১০:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬

যুবদল নেতাকে মারধর ও চাঁদা দাবির অভিযোগে সাবেক চেয়ারম্যান-ওসি সহ ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০১:৫৩:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ অক্টোবর ২০২৫
  • ৫৫৯

যুবদল নেতাকে তুলে নিয়ে মারধর, ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগে ১৭ বছর পর যশোর আদালতে মামলা হয়েছে।
শার্শা উপজেলা যুবদলের তৎকালীন দপ্তর সম্পাদক, ইউপি সদস্য এবং বর্তমান উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোস্তফা কামাল মিন্টু এই মামলাটি দায়ের করেন।
অভিযুক্ত যারা
মামলায় মোট ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে। তারা হলেন:
* সাবেক শার্শা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান (আওয়ামী লীগ নেতা): কবীর উদ্দিন তোতা
* শার্শা উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি (তৎকালীন): রফিকুল ইসলাম
* শার্শা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক: নজরুল ইসলাম
* তৎকালীন শার্শা থানার ওসি: এস. এম. বদরুল আলম
* তৎকালীন পুলিশের সদস্য: সাবেক এসআই আব্দুস সালাম, এসআই রকিবুজ্জামান, এসআই ইকবাল আহমেদ, এএসআই আজাদ হাওলাদার, কনস্টেবল সুলতান আলম, রিয়াজুল ইসলাম, এরশাদুল হক ও আবুল কালাম।
মামলার অভিযোগ
মামলার বাদী মোস্তফা কামাল মিন্টু যশোরের শার্শা উপজেলার শ্যামলাগাছি গ্রামের বাসিন্দা। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন:
* অপহরণ ও মারধর: ২০০৮ সালের ১৬ জুন রাত ৮টার দিকে শ্যামলাগাছি গ্রামে তার চাচার বাড়ি থেকে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতারা তাকে তুলে শার্শা থানায় নিয়ে যান। থানায় নেওয়ার পরই তার হাত-পা বেঁধে আসামিরা বেদম মারধর শুরু করেন।
* চাঁদা দাবি ও হুমকি: মারধরের একপর্যায়ে তৎকালীন ওসি এস. এম. বদরুল আলম ও এসআই রকিবুজ্জামান তার কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে তাকে ‘ক্রসফায়ারে দেওয়া হবে’ বলে হুমকি দেওয়া হয়।
* টর্চার: এই সময় ওসি তার দুই চোখ বেঁধে, হাতকড়া পরিয়ে দেন এবং পানির বোতল, রুল ও আগ্নেয়াস্ত্রের কাঠের বাট দিয়ে তার পায়ের পাতা থেকে হাঁটু পর্যন্ত নির্মমভাবে প্রহার করেন।
* টাকা আদায় ও মিথ্যা মামলা: খবর পেয়ে বাদীর চাচাতো ভাই ৫ লাখ টাকা এনে ওসিকে দেন। কিন্তু বাকি টাকার জন্য তাকে না ছেড়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের সরবরাহকৃত একটি শাটার গান ও দুই রাউন্ড রাইফেলের গুলি দিয়ে তাকে আদালতে চালান দেওয়া হয়।
* শারীরিক ও পারিবারিক ক্ষতি: এই মারধরের কারণে মিন্টুকে দেশে ও ভারতে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। সন্তানের এমন পরিস্থিতিতে তার মা হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান।
* মামলার বিলম্ব: দীর্ঘদিন চিকিৎসা, এলাকাছাড়া জীবন এবং দেশের পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকায় মামলা করতে দেরি হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

সর্বাধিক পঠিত

ঈদ পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময়ে নুরুজ্জামান লিটনের সঙ্গে বাগআঁচড়া বিএনপি নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ

যুবদল নেতাকে মারধর ও চাঁদা দাবির অভিযোগে সাবেক চেয়ারম্যান-ওসি সহ ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা

আপডেট: ০১:৫৩:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ অক্টোবর ২০২৫

যুবদল নেতাকে তুলে নিয়ে মারধর, ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগে ১৭ বছর পর যশোর আদালতে মামলা হয়েছে।
শার্শা উপজেলা যুবদলের তৎকালীন দপ্তর সম্পাদক, ইউপি সদস্য এবং বর্তমান উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোস্তফা কামাল মিন্টু এই মামলাটি দায়ের করেন।
অভিযুক্ত যারা
মামলায় মোট ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে। তারা হলেন:
* সাবেক শার্শা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান (আওয়ামী লীগ নেতা): কবীর উদ্দিন তোতা
* শার্শা উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি (তৎকালীন): রফিকুল ইসলাম
* শার্শা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক: নজরুল ইসলাম
* তৎকালীন শার্শা থানার ওসি: এস. এম. বদরুল আলম
* তৎকালীন পুলিশের সদস্য: সাবেক এসআই আব্দুস সালাম, এসআই রকিবুজ্জামান, এসআই ইকবাল আহমেদ, এএসআই আজাদ হাওলাদার, কনস্টেবল সুলতান আলম, রিয়াজুল ইসলাম, এরশাদুল হক ও আবুল কালাম।
মামলার অভিযোগ
মামলার বাদী মোস্তফা কামাল মিন্টু যশোরের শার্শা উপজেলার শ্যামলাগাছি গ্রামের বাসিন্দা। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন:
* অপহরণ ও মারধর: ২০০৮ সালের ১৬ জুন রাত ৮টার দিকে শ্যামলাগাছি গ্রামে তার চাচার বাড়ি থেকে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতারা তাকে তুলে শার্শা থানায় নিয়ে যান। থানায় নেওয়ার পরই তার হাত-পা বেঁধে আসামিরা বেদম মারধর শুরু করেন।
* চাঁদা দাবি ও হুমকি: মারধরের একপর্যায়ে তৎকালীন ওসি এস. এম. বদরুল আলম ও এসআই রকিবুজ্জামান তার কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে তাকে ‘ক্রসফায়ারে দেওয়া হবে’ বলে হুমকি দেওয়া হয়।
* টর্চার: এই সময় ওসি তার দুই চোখ বেঁধে, হাতকড়া পরিয়ে দেন এবং পানির বোতল, রুল ও আগ্নেয়াস্ত্রের কাঠের বাট দিয়ে তার পায়ের পাতা থেকে হাঁটু পর্যন্ত নির্মমভাবে প্রহার করেন।
* টাকা আদায় ও মিথ্যা মামলা: খবর পেয়ে বাদীর চাচাতো ভাই ৫ লাখ টাকা এনে ওসিকে দেন। কিন্তু বাকি টাকার জন্য তাকে না ছেড়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের সরবরাহকৃত একটি শাটার গান ও দুই রাউন্ড রাইফেলের গুলি দিয়ে তাকে আদালতে চালান দেওয়া হয়।
* শারীরিক ও পারিবারিক ক্ষতি: এই মারধরের কারণে মিন্টুকে দেশে ও ভারতে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। সন্তানের এমন পরিস্থিতিতে তার মা হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান।
* মামলার বিলম্ব: দীর্ঘদিন চিকিৎসা, এলাকাছাড়া জীবন এবং দেশের পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকায় মামলা করতে দেরি হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।