১১:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

ভারতের বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১৯ হাজার সংবেদনশীল তথ্য ফাঁস,

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১১:৫৩:৫৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
  • ৫০১

ভারতের বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র কুদানকুলাম নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্টের (কেকেএনপি) প্রায় ১৯ হাজার সংবেদনশীল তথ্য ফাঁস হওয়ার ঘটনা সামনে এসেছে। আন্তর্জাতিক হ্যাকার গ্রুপ ওয়ার্ল্ড লিকস এই তথ্য ফাঁসের দায় স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফাঁস হওয়া তথ্যের পরিমাণ প্রায় ১৪.৩ গিগাবাইট। এসব তথ্যের মধ্যে বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিভিন্ন অবকাঠামোর নকশা, যন্ত্রাংশের প্রযুক্তিগত তথ্য, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের বিস্তারিত বিবরণ এবং নিরাপত্তা-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রয়েছে।

ভারতে বর্তমানে সাতটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে তামিলনাড়ুর কুদানকুলামে অবস্থিত এই কেন্দ্রটি দেশটির সবচেয়ে বড় পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র।

প্রকল্পটির অন্যতম ঠিকাদার অনিল আম্বানির মালিকানাধীন রিলায়েন্স গ্রুপ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট একটি সার্ভারে সংরক্ষিত কিছু তথ্য ফাঁস হয়েছে। তাদের দাবি, সার্ভারটি পরিচালনা করছিল ভারতীয় ডেটা সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ইয়োত্তা এবং বিষয়টি ইতোমধ্যে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারকে জানানো হয়েছে। তবে ঠিক কোন ধরনের তথ্য ফাঁস হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

অন্যদিকে ইয়োত্তা রিলায়েন্স গ্রুপের দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট সার্ভারটি রিলায়েন্স গ্রুপের মালিকানাধীন ছিল। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, গত ২৯ মে সার্ভারে সন্দেহজনক কার্যকলাপ শনাক্ত করে তারা রিলায়েন্সকে সতর্ক করেছিল এবং সম্ভাব্য র‍্যানসমওয়্যার হামলা প্রতিহত করা হয়। পরে জুনের শেষ দিকে রিলায়েন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার জানায়, একটি বহিরাগত পক্ষ তথ্য ফাঁসের হুমকি দিচ্ছে।

রয়টার্সের হাতে আসা ফাঁস হওয়া তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, কুদানকুলাম প্রকল্পের তথ্যভাণ্ডারে মোট প্রায় ৮ লাখ ৫৮ হাজার নথি রয়েছে। ফাঁস হওয়া ১৯ হাজার তথ্য ২০১৬ সাল থেকে ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত সংরক্ষিত ছিল এবং এগুলোর উল্লেখযোগ্য অংশ নিরাপত্তা ও অবকাঠামো-সংক্রান্ত।

তবে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির মূল নকশা বা কোর সিস্টেমের কোনো তথ্য ফাঁস হয়নি। কোর সিস্টেমটি সরবরাহ করেছে রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান রোসাটম

মার্কিন অলাভজনক সংস্থা নিউক্লিয়ার থ্রেট ইনিশিয়েটিভ-এর জ্যেষ্ঠ পরিচালক নিকোলাস রোথ এই ঘটনাকে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, এসব তথ্য কোনো দুষ্কৃতিকারী গোষ্ঠীর হাতে পৌঁছালে তারা বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার পরিকল্পনা আরও নিখুঁতভাবে করতে সক্ষম হতে পারে।

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের একটি সূত্র জানিয়েছে, দেশটির পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর নিয়ন্ত্রক সংস্থা নিউক্লিয়ার পাওয়ার কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়া (এনপিসিআইএল) ইতোমধ্যে রিলায়েন্স গ্রুপের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। পাশাপাশি ভারতের প্রধান সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা ইন্ডিয়ান কম্পিউটার ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম (সার্ট-ইন) তথ্য ফাঁসের ঘটনাটি তদন্ত করছে।

সূত্র: রয়টার্স

সর্বাধিক পঠিত

ভারতের বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১৯ হাজার সংবেদনশীল তথ্য ফাঁস,

ভারতের বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১৯ হাজার সংবেদনশীল তথ্য ফাঁস,

আপডেট: ১১:৫৩:৫৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

ভারতের বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র কুদানকুলাম নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্টের (কেকেএনপি) প্রায় ১৯ হাজার সংবেদনশীল তথ্য ফাঁস হওয়ার ঘটনা সামনে এসেছে। আন্তর্জাতিক হ্যাকার গ্রুপ ওয়ার্ল্ড লিকস এই তথ্য ফাঁসের দায় স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফাঁস হওয়া তথ্যের পরিমাণ প্রায় ১৪.৩ গিগাবাইট। এসব তথ্যের মধ্যে বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিভিন্ন অবকাঠামোর নকশা, যন্ত্রাংশের প্রযুক্তিগত তথ্য, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের বিস্তারিত বিবরণ এবং নিরাপত্তা-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রয়েছে।

ভারতে বর্তমানে সাতটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে তামিলনাড়ুর কুদানকুলামে অবস্থিত এই কেন্দ্রটি দেশটির সবচেয়ে বড় পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র।

প্রকল্পটির অন্যতম ঠিকাদার অনিল আম্বানির মালিকানাধীন রিলায়েন্স গ্রুপ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট একটি সার্ভারে সংরক্ষিত কিছু তথ্য ফাঁস হয়েছে। তাদের দাবি, সার্ভারটি পরিচালনা করছিল ভারতীয় ডেটা সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ইয়োত্তা এবং বিষয়টি ইতোমধ্যে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারকে জানানো হয়েছে। তবে ঠিক কোন ধরনের তথ্য ফাঁস হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

অন্যদিকে ইয়োত্তা রিলায়েন্স গ্রুপের দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট সার্ভারটি রিলায়েন্স গ্রুপের মালিকানাধীন ছিল। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, গত ২৯ মে সার্ভারে সন্দেহজনক কার্যকলাপ শনাক্ত করে তারা রিলায়েন্সকে সতর্ক করেছিল এবং সম্ভাব্য র‍্যানসমওয়্যার হামলা প্রতিহত করা হয়। পরে জুনের শেষ দিকে রিলায়েন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার জানায়, একটি বহিরাগত পক্ষ তথ্য ফাঁসের হুমকি দিচ্ছে।

রয়টার্সের হাতে আসা ফাঁস হওয়া তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, কুদানকুলাম প্রকল্পের তথ্যভাণ্ডারে মোট প্রায় ৮ লাখ ৫৮ হাজার নথি রয়েছে। ফাঁস হওয়া ১৯ হাজার তথ্য ২০১৬ সাল থেকে ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত সংরক্ষিত ছিল এবং এগুলোর উল্লেখযোগ্য অংশ নিরাপত্তা ও অবকাঠামো-সংক্রান্ত।

তবে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির মূল নকশা বা কোর সিস্টেমের কোনো তথ্য ফাঁস হয়নি। কোর সিস্টেমটি সরবরাহ করেছে রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান রোসাটম

মার্কিন অলাভজনক সংস্থা নিউক্লিয়ার থ্রেট ইনিশিয়েটিভ-এর জ্যেষ্ঠ পরিচালক নিকোলাস রোথ এই ঘটনাকে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, এসব তথ্য কোনো দুষ্কৃতিকারী গোষ্ঠীর হাতে পৌঁছালে তারা বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার পরিকল্পনা আরও নিখুঁতভাবে করতে সক্ষম হতে পারে।

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের একটি সূত্র জানিয়েছে, দেশটির পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর নিয়ন্ত্রক সংস্থা নিউক্লিয়ার পাওয়ার কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়া (এনপিসিআইএল) ইতোমধ্যে রিলায়েন্স গ্রুপের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। পাশাপাশি ভারতের প্রধান সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা ইন্ডিয়ান কম্পিউটার ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম (সার্ট-ইন) তথ্য ফাঁসের ঘটনাটি তদন্ত করছে।

সূত্র: রয়টার্স