০২:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

সাংবাদিক শামছুর রহমান কেবল হত্যা: ২৬ বছরেও বিচার শেষ হয়নি, উচ্চ আদালতে আটকে মামলা

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০১:৩০:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
  • ৫১৮

যশোরের সাহসী সাংবাদিক শামছুর রহমান কেবল হত্যাকাণ্ডের ২৬ বছর পেরিয়ে গেলেও বিচার কার্যক্রম শেষ হয়নি। আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের পর প্রথম কয়েক বছর মামলার কার্যক্রম চললেও গত দুই দশকের বেশি সময় ধরে উচ্চ আদালতে বিভিন্ন আইনি জটিলতার কারণে বিচার কার্যত স্থবির হয়ে রয়েছে।

২০০০ সালের ১৬ জুলাই রাতে যশোরে দৈনিক জনকণ্ঠের কার্যালয়ে কর্মরত অবস্থায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন সাংবাদিক শামছুর রহমান কেবল। ঘটনার পর ২০০১ সালে সিআইডি ১৬ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে।

পরবর্তীতে মামলার বর্ধিত তদন্তে নতুন করে সাংবাদিক নেতা ফারাজী আজমল হোসেনকে আসামি করা হয় এবং সাক্ষী তালিকায়ও পরিবর্তন আনা হয়। এ নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হলে মামলার বিচার প্রক্রিয়া বিলম্বিত হওয়ার পাশাপাশি অভিযোগপত্রও দুর্বল হয়ে পড়ে বলে অভিযোগ রয়েছে।

২০০৫ সালের জুনে যশোরের স্পেশাল জজ আদালতে অভিযোগ গঠনের পর মামলাটি খুলনার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। তবে নিহত সাংবাদিকের স্ত্রী ও মামলার বাদী সেলিনা আক্তার লাকি ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন। একই সময়ে বর্ধিত তদন্তে আসামি হওয়া ফারাজী আজমল হোসেনও হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। এই দুই বিষয়ের নিষ্পত্তি না হওয়ায় মামলার বিচার কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত রয়েছে।

যশোরের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু বলেন, উচ্চ আদালতে বিচারাধীন বিষয়গুলোর নিষ্পত্তি হলে খুলনার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলার বিচার কার্যক্রম পুনরায় শুরু করা সম্ভব হবে।

নিহতের সহোদর ও যশোর সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি সাজেদ রহমান বলেন, শামছুর রহমান কেবল হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে বিভিন্ন সময়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে স্মারকলিপি দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি।

মামলার ১৬ জন অভিযুক্তের মধ্যে খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী মুশফিকুর রহমান হিরক এখনও পলাতক। এছাড়া কয়েকজন অভিযুক্ত বিভিন্ন সময়ে মারা গেছেন এবং বাকিরা জামিনে রয়েছেন।

এদিকে, শামছুর রহমান কেবলের ২৬তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আজ (১৬ জুলাই) যশোরে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। প্রেসক্লাব যশোর ও যশোর সাংবাদিক ইউনিয়নের উদ্যোগে কালো ব্যাজ ধারণ, শোক র‌্যালি, কবরে শ্রদ্ধাঞ্জলি, দোয়া মাহফিল এবং স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছে।

দীর্ঘ ২৬ বছরেও বহুল আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন না হওয়ায় সাংবাদিক সমাজ ও নিহতের পরিবারের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।

সর্বাধিক পঠিত

আজ শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা মহোৎসব

সাংবাদিক শামছুর রহমান কেবল হত্যা: ২৬ বছরেও বিচার শেষ হয়নি, উচ্চ আদালতে আটকে মামলা

আপডেট: ০১:৩০:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

যশোরের সাহসী সাংবাদিক শামছুর রহমান কেবল হত্যাকাণ্ডের ২৬ বছর পেরিয়ে গেলেও বিচার কার্যক্রম শেষ হয়নি। আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের পর প্রথম কয়েক বছর মামলার কার্যক্রম চললেও গত দুই দশকের বেশি সময় ধরে উচ্চ আদালতে বিভিন্ন আইনি জটিলতার কারণে বিচার কার্যত স্থবির হয়ে রয়েছে।

২০০০ সালের ১৬ জুলাই রাতে যশোরে দৈনিক জনকণ্ঠের কার্যালয়ে কর্মরত অবস্থায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন সাংবাদিক শামছুর রহমান কেবল। ঘটনার পর ২০০১ সালে সিআইডি ১৬ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে।

পরবর্তীতে মামলার বর্ধিত তদন্তে নতুন করে সাংবাদিক নেতা ফারাজী আজমল হোসেনকে আসামি করা হয় এবং সাক্ষী তালিকায়ও পরিবর্তন আনা হয়। এ নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হলে মামলার বিচার প্রক্রিয়া বিলম্বিত হওয়ার পাশাপাশি অভিযোগপত্রও দুর্বল হয়ে পড়ে বলে অভিযোগ রয়েছে।

২০০৫ সালের জুনে যশোরের স্পেশাল জজ আদালতে অভিযোগ গঠনের পর মামলাটি খুলনার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। তবে নিহত সাংবাদিকের স্ত্রী ও মামলার বাদী সেলিনা আক্তার লাকি ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন। একই সময়ে বর্ধিত তদন্তে আসামি হওয়া ফারাজী আজমল হোসেনও হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। এই দুই বিষয়ের নিষ্পত্তি না হওয়ায় মামলার বিচার কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত রয়েছে।

যশোরের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু বলেন, উচ্চ আদালতে বিচারাধীন বিষয়গুলোর নিষ্পত্তি হলে খুলনার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলার বিচার কার্যক্রম পুনরায় শুরু করা সম্ভব হবে।

নিহতের সহোদর ও যশোর সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি সাজেদ রহমান বলেন, শামছুর রহমান কেবল হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে বিভিন্ন সময়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে স্মারকলিপি দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি।

মামলার ১৬ জন অভিযুক্তের মধ্যে খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী মুশফিকুর রহমান হিরক এখনও পলাতক। এছাড়া কয়েকজন অভিযুক্ত বিভিন্ন সময়ে মারা গেছেন এবং বাকিরা জামিনে রয়েছেন।

এদিকে, শামছুর রহমান কেবলের ২৬তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আজ (১৬ জুলাই) যশোরে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। প্রেসক্লাব যশোর ও যশোর সাংবাদিক ইউনিয়নের উদ্যোগে কালো ব্যাজ ধারণ, শোক র‌্যালি, কবরে শ্রদ্ধাঞ্জলি, দোয়া মাহফিল এবং স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছে।

দীর্ঘ ২৬ বছরেও বহুল আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন না হওয়ায় সাংবাদিক সমাজ ও নিহতের পরিবারের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।