দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের পাশে পরিচালিত হয়ে আসা যশোরের ঐতিহ্যবাহী গদখালী ফুলের বাজারকে অবশেষে মহাসড়ক থেকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ফুল ব্যবসায়ীদের বেচাকেনার এই কেন্দ্র এখন গদখালী ফুল বিপণন কেন্দ্রে স্থানান্তরিত হয়েছে। ঝিকরগাছা উপজেলা প্রশাসন এবং কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের ঐকান্তিক উদ্যোগে এই ঐতিহাসিক স্থানান্তর সম্ভব হয়েছে।
🚨 ঝুঁকি মুক্ত হলো ব্যবসা
ফুল ব্যবসায়ীরা জানান, তাঁরা কয়েক যুগ ধরে এই মহাসড়কের দু’পাশে অত্যন্ত ঝুঁকির মধ্যে বেচাকেনা করতেন। বিশেষ করে কাকডাকা ভোরে যখন ফুল কেনাবেচা শুরু হয়, তখন বেনাপোল থেকে পণ্যবাহী দ্রুতগামী ট্রাকের আনাগোনা চলত। এর ফলে অতীতে এই স্থানে একাধিকবার দুর্ঘটনা এবং প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। বাজারটি ফুল বিপণন কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়ায় এখন চাষী ও ব্যবসায়ীরা নিরাপদে বেচাকেনা করতে পারবেন।
গদখালী ফুলচাষী ও ফুল ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আবু জাফর বলেন, “মহাসড়কের পাশ থেকে বাজারটি সরিয়ে দেওয়ায় আমরা এখন নিরাপদে বেচাকেনা করতে পারব। নতুন কেন্দ্রে এখন আর তেমন কোনো সমস্যা নেই, যা সকলের জন্যই ভালো।”
🛠️ প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে বিপণন কেন্দ্র প্রস্তুত
কৃষি বিপণন অধিদপ্তর যশোরের সিনিয়র কৃষি বিপণন কর্মকর্তা কিশোর কুমার সাহা জানান, অধিদপ্তর ২০১৯ সালে গদখালী ফুলবাজারের পাশে গদখালী ফুল বিপণন কেন্দ্র স্থাপন করলেও বিভিন্ন সমস্যার কারণে তা চালু করা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর তিনি জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও চাষীদের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা করে এই কেন্দ্র চালুর উদ্যোগ নেন।
প্রধান চিহ্নিত সমস্যাগুলো ছিল:
* স্থান সংকট ও যোগাযোগ ব্যবস্থার দুর্বলতা।
* ড্রেনেজ সিস্টেম ও বিদ্যুৎ সংযোগের অভাব।
সমস্যা চিহ্নিত হওয়ার পর ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সহযোগিতায় সকল সমস্যার সমাধান করা হয়। ফুলচাষী ও ব্যবসায়ী সমিতি বিপণন কেন্দ্রের সামনে দুই বিঘা জমি ইজারা নিয়েছেন। উপজেলা প্রশাসন রাস্তা, ড্রেন ও বিদ্যুতের সমস্যার সমাধান করে কেন্দ্রটি সম্পূর্ণ প্রস্তুত করেছে।
🌱 দেশের ৭০% ফুলের যোগানদাতা গদখালী
স্থানীয় কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, যশোর জেলাতে প্রায় ৭ হাজার ফুলচাষি রয়েছেন, যাঁরা প্রায় ১,২০০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন প্রকার ফুলের চাষ করেন। এর মধ্যে ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালী, পানিসারা, নাভারণ, নির্বাসখোলার বিস্তীর্ণ মাঠে প্রায় ৬৫০ হেক্টর জমিতে ফুল চাষ হয়। এই অঞ্চল দেশের মোট চাহিদার অন্তত ৭০ ভাগ ফুল সরবরাহ করে। এখানে প্রধানত গ্লাডিওলাস, রজনীগন্ধা, গোলাপ, জারবেরা, গাঁদা, জিপসি, রডস্টিক, ক্যালেন্ডোলা, চন্দ্র মল্লিকা ইত্যাদি ফুলের চাষ হয়।
📈 বাজারটির নিরাপদ ভবিষ্যৎ
ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ভুপালী সরকার জানান, ফুলচাষী ও ব্যবসায়ী সমিতির সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতেই মহাসড়কের ঝুঁকিপূর্ণ স্থান থেকে বাজারটি ফুল বিপণন কেন্দ্রে আনা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই স্থানান্তরের ফলে দেশের সর্ববৃহৎ এই ফুলের বাজারটি যেমন নিরাপদ হয়ে উঠবে, তেমনি ধীরে ধীরে এর বিস্তৃতিও ঘটবে। এজন্য তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
০৭:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬
শিরোনাম:
ঐতিহ্যের গদখালী ফুলের বাজার অবশেষে স্থানান্তরিত
-
নিউজ ডেস্ক - আপডেট: ১২:০৩:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৫
- ৬৮৪
সর্বাধিক পঠিত






















