আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে যশোরের ছয়টি আসনের মধ্যে প্রাথমিকভাবে যাদের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, তাতে বড় কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত নেই বলে জানিয়েছেন বিএনপির দায়িত্বশীল কেন্দ্রীয় নেতারা। তবে এই ইঙ্গিত সত্ত্বেও জেলার চারটি আসনে মনোনয়ন বাতিল ও অপর মনোনয়ন প্রত্যাশীদের প্রার্থী করার দাবিতে জোরদার সভা-সমাবেশ, মানববন্ধন ও গণসংযোগ অব্যাহত রয়েছে। ফলে, নির্বাচনের মূল লড়াইয়ে নামার আগে বিএনপির প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে নিজেদের অভ্যন্তরীণ বিভাজন দূর করা।
চার আসনে বিদ্রোহের আগুন
জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে চারটিতে প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে অন্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা নানা কর্মসূচি পালন করছেন। এই আসনগুলো হলো: যশোর-১, যশোর-২, যশোর-৪ এবং যশোর-৬।
* যশোর-১ (শার্শা): সাবেক দপ্তর সম্পাদক মফিকুল হাসান তৃপ্তিকে প্রাথমিক মনোনয়ন দেওয়ায় তার প্রার্থিতা বাতিলের দাবিতে একজোট হয়েছেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হাসান জহির, সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান লিটন ও সাবেক সভাপতি খায়রুজ্জামান মধু। তারা এখনো তাদের দাবিতে অটল।
* যশোর-২ (চৌগাছা-ঝিকরগাছা): এই আসনে বিরোধ তুঙ্গে। ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাবিরা সুলতানাকে প্রাথমিক মনোনয়ন দেওয়ায় বিদ্রোহ করেছেন আরও তিন মনোনয়ন প্রত্যাশী—মিজানুর রহমান খান, জহুরুল ইসলাম ও আব্দুস সামাদ নিপুন। তারা প্রকাশ্যে সমাবেশ করে সাবিরা সুলতানার মনোনয়ন বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।
* যশোর-৪ (অভয়নগর-বাঘারপাড়া): প্রাথমিক মনোনয়ন পাওয়া টিএস আইয়ুবের প্রার্থিতা বাতিলের দাবিতে সভা-সমাবেশ করছেন অভয়নগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মতিয়ার রহমান ফারাজী।
* যশোর-৬ (কেশবপুর): ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি রওনকুল ইসলাম শ্রাবণকে প্রাথমিক মনোনয়ন দেওয়ায় এর প্রতিবাদে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেন আজাদ কেন্দ্রে লিখিত আবেদন করেছেন।
মণিরামপুরে শরিক ও দলের দ্বন্দ্ব
যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনে বিএনপি এখনও কোনো প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি। এখানে জোটের শরিকদল জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রার্থী থাকার কারণে এই সিদ্ধান্ত। পূর্বে এই আসন থেকে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রয়াত মুফতি ওয়াক্কাস ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে এমপি হয়েছিলেন। বর্তমানে তার ছেলে রশিদ বিন ওয়াক্কাস মনোনয়ন প্রত্যাশী।
তবে উপজেলা বিএনপির একাংশ এই মনোনয়ন মানতে নারাজ। উপজেলা বিএনপির সভাপতি শহিদ ইকবালের অনুসারীরা বলছেন, ওয়াক্কাসকে মনোনয়ন দিলে আসনটি হাতছাড়া হবে। শহিদ ইকবাল প্রায় প্রতিদিনই গণসংযোগ করছেন।
জেলা নেতৃত্বের আশ্বাস ও তৃণমূলের উদ্বেগ
তৃণমূলের নেতাকর্মীদের আশঙ্কা, প্রার্থী পরিবর্তন না হলে এবং ‘মাঠের খোঁজ না রাখা’ নেতাদের প্রার্থী করা হলে আসন্ন নির্বাচনে দলের ক্ষতি হতে পারে।
তবে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন আশ্বাস দিয়ে বলেছেন, “বিএনপি বড় দল, যোগ্য অনেকেই আছেন। প্রাথমিক মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে বলেই অনেকে দাবি করছেন। তবে চূড়ান্ত মনোনয়ন ঘোষণা হলে সবাই একাট্টা হয়ে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করবেন। আমরা সবাইকে বলে দিয়েছি, ব্যক্তি পছন্দ হোক বা না হোক, ধানের শীষের পক্ষে কাজ করতে হবে।”
সভাপতি সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুও একই মত প্রকাশ করে বলেন, “চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়ার পর সবাই ধানের শীষের পক্ষে মাঠে নামবেন বলে আমরা বিশ্বাস করি।”
অন্যদিকে, বিএনপির দায়িত্বশীল একজন নেতা স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, যশোরের ছয়টি আসনে প্রাথমিকভাবে যাদেরকে বেছে নেওয়া হয়েছে, চূড়ান্তভাবে তারাই প্রার্থী থাকবেন এবং শেষ পর্যন্ত কোনো নড়চড় হবে না।
০২:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬
শিরোনাম:
প্রার্থী বদলের ইঙ্গিত নেই: যশোরে
-
নিউজ ডেস্ক - আপডেট: ০৯:৩২:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৫
- ৫৭৮
সর্বাধিক পঠিত



















