০২:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬

যশোরে অধ্যক্ষ ফারুকের নেতৃত্বে জালিয়াতি, ঘুষ ও ভুয়া শিক্ষক নিয়োগের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৪:৩৪:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৫
  • ৫৪৮

যশোরে একটি মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ফারুক হোসাইনের বিরুদ্ধে চাঁদা, ঘুষ, ভুয়া শিক্ষক নিয়োগ এবং জালিয়াতির মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। কালবেলার অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা এবং অধ্যক্ষ নিজে স্বীকার করেছেন দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের একাধিক দিক।
১৪ লাখ টাকার চেক, হুমকি ও চাঁদাবাজি
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষক অভিযোগ করেছেন, অধ্যক্ষ ফারুক তার কাছে আরও ১৪ লাখ টাকা দাবি করেন। এই টাকা দিতে না পারায় তিনি ব্যাংকের চেক লিখে দেন, যা বেতন ছাড়ের পর অধ্যক্ষ তুলে নেন। ঐ শিক্ষককে অধ্যক্ষ নিয়মিত বাসায় গিয়ে হুমকি দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও, মাদ্রাসায় কোনো তদন্ত দল এলেই দলবেঁধে চাঁদা দিতে হয়, যা অধ্যক্ষ নিজে বা তার সহযোগী মুরাদ (মুস্তাক) গ্রহণ করেন।
ভুয়া নিয়োগ: এক তরিকুলের নামে অন্য তরিকুল
অনুসন্ধানে জানা যায়, এক প্রকৃত তরিকুলের নামে অন্য এক ব্যক্তি চাকরি করছেন। এই ঘটনা জানাজানি হলে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং ক্ষুব্ধ প্রকৃত তরিকুল অধ্যক্ষ ফারুককে পিটুনি দেন। প্রকৃত তরিকুল অধ্যক্ষকে ‘প্রতারক, বাটপার’ আখ্যা দিয়ে বলেন, চারজন ভুয়া শিক্ষকের বেতন ছাড় করিয়ে অধ্যক্ষ তার জীবন ধ্বংস করে দিয়েছেন।
এদিকে অধ্যক্ষ ফারুক ভুয়া চাকরি করা তরিকুলকে সমর্থন করে বলেন, “তরিকুলের হয়তো এনটিআরসি সনদ নেই, তবে সে এমএসসি পাস। ভালো ছাত্র। প্রকৃত তরিকুলের চেয়ে সে অনেক মেধাবী।”
ঘুষের স্বীকারোক্তি ও উপঢৌকন লেনদেন
বেতন-ভাতা ছাড় করাতে ঘুষ দেওয়ার বিষয়টি অধ্যক্ষ ফারুক নিজেই স্বীকার করেছেন। তিনি কালবেলাকে বলেন, “বেতন-ভাতা ছাড় করতে ঘুষ দিতে হয়। সেই ঘুষ আমরা দিয়েছি; কিন্তু কোনো ডকুমেন্ট রাখেনি।”
আলোচিত চার শিক্ষকের বেতন ছাড়ের জন্য সহকারী পরিচালক ইসমাইলকে বেনাপোল থেকে উপঢৌকন পাঠানো হয়েছে বলেও স্বীকার করেন অধ্যক্ষ। তিনি বলেন, “একজন অফিসার আমাদের কাজ করে দিয়েছেন, সেজন্য সামান্য কিছু উপহার দেওয়া হয়েছে, এটা দোষের কিছু না।”
জাল সনদ তৈরি ও রাজনৈতিক যোগসাজশ
মুস্তাক মাস্টার্সে যে সনদ ব্যবহার করেছেন, তার প্রকৃত অধিকারী মাসুম পারভেজ জানিয়েছেন যে তিনি কেবল তার একাডেমিক সনদ অধ্যক্ষকে দিয়েছিলেন, বাকি সব ভুয়া কাগজ তৈরি করেছেন ফারুক।
এদিকে, অধ্যক্ষ ফারুকের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সুবিধাবাদী হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারী জানান, অধ্যক্ষ জুলাই বিপ্লবের আগে তাঁতী লীগ, পরে জামায়াতের রুকন এবং বর্তমানে বিএনপিতে যোগদান করেছেন। অধ্যক্ষ ফারুক অভিযোগটি স্বীকার করে বলেন, “যখন যে সরকার আসবে তখন সে সরকারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে রাজনীতি করতে হয়।”
৫০ লাখ টাকার লেনদেন এবং সহযোগীদের তালিকা
মাদ্রাসার তিনজন শিক্ষক অভিযোগ করেছেন, এই চার শিক্ষকের বেতন ছাড় করাতে অধ্যক্ষ ৫০ লাখ টাকা লেনদেন করেছেন। এই জালিয়াতির কাজে অধ্যক্ষ ফারুককে সহায়তা করেছেন একটি চক্র, যার মধ্যে রয়েছে:
* সুপার কামরুল
* রসায়নের শিক্ষক মুস্তাক (মুরাদ)
* দালাল মাহাবুজ্জামান
* তৎকালীন উপজেলা মাধ্যমিক অফিসার কামরুজ্জামান জাহাঙ্গীর
* উপাধ্যক্ষ মালেক
* যশোর সদরের বসুনদিয়া মডেল দাখিল মাদ্রাসার সুপার কামরুল ইসলাম (নিয়োগের প্রার্থী সংগ্রহ ও কাগজপত্রে সহায়তা)

সর্বাধিক পঠিত

ঝিকরগাছায় ১৬ দিন ধরে নিখোঁজ কিশোর রাকিব, সন্তানের অপেক্ষায় মায়ের বুকভরা আর্তনাদ

যশোরে অধ্যক্ষ ফারুকের নেতৃত্বে জালিয়াতি, ঘুষ ও ভুয়া শিক্ষক নিয়োগের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

আপডেট: ০৪:৩৪:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৫

যশোরে একটি মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ফারুক হোসাইনের বিরুদ্ধে চাঁদা, ঘুষ, ভুয়া শিক্ষক নিয়োগ এবং জালিয়াতির মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। কালবেলার অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা এবং অধ্যক্ষ নিজে স্বীকার করেছেন দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের একাধিক দিক।
১৪ লাখ টাকার চেক, হুমকি ও চাঁদাবাজি
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষক অভিযোগ করেছেন, অধ্যক্ষ ফারুক তার কাছে আরও ১৪ লাখ টাকা দাবি করেন। এই টাকা দিতে না পারায় তিনি ব্যাংকের চেক লিখে দেন, যা বেতন ছাড়ের পর অধ্যক্ষ তুলে নেন। ঐ শিক্ষককে অধ্যক্ষ নিয়মিত বাসায় গিয়ে হুমকি দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও, মাদ্রাসায় কোনো তদন্ত দল এলেই দলবেঁধে চাঁদা দিতে হয়, যা অধ্যক্ষ নিজে বা তার সহযোগী মুরাদ (মুস্তাক) গ্রহণ করেন।
ভুয়া নিয়োগ: এক তরিকুলের নামে অন্য তরিকুল
অনুসন্ধানে জানা যায়, এক প্রকৃত তরিকুলের নামে অন্য এক ব্যক্তি চাকরি করছেন। এই ঘটনা জানাজানি হলে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং ক্ষুব্ধ প্রকৃত তরিকুল অধ্যক্ষ ফারুককে পিটুনি দেন। প্রকৃত তরিকুল অধ্যক্ষকে ‘প্রতারক, বাটপার’ আখ্যা দিয়ে বলেন, চারজন ভুয়া শিক্ষকের বেতন ছাড় করিয়ে অধ্যক্ষ তার জীবন ধ্বংস করে দিয়েছেন।
এদিকে অধ্যক্ষ ফারুক ভুয়া চাকরি করা তরিকুলকে সমর্থন করে বলেন, “তরিকুলের হয়তো এনটিআরসি সনদ নেই, তবে সে এমএসসি পাস। ভালো ছাত্র। প্রকৃত তরিকুলের চেয়ে সে অনেক মেধাবী।”
ঘুষের স্বীকারোক্তি ও উপঢৌকন লেনদেন
বেতন-ভাতা ছাড় করাতে ঘুষ দেওয়ার বিষয়টি অধ্যক্ষ ফারুক নিজেই স্বীকার করেছেন। তিনি কালবেলাকে বলেন, “বেতন-ভাতা ছাড় করতে ঘুষ দিতে হয়। সেই ঘুষ আমরা দিয়েছি; কিন্তু কোনো ডকুমেন্ট রাখেনি।”
আলোচিত চার শিক্ষকের বেতন ছাড়ের জন্য সহকারী পরিচালক ইসমাইলকে বেনাপোল থেকে উপঢৌকন পাঠানো হয়েছে বলেও স্বীকার করেন অধ্যক্ষ। তিনি বলেন, “একজন অফিসার আমাদের কাজ করে দিয়েছেন, সেজন্য সামান্য কিছু উপহার দেওয়া হয়েছে, এটা দোষের কিছু না।”
জাল সনদ তৈরি ও রাজনৈতিক যোগসাজশ
মুস্তাক মাস্টার্সে যে সনদ ব্যবহার করেছেন, তার প্রকৃত অধিকারী মাসুম পারভেজ জানিয়েছেন যে তিনি কেবল তার একাডেমিক সনদ অধ্যক্ষকে দিয়েছিলেন, বাকি সব ভুয়া কাগজ তৈরি করেছেন ফারুক।
এদিকে, অধ্যক্ষ ফারুকের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সুবিধাবাদী হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারী জানান, অধ্যক্ষ জুলাই বিপ্লবের আগে তাঁতী লীগ, পরে জামায়াতের রুকন এবং বর্তমানে বিএনপিতে যোগদান করেছেন। অধ্যক্ষ ফারুক অভিযোগটি স্বীকার করে বলেন, “যখন যে সরকার আসবে তখন সে সরকারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে রাজনীতি করতে হয়।”
৫০ লাখ টাকার লেনদেন এবং সহযোগীদের তালিকা
মাদ্রাসার তিনজন শিক্ষক অভিযোগ করেছেন, এই চার শিক্ষকের বেতন ছাড় করাতে অধ্যক্ষ ৫০ লাখ টাকা লেনদেন করেছেন। এই জালিয়াতির কাজে অধ্যক্ষ ফারুককে সহায়তা করেছেন একটি চক্র, যার মধ্যে রয়েছে:
* সুপার কামরুল
* রসায়নের শিক্ষক মুস্তাক (মুরাদ)
* দালাল মাহাবুজ্জামান
* তৎকালীন উপজেলা মাধ্যমিক অফিসার কামরুজ্জামান জাহাঙ্গীর
* উপাধ্যক্ষ মালেক
* যশোর সদরের বসুনদিয়া মডেল দাখিল মাদ্রাসার সুপার কামরুল ইসলাম (নিয়োগের প্রার্থী সংগ্রহ ও কাগজপত্রে সহায়তা)