০৫:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬
ডেঙ্গুতে বাড়ছে মৃত্যুর হার: ঝুঁকিতে শিশু ও বৃদ্ধরা

ডেঙ্গুতে বাড়ছে মৃত্যুর হার: ঝুঁকিতে শিশু ও বৃদ্ধরা

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৮:৫১:১৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ৬৭৪

চলতি বছর ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৩ দিনে এই রোগে ৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১১ হাজার ৬৯৭ জন আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এ বছর মোট মৃতের সংখ্যা ১৮২ জন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেরিতে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ডেঙ্গুজনিত মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। এ বছর ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া ৮১% রোগীই তিন দিন বা তার বেশি সময় জ্বরে ভোগার পর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। এছাড়া, প্রায় ৭৪% রোগীর মৃত্যু হয়েছে হাসপাতালে ভর্তির ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে, যার ৫০% ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোমের (DSS) কারণে হয়েছে।
বয়স অনুযায়ী ডেঙ্গুতে মৃত্যুর হার:
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. হালিমুর রশিদ জানান, ২০ থেকে ৩০ বছর বয়সী মানুষের মধ্যে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি (১৯ জন)। এরপর ০ থেকে ১০ এবং ৪০ থেকে ৫০ বছর বয়সী মানুষ বেশি মারা গেছেন (প্রতিটি ক্ষেত্রে ১৬ জন করে)। মৃতদের মধ্যে ৫৩% পুরুষ এবং বাকিরা নারী।
শিশুদের ঝুঁকি:
হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু আক্রান্ত শিশুদের ভিড় বাড়ছে। জ্বরের তীব্রতা এবং বারবার ইনজেকশনের কারণে শিশুরা খুব কষ্ট পাচ্ছে। তাদের স্বজনরা খেলনা দিয়ে তাদের মনোবল চাঙ্গা রাখার চেষ্টা করছেন।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব:
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক কবিরুল বাশার বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ডেঙ্গু মশার প্রজনন মৌসুম দীর্ঘায়িত হচ্ছে। হালকা বৃষ্টি মশার প্রজননস্থলগুলো সক্রিয় করে এবং প্রাপ্তবয়স্ক মশার আয়ু ও বিস্তার বাড়ায়। এই পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য আবহাওয়াভিত্তিক একটি পূর্ণাঙ্গ পূর্বাভাস মডেল তৈরি করা জরুরি বলে তিনি মনে করেন।

সর্বাধিক পঠিত

তেজগাঁও কলেজের নবনিযুক্ত দুই উপাধ্যক্ষকে প্রেস ক্লাবের ফুলেল শুভেচ্ছা

ডেঙ্গুতে বাড়ছে মৃত্যুর হার: ঝুঁকিতে শিশু ও বৃদ্ধরা

ডেঙ্গুতে বাড়ছে মৃত্যুর হার: ঝুঁকিতে শিশু ও বৃদ্ধরা

আপডেট: ০৮:৫১:১৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫

চলতি বছর ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৩ দিনে এই রোগে ৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১১ হাজার ৬৯৭ জন আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এ বছর মোট মৃতের সংখ্যা ১৮২ জন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেরিতে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ডেঙ্গুজনিত মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। এ বছর ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া ৮১% রোগীই তিন দিন বা তার বেশি সময় জ্বরে ভোগার পর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। এছাড়া, প্রায় ৭৪% রোগীর মৃত্যু হয়েছে হাসপাতালে ভর্তির ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে, যার ৫০% ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোমের (DSS) কারণে হয়েছে।
বয়স অনুযায়ী ডেঙ্গুতে মৃত্যুর হার:
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. হালিমুর রশিদ জানান, ২০ থেকে ৩০ বছর বয়সী মানুষের মধ্যে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি (১৯ জন)। এরপর ০ থেকে ১০ এবং ৪০ থেকে ৫০ বছর বয়সী মানুষ বেশি মারা গেছেন (প্রতিটি ক্ষেত্রে ১৬ জন করে)। মৃতদের মধ্যে ৫৩% পুরুষ এবং বাকিরা নারী।
শিশুদের ঝুঁকি:
হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু আক্রান্ত শিশুদের ভিড় বাড়ছে। জ্বরের তীব্রতা এবং বারবার ইনজেকশনের কারণে শিশুরা খুব কষ্ট পাচ্ছে। তাদের স্বজনরা খেলনা দিয়ে তাদের মনোবল চাঙ্গা রাখার চেষ্টা করছেন।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব:
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক কবিরুল বাশার বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ডেঙ্গু মশার প্রজনন মৌসুম দীর্ঘায়িত হচ্ছে। হালকা বৃষ্টি মশার প্রজননস্থলগুলো সক্রিয় করে এবং প্রাপ্তবয়স্ক মশার আয়ু ও বিস্তার বাড়ায়। এই পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য আবহাওয়াভিত্তিক একটি পূর্ণাঙ্গ পূর্বাভাস মডেল তৈরি করা জরুরি বলে তিনি মনে করেন।