০৫:০২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

পরপর তিন কন্যাসন্তান হওয়ায় ক্ষোভ, নবজাতককে খালে ফেলে হত্যার অভিযোগ মায়ের বিরুদ্ধে; আটক ১

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৮:২৭:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ অক্টোবর ২০২৫
  • ৫৬০

সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলায় পরপর দুটি কন্যাসন্তান জন্মের পর তৃতীয় সন্তানও মেয়ে হওয়ায় পাঁচ দিন বয়সী নবজাতককে খালে ফেলে হত্যার অভিযোগ উঠেছে মায়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পুলিশ অভিযুক্ত মা শারমিন আক্তারকে (৩২) গ্রেপ্তার করেছে। সোমবার (২০ অক্টোবর) রাত পৌনে ১২টার দিকে কলারোয়ার রঘুনাথপুর গ্রামে মর্মান্তিক এই ঘটনা ঘটে।
মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, সোমবার রাত ৮টার দিকে শিশুটির বাবা ইব্রাহিম খলিল (৪২) থানায় এসে কন্যাশিশু নিখোঁজের বিষয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে চাইলে তার বক্তব্য সন্দেহজনক মনে হয়। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুর মা শারমিন আক্তারের সঙ্গে কথা বলে।
জিজ্ঞাসাবাদে নিহত শিশুর মা শারমিন স্বীকার করেন, তাদের পাঁচ বছর ও দেড় বছরের আরও দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে। পরপর কন্যা সন্তান জন্ম নেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি নবজাতক শিশুটিকে বাড়ির পাশের সরকারি খালে ফেলে দেন।
তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী পুলিশ বাড়ির পাশের খালের কচুরিপানার মধ্য থেকে শিশুটির মৃতদেহ উদ্ধার করে। হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক নবজাতককে মৃত ঘোষণা করেন।
কলারোয়া থানার ওসি আরও জানান, শিশুটির দাদি খাদিজা খাতুন বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত শারমিন আক্তারকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মৃত শিশুর ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
ঘটনাস্থলে সাতক্ষীরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিঠুন সরকার, ডিবি ও পিবিআই কর্মকর্তাসহ স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিশুটির মা-বাবা সোমবার সন্ধ্যা থেকে শিশুটিকে খুঁজে না পাওয়ার দাবি করলেও তাদের আচরণ সন্দেহজনক ছিল। নিহত শিশুর বাবা ইব্রাহিম খলিলের বাড়ি শ্যামনগর উপজেলায় হলেও তিনি রঘুনাথপুরে শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করতেন।

সর্বাধিক পঠিত

শার্শায় বাক ও শারীরিক প্রতিবন্ধী দম্পতির ৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে গ্রেফতার ১

পরপর তিন কন্যাসন্তান হওয়ায় ক্ষোভ, নবজাতককে খালে ফেলে হত্যার অভিযোগ মায়ের বিরুদ্ধে; আটক ১

আপডেট: ০৮:২৭:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ অক্টোবর ২০২৫

সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলায় পরপর দুটি কন্যাসন্তান জন্মের পর তৃতীয় সন্তানও মেয়ে হওয়ায় পাঁচ দিন বয়সী নবজাতককে খালে ফেলে হত্যার অভিযোগ উঠেছে মায়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পুলিশ অভিযুক্ত মা শারমিন আক্তারকে (৩২) গ্রেপ্তার করেছে। সোমবার (২০ অক্টোবর) রাত পৌনে ১২টার দিকে কলারোয়ার রঘুনাথপুর গ্রামে মর্মান্তিক এই ঘটনা ঘটে।
মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, সোমবার রাত ৮টার দিকে শিশুটির বাবা ইব্রাহিম খলিল (৪২) থানায় এসে কন্যাশিশু নিখোঁজের বিষয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে চাইলে তার বক্তব্য সন্দেহজনক মনে হয়। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুর মা শারমিন আক্তারের সঙ্গে কথা বলে।
জিজ্ঞাসাবাদে নিহত শিশুর মা শারমিন স্বীকার করেন, তাদের পাঁচ বছর ও দেড় বছরের আরও দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে। পরপর কন্যা সন্তান জন্ম নেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি নবজাতক শিশুটিকে বাড়ির পাশের সরকারি খালে ফেলে দেন।
তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী পুলিশ বাড়ির পাশের খালের কচুরিপানার মধ্য থেকে শিশুটির মৃতদেহ উদ্ধার করে। হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক নবজাতককে মৃত ঘোষণা করেন।
কলারোয়া থানার ওসি আরও জানান, শিশুটির দাদি খাদিজা খাতুন বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত শারমিন আক্তারকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মৃত শিশুর ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
ঘটনাস্থলে সাতক্ষীরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিঠুন সরকার, ডিবি ও পিবিআই কর্মকর্তাসহ স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিশুটির মা-বাবা সোমবার সন্ধ্যা থেকে শিশুটিকে খুঁজে না পাওয়ার দাবি করলেও তাদের আচরণ সন্দেহজনক ছিল। নিহত শিশুর বাবা ইব্রাহিম খলিলের বাড়ি শ্যামনগর উপজেলায় হলেও তিনি রঘুনাথপুরে শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করতেন।