০৫:০৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

যশোরে ‘আয়নাবাজি’ স্টাইলে মামার হয়ে হাজিরা দিতে গিয়ে কারাগারে ভাগনে!

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১১:৪০:২৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৫
  • ৫৭১

জনপ্রিয় সিনেমা ‘আয়নাবাজি’র কাহিনীর মতো ঘটনা ঘটল যশোরে। আপন মামার পরিবর্তে আদালতে হাজিরা দিতে গিয়ে কারাগারে গেছেন ভাগনে। মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে আসামির নাম-ঠিকানা যাচাইয়ের সময় বিষয়টি ধরা পড়ে। পরে প্রক্সি দেওয়া ব্যক্তিও বিষয়টি স্বীকার করেন।
কারাগারে যাওয়া আসামির নাম মো. শামীম আহম্মেদ (২৭)। তিনি যশোর সদর উপজেলার ভেকুটিয়া গ্রামের জামশেদ আলীর ছেলে। শামীম তার ছোট মামা হাসানের পক্ষে প্রক্সি দিতে গিয়েছেন। হাসান একই গ্রামের মন্টুর ছেলে। যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের ভারপ্রাপ্ত জেলার আবিদ আহম্মেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
যেভাবে ধরা পড়ল প্রতারণা
যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার সূত্রে জানা যায়, যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় চাঁদাবাজির অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় (কোতোয়ালি থানার মামলা নং-২৪, তারিখ-০৯.১১.২০২৪) আসামি হাসানকে আদালতে হাজিরা দিতে হচ্ছিল। তার ভাগনে শামীম ইতোপূর্বে এই মামলায় ৩/৪ বার মামার পরিচয়ে আদালতে হাজিরা দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) শামীম যখন আদালতে হাজিরা দিতে যান, তখন অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ফলে মূল আসামি হাসানের পরিবর্তে কারাগারে পাঠানো হয় ভাগনে শামীমকে।
কারাগারে নাম, পিতার নাম ও ঠিকানা যাচাইয়ের সময় শামীমের কথাবার্তা অসংলগ্ন মনে হওয়ায় কারা কর্তৃপক্ষের সন্দেহ হয়। পরবর্তীতে কারাগারের ‘Prison ID System’-এর মাধ্যমে ফিঙ্গার প্রিন্ট ব্যবহার করে তার প্রকৃত পরিচয় (এনআইডি নং-১৯৫৫১৪৭৪৪০) মো. শামীম আহম্মেদ হিসেবে শনাক্ত হয়।
কারা কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ
জিজ্ঞাসাবাদে শামীম স্বীকার করেন যে, হাসান তার আপন ছোট মামা এবং মামার পরিবর্তে তিনি ৩/৪ বার আদালতে হাজিরা দিয়েছেন। এই তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পর কারা কর্তৃপক্ষ পুরো বিষয়টি প্রতিবেদন আকারে আদালতে প্রেরণ করেছে।
জানা গেছে, আদালতের নির্দেশে এখন শামীমের বিরুদ্ধে প্রক্সি দেওয়ার অপরাধে মামলা দায়ের হতে পারে এবং মূল আসামি হাসানের বিরুদ্ধেও নতুন করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হতে পারে।

সর্বাধিক পঠিত

শার্শায় বাক ও শারীরিক প্রতিবন্ধী দম্পতির ৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে গ্রেফতার ১

যশোরে ‘আয়নাবাজি’ স্টাইলে মামার হয়ে হাজিরা দিতে গিয়ে কারাগারে ভাগনে!

আপডেট: ১১:৪০:২৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৫

জনপ্রিয় সিনেমা ‘আয়নাবাজি’র কাহিনীর মতো ঘটনা ঘটল যশোরে। আপন মামার পরিবর্তে আদালতে হাজিরা দিতে গিয়ে কারাগারে গেছেন ভাগনে। মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে আসামির নাম-ঠিকানা যাচাইয়ের সময় বিষয়টি ধরা পড়ে। পরে প্রক্সি দেওয়া ব্যক্তিও বিষয়টি স্বীকার করেন।
কারাগারে যাওয়া আসামির নাম মো. শামীম আহম্মেদ (২৭)। তিনি যশোর সদর উপজেলার ভেকুটিয়া গ্রামের জামশেদ আলীর ছেলে। শামীম তার ছোট মামা হাসানের পক্ষে প্রক্সি দিতে গিয়েছেন। হাসান একই গ্রামের মন্টুর ছেলে। যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের ভারপ্রাপ্ত জেলার আবিদ আহম্মেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
যেভাবে ধরা পড়ল প্রতারণা
যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার সূত্রে জানা যায়, যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় চাঁদাবাজির অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় (কোতোয়ালি থানার মামলা নং-২৪, তারিখ-০৯.১১.২০২৪) আসামি হাসানকে আদালতে হাজিরা দিতে হচ্ছিল। তার ভাগনে শামীম ইতোপূর্বে এই মামলায় ৩/৪ বার মামার পরিচয়ে আদালতে হাজিরা দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) শামীম যখন আদালতে হাজিরা দিতে যান, তখন অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ফলে মূল আসামি হাসানের পরিবর্তে কারাগারে পাঠানো হয় ভাগনে শামীমকে।
কারাগারে নাম, পিতার নাম ও ঠিকানা যাচাইয়ের সময় শামীমের কথাবার্তা অসংলগ্ন মনে হওয়ায় কারা কর্তৃপক্ষের সন্দেহ হয়। পরবর্তীতে কারাগারের ‘Prison ID System’-এর মাধ্যমে ফিঙ্গার প্রিন্ট ব্যবহার করে তার প্রকৃত পরিচয় (এনআইডি নং-১৯৫৫১৪৭৪৪০) মো. শামীম আহম্মেদ হিসেবে শনাক্ত হয়।
কারা কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ
জিজ্ঞাসাবাদে শামীম স্বীকার করেন যে, হাসান তার আপন ছোট মামা এবং মামার পরিবর্তে তিনি ৩/৪ বার আদালতে হাজিরা দিয়েছেন। এই তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পর কারা কর্তৃপক্ষ পুরো বিষয়টি প্রতিবেদন আকারে আদালতে প্রেরণ করেছে।
জানা গেছে, আদালতের নির্দেশে এখন শামীমের বিরুদ্ধে প্রক্সি দেওয়ার অপরাধে মামলা দায়ের হতে পারে এবং মূল আসামি হাসানের বিরুদ্ধেও নতুন করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হতে পারে।