাচ্ছে। আমরা পরিবার নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”
এ বিষয়ে কেশবপুর থানার ওসি আনোয়ার হোসেন জানান, “প্রাণনাশের হুমকির বিষয়ে অভিযোগ পেলে আমরা ব্যবস্থা নেব। এছাড়া ওয়ারেন্টভুক্ত আসামীদের ব্যাপারে খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে।”

সর্বাধিক পঠিত

ঈদ পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময়ে নুরুজ্জামান লিটনের সঙ্গে বাগআঁচড়া বিএনপি নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ

মামলা তুলে নিতে প্রাণনাশের হুমকি, নিরাপত্তাহীনতায় কেশবপুরের ভুক্তভোগী পরিবার

আপডেট: ০৯:৪০:১৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরের কেশবপুরে প্রায় চার বছর আগে দায়ের করা একটি মামলা তুলে নিতে পরিবারকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, প্রতারণার মাধ্যমে ৩৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও হত্যাচেষ্টার সুস্পষ্ট প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এই সুযোগ নিয়ে আসামিরা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ এবং প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে, যার জেরে পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
মামলার বাদী আলাউদ্দীন মোড়ল উল্লেখ করেন, ২০১৭ সালের নভেম্বরে তিনি, রায়হান মোড়ল ও মনিরুল ইসলাম মোড়লসহ আরও দুইজন মিলে ‘মেসার্স জামান ব্রিকস’ নামে একটি ইটভাটা প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি এই ভাটায় ৩০ শতাংশের অংশীদার। বিভিন্ন সময়ে তিনি মোট ৩৭ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেন। ইটভাটার ইট বিক্রি, মালামাল ক্রয়সহ যাবতীয় হিসাব-নিকাশ ও কেনার দায়িত্বে ছিলেন কামরুজ্জামান মোড়ল, রায়হান মোড়ল ও মমতাজ বেগম।
তিনি তাদের কাছে প্রতিষ্ঠানের হিসাব-নিকাশ চাইলে তারা টালবাহানা শুরু করেন এবং মারপিট ও প্রাণনাশের হুমকি দেন। পরে হিসাব নিয়ে একটি সালিশ ডাকা হয়। সেই সালিশে আসামিরা তার পিতাকে গালিগালাজ করে এবং টাকার হিসাব দিতে পারবে না বলে জানিয়ে দেয়।
ওই সময় গালাগালি দিতে নিষেধ করলে ভোগতি নরেন্দ্রপুর গ্রামের কামরুজ্জামান মোড়ল (মনিরুল ইসলাম মোড়লের ছেলে), রায়হান মোড়ল (মৃত ইসমাইল মোড়লের ছেলে), মনিরুল ইসলাম মোড়ল (কওছার আলী মোড়লের ছেলে), রাশেদ মোড়ল (মনিরুল মোড়লের ছেলে) ও তার স্ত্রী মমতাজ বেগম, কামরুজ্জামান মোড়লের স্ত্রী শান্তা খাতুনসহ ৪/৫ জন আসামি দেশীয় অস্ত্র (দা, রড, লাঠি) দিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। তার বড় ও ছোট ছেলে ঠেকাতে এলে তাদেরও অস্ত্র দিয়ে আঘাত ও জখম করা হয়। আসামিরা তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে সাবল দিয়ে মাথায় আঘাত করে এবং পাঁজরে আঘাত করে হাঁটুর মালা ভেঙে দেয়। একই সঙ্গে তার ছেলের কাছ থেকে ডিলারশিপের ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। সালিশে থাকা লোকজন তাদের উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
বাদীর ছোট ছেলে ওহিদুজ্জামান মোড়ল জানান, “ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। কিন্তু পুলিশ তাদের ধরছে না। এই সুযোগে আসামিরা চলমান মামলা তুলে নিতে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে এবং বিভিন্ন মাধ্যমে ভয় দেখাচ্ছে। আমরা পরিবার নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”
এ বিষয়ে কেশবপুর থানার ওসি আনোয়ার হোসেন জানান, “প্রাণনাশের হুমকির বিষয়ে অভিযোগ পেলে আমরা ব্যবস্থা নেব। এছাড়া ওয়ারেন্টভুক্ত আসামীদের ব্যাপারে খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে।”