০৪:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

প্রার্থী বাছাইয়ে বিএনপিতে ‘অগ্নিপরীক্ষা’: ধানের শীষের টিকিট পেতে পার হতে হবে ৬ ধাপের কঠিন যাচাই-বাছাই

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০১:০৫:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৫
  • ৫৬৯

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে যোগ্য প্রার্থী চূড়ান্ত করতে কঠিন যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বিএনপির হাইকমান্ড। এবার ধানের শীষের প্রার্থী হতে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের পার হতে হবে মোট ছয়টি ধাপ। এসব ধাপ পার হওয়ার পরই যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত তালিকা অনুমোদন দেবে দলের মনোনয়ন বোর্ড।
বিএনপির হাইকমান্ড সূত্রে জানা গেছে, এবার শুধু পরিচিতি দিয়ে মনোনয়ন মিলবে না। প্রার্থী হওয়ার জন্য জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা, সাংগঠনিকভাবে সক্রিয়তা এবং রাজনৈতিক ত্যাগ-তিতিক্ষা থাকতে হবে। কোনোভাবেই বিতর্কিত, নিষ্ক্রিয় কিংবা সুযোগসন্ধানীরা যেন প্রার্থী হতে না পারেন, সেজন্যই এমন কঠিন প্রক্রিয়া অনুসরণ করছে দল।
ছয় ধাপে যাচাই প্রক্রিয়া:
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি এবার প্রার্থী বাছাইয়ে বহু স্তরের প্রক্রিয়া হাতে নিয়েছে:
১. প্রথম ধাপ: ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিজ উদ্যোগে দেশজুড়ে জরিপ চালিয়ে সম্ভাব্য প্রার্থীদের জনপ্রিয়তা ও কার্যকারিতা যাচাই করেছেন।
২. দ্বিতীয় ধাপ: দলের মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির নেতারা সম্ভাব্য প্রার্থীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছেন এবং স্থানীয় নেতাদের মতামত সংগ্রহ করেছেন।
৩. তৃতীয় ধাপ (চলমান): প্রার্থীদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও পাসপোর্ট সাইজের ছবি সংগ্রহ করা হচ্ছে। এই তথ্য কেন্দ্রীয়ভাবে সংরক্ষণ করা হবে।
৪. চতুর্থ ধাপ: দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি ও আবেদন গ্রহণ।
৫. পঞ্চম ধাপ: মনোনয়ন বোর্ডের সামনে সাক্ষাৎকার ও চূড়ান্ত যাচাই।
৬. ষষ্ঠ ধাপ: চূড়ান্ত মনোনয়ন ঘোষণা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির একজন ভাইস চেয়ারম্যান ঢাকা মেইলকে বলেন, “এবারের নির্বাচনে শুধু পরিচিত নাম বা অভিজ্ঞতা থাকলেই মনোনয়ন মিলবে না। বিগত দিনে তার আন্দোলনে ভূমিকা, গ্রহণযোগ্যতা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও যোগ্যতা প্রধান মানদণ্ড হবে। দল সেভাবেই এগোচ্ছে।”
অভ্যন্তরীণ ঐক্যের বার্তা ও কড়া নির্দেশনা:
৫০টির বেশি আসনে একক প্রার্থী থাকায় সেগুলোর বিষয়ে অনেকটাই নির্ভার বিএনপি। তবে একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী আছেন এমন আসনের নেতাদের ঢাকায় ডেকে কথা বলছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার বার্তা দিয়ে তাদের কড়া নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে যে, কোনোভাবেই দল মনোনীত প্রার্থীর বাইরে যাওয়া যাবে না।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ঢাকা মেইলকে বলেন, “প্রার্থী চূড়ান্ত করার আগে প্রত্যেক দল আগ্রহীদের সঙ্গে কথা বলে। আমরাও সেভাবে সবার সঙ্গে কথা বলছি। স্বাভাবিকভাবেই দলের সিদ্ধান্ত যাতে সবাই মেনে নিয়ে মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেন, সেই নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।”
অক্টোবরের মধ্যেই প্রাথমিক তালিকা:
জানা গেছে, সব প্রক্রিয়া শেষে চলতি অক্টোবরের মধ্যেই দলের প্রাথমিক তালিকা তৈরি করা হতে পারে। একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র বলছে, অক্টোবরের মধ্যে প্রায় ২৫০ আসনে একক প্রার্থীকে ‘সবুজ সংকেত’ দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে কুমিল্লা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিম ভুঁইয়া জানিয়েছেন, তাদের বিভাগের ২২টি আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের এনআইডি ও ছবি সংগ্রহ করা হয়েছে।
মনোনয়নপ্রত্যাশীরা এই বাছাই প্রক্রিয়াকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের প্রত্যাশা, দল নিরপেক্ষভাবে বাছাই শেষে ত্যাগী, গ্রহণযোগ্য ও বিজয়ী হতে পারবেন এমন প্রার্থীকে মনোনয়ন দেবে।
কোন্দলের শঙ্কা:
বেশির ভাগ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় প্রার্থী ঘোষণার পর অভ্যন্তরীণ কোন্দল মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে বলে হাইকমান্ডের মনে শঙ্কা রয়েছে। ইতিমধ্যেই সিলেট বিভাগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকারকে কেন্দ্র করে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক নেতার কর্মীদের মধ্যে সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে। একজন কেন্দ্রীয় নেতা নাম প্রকাশ না করে বলেন, “এখনই প্রার্থী ঘোষণা দেওয়া হলে তৃণমূল দ্বন্দ্ব ও বিভাজন বাড়বে।”

সর্বাধিক পঠিত

শার্শায় বাক ও শারীরিক প্রতিবন্ধী দম্পতির ৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে গ্রেফতার ১

প্রার্থী বাছাইয়ে বিএনপিতে ‘অগ্নিপরীক্ষা’: ধানের শীষের টিকিট পেতে পার হতে হবে ৬ ধাপের কঠিন যাচাই-বাছাই

আপডেট: ০১:০৫:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৫

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে যোগ্য প্রার্থী চূড়ান্ত করতে কঠিন যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বিএনপির হাইকমান্ড। এবার ধানের শীষের প্রার্থী হতে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের পার হতে হবে মোট ছয়টি ধাপ। এসব ধাপ পার হওয়ার পরই যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত তালিকা অনুমোদন দেবে দলের মনোনয়ন বোর্ড।
বিএনপির হাইকমান্ড সূত্রে জানা গেছে, এবার শুধু পরিচিতি দিয়ে মনোনয়ন মিলবে না। প্রার্থী হওয়ার জন্য জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা, সাংগঠনিকভাবে সক্রিয়তা এবং রাজনৈতিক ত্যাগ-তিতিক্ষা থাকতে হবে। কোনোভাবেই বিতর্কিত, নিষ্ক্রিয় কিংবা সুযোগসন্ধানীরা যেন প্রার্থী হতে না পারেন, সেজন্যই এমন কঠিন প্রক্রিয়া অনুসরণ করছে দল।
ছয় ধাপে যাচাই প্রক্রিয়া:
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি এবার প্রার্থী বাছাইয়ে বহু স্তরের প্রক্রিয়া হাতে নিয়েছে:
১. প্রথম ধাপ: ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিজ উদ্যোগে দেশজুড়ে জরিপ চালিয়ে সম্ভাব্য প্রার্থীদের জনপ্রিয়তা ও কার্যকারিতা যাচাই করেছেন।
২. দ্বিতীয় ধাপ: দলের মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির নেতারা সম্ভাব্য প্রার্থীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছেন এবং স্থানীয় নেতাদের মতামত সংগ্রহ করেছেন।
৩. তৃতীয় ধাপ (চলমান): প্রার্থীদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও পাসপোর্ট সাইজের ছবি সংগ্রহ করা হচ্ছে। এই তথ্য কেন্দ্রীয়ভাবে সংরক্ষণ করা হবে।
৪. চতুর্থ ধাপ: দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি ও আবেদন গ্রহণ।
৫. পঞ্চম ধাপ: মনোনয়ন বোর্ডের সামনে সাক্ষাৎকার ও চূড়ান্ত যাচাই।
৬. ষষ্ঠ ধাপ: চূড়ান্ত মনোনয়ন ঘোষণা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির একজন ভাইস চেয়ারম্যান ঢাকা মেইলকে বলেন, “এবারের নির্বাচনে শুধু পরিচিত নাম বা অভিজ্ঞতা থাকলেই মনোনয়ন মিলবে না। বিগত দিনে তার আন্দোলনে ভূমিকা, গ্রহণযোগ্যতা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও যোগ্যতা প্রধান মানদণ্ড হবে। দল সেভাবেই এগোচ্ছে।”
অভ্যন্তরীণ ঐক্যের বার্তা ও কড়া নির্দেশনা:
৫০টির বেশি আসনে একক প্রার্থী থাকায় সেগুলোর বিষয়ে অনেকটাই নির্ভার বিএনপি। তবে একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী আছেন এমন আসনের নেতাদের ঢাকায় ডেকে কথা বলছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার বার্তা দিয়ে তাদের কড়া নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে যে, কোনোভাবেই দল মনোনীত প্রার্থীর বাইরে যাওয়া যাবে না।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ঢাকা মেইলকে বলেন, “প্রার্থী চূড়ান্ত করার আগে প্রত্যেক দল আগ্রহীদের সঙ্গে কথা বলে। আমরাও সেভাবে সবার সঙ্গে কথা বলছি। স্বাভাবিকভাবেই দলের সিদ্ধান্ত যাতে সবাই মেনে নিয়ে মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেন, সেই নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।”
অক্টোবরের মধ্যেই প্রাথমিক তালিকা:
জানা গেছে, সব প্রক্রিয়া শেষে চলতি অক্টোবরের মধ্যেই দলের প্রাথমিক তালিকা তৈরি করা হতে পারে। একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র বলছে, অক্টোবরের মধ্যে প্রায় ২৫০ আসনে একক প্রার্থীকে ‘সবুজ সংকেত’ দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে কুমিল্লা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিম ভুঁইয়া জানিয়েছেন, তাদের বিভাগের ২২টি আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের এনআইডি ও ছবি সংগ্রহ করা হয়েছে।
মনোনয়নপ্রত্যাশীরা এই বাছাই প্রক্রিয়াকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের প্রত্যাশা, দল নিরপেক্ষভাবে বাছাই শেষে ত্যাগী, গ্রহণযোগ্য ও বিজয়ী হতে পারবেন এমন প্রার্থীকে মনোনয়ন দেবে।
কোন্দলের শঙ্কা:
বেশির ভাগ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় প্রার্থী ঘোষণার পর অভ্যন্তরীণ কোন্দল মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে বলে হাইকমান্ডের মনে শঙ্কা রয়েছে। ইতিমধ্যেই সিলেট বিভাগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকারকে কেন্দ্র করে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক নেতার কর্মীদের মধ্যে সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে। একজন কেন্দ্রীয় নেতা নাম প্রকাশ না করে বলেন, “এখনই প্রার্থী ঘোষণা দেওয়া হলে তৃণমূল দ্বন্দ্ব ও বিভাজন বাড়বে।”