০৪:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬
চলতি বছরেই জাপানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি: কৌশলগত সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন

চলতি বছরেই জাপানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি: কৌশলগত সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৭:১৩:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ৬১৮

চলতি বছরের মধ্যেই বাংলাদেশের সঙ্গে একটি বিশেষায়িত প্রতিরক্ষা চুক্তি (Defense Cooperation Agreement – DCA) সই করতে চায় জাপান। এই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হলে দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহ, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং যৌথ গবেষণার মাধ্যমে প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় এক নতুন মাত্রা যোগ হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও সাইবার প্রতিরক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোতে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ পাবে।
চুক্তির পটভূমি ও মূল দিকসমূহ
জানা যায়, গত মে মাসে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের টোকিও সফরের সময় জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবার সঙ্গে বৈঠকে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন, সেই আলোচনার ভিত্তিতেই উভয় দেশ নীতিগতভাবে একটি প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ও সমরাস্ত্র বিনিময় সংক্রান্ত চুক্তিতে সম্মত হয়েছে।
২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে বাংলাদেশ ও জাপান প্রতিরক্ষা সহযোগিতাবিষয়ক সম্মতিপত্রে সই করার পর থেকেই এই বিস্তারিত চুক্তির প্রস্তুতি চলছে।
কূটনৈতিক সূত্র অনুযায়ী, জাপানের প্রতিরক্ষা নীতি অনুসারে প্রস্তাবিত এই সমঝোতা তিনটি মূল উপাদানের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হচ্ছে:
১. প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম হস্তান্তর: এর আওতায় নৌ টহলযান, যোগাযোগব্যবস্থা, নজরদারির প্রযুক্তি এবং অপ্রাণঘাতী সামরিক সরঞ্জাম থাকবে।
২. যৌথ গবেষণা: সাইবার নিরাপত্তা, স্যাটেলাইট প্রযুক্তি, উপকূলীয় নজরদারি ইত্যাদি ক্ষেত্রে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করবে।
৩. কঠোর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা: সরবরাহকৃত সমরাস্ত্র তৃতীয় কোনো দেশে হস্তান্তর করা যাবে না এবং ব্যবহারের ক্ষেত্র নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রাখতে হবে।
ভূরাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও ভারসাম্য রক্ষার কৌশল
নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা এই চুক্তিকে বাংলাদেশের জন্য একটি ‘নতুন অধ্যায়’ হিসেবে দেখছেন। তবে এর ভূরাজনৈতিক প্রভাব নিয়েও তারা সতর্ক করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে প্রধানত চীনের কাছ থেকে সমরাস্ত্র সংগ্রহ করে আসছে। জাপানের সঙ্গে এমন কৌশলগত সহযোগিতা বাড়লে চীন কিছুটা অস্বস্তি বোধ করতে পারে। তাই বড় শক্তিগুলোর মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে ঢাকাকে সতর্কতার সঙ্গে এগোতে হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সর্বাধিক পঠিত

তেজগাঁও কলেজের নবনিযুক্ত দুই উপাধ্যক্ষকে প্রেস ক্লাবের ফুলেল শুভেচ্ছা

চলতি বছরেই জাপানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি: কৌশলগত সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন

চলতি বছরেই জাপানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি: কৌশলগত সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন

আপডেট: ০৭:১৩:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫

চলতি বছরের মধ্যেই বাংলাদেশের সঙ্গে একটি বিশেষায়িত প্রতিরক্ষা চুক্তি (Defense Cooperation Agreement – DCA) সই করতে চায় জাপান। এই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হলে দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহ, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং যৌথ গবেষণার মাধ্যমে প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় এক নতুন মাত্রা যোগ হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও সাইবার প্রতিরক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোতে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ পাবে।
চুক্তির পটভূমি ও মূল দিকসমূহ
জানা যায়, গত মে মাসে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের টোকিও সফরের সময় জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবার সঙ্গে বৈঠকে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন, সেই আলোচনার ভিত্তিতেই উভয় দেশ নীতিগতভাবে একটি প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ও সমরাস্ত্র বিনিময় সংক্রান্ত চুক্তিতে সম্মত হয়েছে।
২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে বাংলাদেশ ও জাপান প্রতিরক্ষা সহযোগিতাবিষয়ক সম্মতিপত্রে সই করার পর থেকেই এই বিস্তারিত চুক্তির প্রস্তুতি চলছে।
কূটনৈতিক সূত্র অনুযায়ী, জাপানের প্রতিরক্ষা নীতি অনুসারে প্রস্তাবিত এই সমঝোতা তিনটি মূল উপাদানের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হচ্ছে:
১. প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম হস্তান্তর: এর আওতায় নৌ টহলযান, যোগাযোগব্যবস্থা, নজরদারির প্রযুক্তি এবং অপ্রাণঘাতী সামরিক সরঞ্জাম থাকবে।
২. যৌথ গবেষণা: সাইবার নিরাপত্তা, স্যাটেলাইট প্রযুক্তি, উপকূলীয় নজরদারি ইত্যাদি ক্ষেত্রে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করবে।
৩. কঠোর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা: সরবরাহকৃত সমরাস্ত্র তৃতীয় কোনো দেশে হস্তান্তর করা যাবে না এবং ব্যবহারের ক্ষেত্র নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রাখতে হবে।
ভূরাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও ভারসাম্য রক্ষার কৌশল
নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা এই চুক্তিকে বাংলাদেশের জন্য একটি ‘নতুন অধ্যায়’ হিসেবে দেখছেন। তবে এর ভূরাজনৈতিক প্রভাব নিয়েও তারা সতর্ক করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে প্রধানত চীনের কাছ থেকে সমরাস্ত্র সংগ্রহ করে আসছে। জাপানের সঙ্গে এমন কৌশলগত সহযোগিতা বাড়লে চীন কিছুটা অস্বস্তি বোধ করতে পারে। তাই বড় শক্তিগুলোর মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে ঢাকাকে সতর্কতার সঙ্গে এগোতে হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।