০২:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬

ঝিনাইদহে বিএনপির দু’পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১২:১৮:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৫
  • ৫৫০

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার দোগাছি ইউনিয়নের হারানঘাট গ্রামে রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দু’টি পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই সংঘাতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে পুলিশের একটি গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়। হামলায় এক পুলিশ সদস্যও আহত হয়েছেন।
সংঘর্ষের সময় ও স্থান
* সময়: রোববার (২৩ নভেম্বর) বিকাল ৫টার দিকে।
* স্থান: ঝিনাইদহ সদর উপজেলার দোগাছি ইউনিয়নের হারানঘাট গ্রাম।
* বর্তমানে এলাকাটিতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং জড়িতদের ধরতে অভিযান চলছে।
সংঘাতের কারণ ও সূত্রপাত
সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় দোগাছি ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি নজরুল ইসলাম এবং ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজ বিশ্বাস-এর সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা রাজনৈতিক আধিপত্যের বিরোধ নিয়ে।
* শুরু: রোববার বিকেলে স্থানীয় কল্যাণপুর বাজারে নজরুল ইসলামের সমর্থক মিঠু বিশ্বাসকে (৪২) কুপিয়ে গুরুতর আহত করে প্রতিপক্ষের সমর্থকরা।
* পাল্টা হামলা: পরবর্তীতে জেলা শহরে বিএনপির সভা শেষে ফেরার পথে বিকাল ৫টার দিকে সিরাজ বিশ্বাসের সমর্থক গোলাম ফারুক (৬০) ও রকিবুল ইসলামকে (৪৫) হারানঘাট গ্রামে ধাওয়া করে নজরুল ইসলামের সমর্থকরা।
পুলিশের ওপর হামলা
আক্রান্ত গোলাম ফারুক ও রকিবুল ইসলাম একটি বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে নারিকেলবাড়িয়া পুলিশ ক্যাম্পে সাহায্য চান। পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে গাড়িতে তোলার সময় নজরুল ইসলামের সমর্থকরা পুলিশের পিকআপ ভ্যানে হামলা চালায়।
* তারা গাড়ির ভেতরে ও বাইরে নামিয়ে গোলাম ফারুক ও রকিবুল ইসলামকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে।
* হামলায় পুলিশের পিকআপ ভ্যানটি ভাঙচুর করা হয় এবং একজন পুলিশ সদস্য আহত হন।
ভাঙচুর হওয়া গাড়িটি বর্তমানে পুলিশ লাইনসে রাখা হয়েছে।
আহতদের অবস্থা
সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে মিঠু বিশ্বাস, গোলাম ফারুক ও রকিবুল ইসলামকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।
* সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. ছোঁয়া ইসরাইল জানিয়েছেন, হাসপাতালে আসা তিনজনেরই শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক।
* আহতদের মধ্যে গোলাম ফারুকের শারীরিক অবস্থা সবচেয়ে খারাপ, তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার করা হয়েছে।
পুলিশের বক্তব্য
সদর থানার ওসি আব্দুল্লাহ্ আল মামুন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “খবর পেয়ে ঝিনাইদহ থেকে অতিরিক্ত পুলিশ পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় এক পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। জড়িতদের ধরতে আমরা অভিযান চালাচ্ছি।”

সর্বাধিক পঠিত

ঝিকরগাছায় ১৬ দিন ধরে নিখোঁজ কিশোর রাকিব, সন্তানের অপেক্ষায় মায়ের বুকভরা আর্তনাদ

ঝিনাইদহে বিএনপির দু’পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

আপডেট: ১২:১৮:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৫

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার দোগাছি ইউনিয়নের হারানঘাট গ্রামে রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দু’টি পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই সংঘাতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে পুলিশের একটি গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়। হামলায় এক পুলিশ সদস্যও আহত হয়েছেন।
সংঘর্ষের সময় ও স্থান
* সময়: রোববার (২৩ নভেম্বর) বিকাল ৫টার দিকে।
* স্থান: ঝিনাইদহ সদর উপজেলার দোগাছি ইউনিয়নের হারানঘাট গ্রাম।
* বর্তমানে এলাকাটিতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং জড়িতদের ধরতে অভিযান চলছে।
সংঘাতের কারণ ও সূত্রপাত
সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় দোগাছি ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি নজরুল ইসলাম এবং ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজ বিশ্বাস-এর সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা রাজনৈতিক আধিপত্যের বিরোধ নিয়ে।
* শুরু: রোববার বিকেলে স্থানীয় কল্যাণপুর বাজারে নজরুল ইসলামের সমর্থক মিঠু বিশ্বাসকে (৪২) কুপিয়ে গুরুতর আহত করে প্রতিপক্ষের সমর্থকরা।
* পাল্টা হামলা: পরবর্তীতে জেলা শহরে বিএনপির সভা শেষে ফেরার পথে বিকাল ৫টার দিকে সিরাজ বিশ্বাসের সমর্থক গোলাম ফারুক (৬০) ও রকিবুল ইসলামকে (৪৫) হারানঘাট গ্রামে ধাওয়া করে নজরুল ইসলামের সমর্থকরা।
পুলিশের ওপর হামলা
আক্রান্ত গোলাম ফারুক ও রকিবুল ইসলাম একটি বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে নারিকেলবাড়িয়া পুলিশ ক্যাম্পে সাহায্য চান। পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে গাড়িতে তোলার সময় নজরুল ইসলামের সমর্থকরা পুলিশের পিকআপ ভ্যানে হামলা চালায়।
* তারা গাড়ির ভেতরে ও বাইরে নামিয়ে গোলাম ফারুক ও রকিবুল ইসলামকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে।
* হামলায় পুলিশের পিকআপ ভ্যানটি ভাঙচুর করা হয় এবং একজন পুলিশ সদস্য আহত হন।
ভাঙচুর হওয়া গাড়িটি বর্তমানে পুলিশ লাইনসে রাখা হয়েছে।
আহতদের অবস্থা
সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে মিঠু বিশ্বাস, গোলাম ফারুক ও রকিবুল ইসলামকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।
* সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. ছোঁয়া ইসরাইল জানিয়েছেন, হাসপাতালে আসা তিনজনেরই শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক।
* আহতদের মধ্যে গোলাম ফারুকের শারীরিক অবস্থা সবচেয়ে খারাপ, তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার করা হয়েছে।
পুলিশের বক্তব্য
সদর থানার ওসি আব্দুল্লাহ্ আল মামুন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “খবর পেয়ে ঝিনাইদহ থেকে অতিরিক্ত পুলিশ পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় এক পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। জড়িতদের ধরতে আমরা অভিযান চালাচ্ছি।”