০২:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই ঠিকাদারকে বিল পরিশোধের অভিযোগ গণপূর্ত প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০১:১৩:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
  • ৫০২

ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৪-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাসুদ রানার বিরুদ্ধে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে কাজ সম্পন্ন না করেই ঠিকাদারকে প্রায় ২ কোটি ৬৪ লাখ টাকার বিল পরিশোধ এবং এর বিনিময়ে কমিশন নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে কয়েকটি প্রকল্প পরিদর্শনে কিছু কাজ অসম্পূর্ণ অবস্থায় পাওয়ার দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, গণপূর্ত অধিদপ্তরের ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৪-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাসুদ রানা ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে এপিপি (বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনা) বরাদ্দের আওতায় পাঁচটি পৃথক দরপত্র আহ্বান করেন। এসব কাজের কয়েকটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন না হলেও সরকারি নথিতে কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে ঠিকাদারকে পুরো বিল পরিশোধ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

দরপত্র আইডি ১২৩৬২৩৯-এর আওতায় ইস্কাটন গার্ডেন সরকারি অফিসার্স কোয়ার্টার্সের অরুণিমা-নিহারিকা ক্যাম্পাসের উত্তর ও দক্ষিণ পাশের ঝুঁকিপূর্ণ ও জরাজীর্ণ সীমানা প্রাচীর পুনর্নির্মাণ এবং উচ্চতা বৃদ্ধির জন্য প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ টাকার কাজ আহ্বান করা হয়।

দরপত্র নোটিশ অনুযায়ী, কাজটি ২৩ জুন ২০২৬-এর মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে অভিযোগের ভিত্তিতে অর্থবছর শেষ হওয়ার পর সরেজমিনে পরিদর্শনে কাজটি অসম্পূর্ণ অবস্থায় পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, কাজটি সম্পন্ন না হলেও জুন ক্লোজিংয়ের সময় সরকারি নথিতে তা সম্পন্ন দেখিয়ে ঠিকাদারকে পুরো বিল পরিশোধ করা হয়েছে।

একই অভিযোগ উঠেছে দরপত্র আইডি ১২৩৬১৩০-এর কাজ নিয়েও। ইস্কাটন গার্ডেন সরকারি কর্মকর্তা কোয়ার্টার্সের সোনালী-রূপালী ক্যাম্পাসের সামনের জরাজীর্ণ সীমানা প্রাচীর পুনর্নির্মাণে প্রায় ৪০ লাখ টাকার এই কাজ ২৩ জুনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, অর্থবছর শেষ হওয়ার সময় পর্যন্ত কাজটি সম্পন্ন হয়নি। এরপরও সরকারি নথিতে কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে বিল পরিশোধ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিভিন্ন কাজেও একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে।

দরপত্র আইডি ১২৭৫৪০২-এর আওতায় হাসপাতালের ৮ম ও ৯ম তলার কলামে ক্ষতিগ্রস্ত এসএস (SS) কলাম গার্ড ও ভাঙা টাইলস পরিবর্তনের জন্য প্রায় ১০ লাখ টাকার কাজ আহ্বান করা হয়। দরপত্র অনুযায়ী, কাজটি ১৪ জুন ২০২৬-এর মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল।

অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে পরিদর্শনে দেখা যায়, কয়েকটি কলামের ভাঙা টাইলস এখনও পরিবর্তন করা হয়নি এবং এসএস কলাম গার্ডে মরিচা রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, কাজটি সম্পন্ন না হলেও ঠিকাদারকে পুরো বিল পরিশোধ করা হয়েছে।

এ ছাড়া দরপত্র আইডি ১২৭৫৪৭৮-এর আওতায় মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু বিস্তার রোধে উপরিভাগের ড্রেন মেরামত ও সংস্কার, সেপটিক ট্যাংক, সোক-ওয়েল ও ইন্সপেকশন পিট পরিষ্কার ও মেরামত, সয়েল পাইপ পরিষ্কার এবং হাসপাতালের আশপাশের আবর্জনা ও আগাছা পরিষ্কারের জন্য প্রায় ১৪ লাখ টাকার কাজ আহ্বান করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, এই কাজের বিলও জুন ক্লোজিংয়ের সময় পুরোপুরি পরিশোধ করা হয়েছে। তবে সরেজমিনে হাসপাতাল ভবনের আশপাশে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ দেখা গেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

মুগদা ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের সামনের ক্ষতিগ্রস্ত ও জলমগ্ন বিটুমিনাস কার্পেটিং সড়ক এবং পার্কিং এলাকা মেরামতের জন্য দরপত্র আইডি ১২৭৫৬৩৮-এর আওতায় প্রায় ২৪ লাখ টাকার কাজ আহ্বান করা হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, জুন ক্লোজিংয়ের সময় সরকারি নথিতে কাজটি সম্পন্ন দেখিয়ে ঠিকাদারকে পুরো বিল পরিশোধ করা হয়েছে। তবে সরেজমিনে হাসপাতালের পার্কিং এলাকা পরিদর্শনে কিছু অংশে বিটুমিনাস কার্পেটিংয়ের কাজ অসম্পূর্ণ পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৪-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাসুদ রানা কাজ সম্পন্ন হওয়ার আগেই ঠিকাদারদের বিল পরিশোধ করে বিশেষ সুবিধা দিয়েছেন। আর এ সুবিধা দেওয়ার বিনিময়ে তিনি মোটা অঙ্কের কমিশন নিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

তবে অভিযোগে উত্থাপিত কমিশন গ্রহণের বিষয়টি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

সরকারি ক্রয়বিধি অনুযায়ী, কাজের বাস্তব অগ্রগতি যাচাই না করে সম্পূর্ণ বিল পরিশোধ করা হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ঠিকাদারের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আর্থিক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিভাগীয় শাস্তি, আর্থিক ক্ষতিপূরণসহ অন্যান্য আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

অভিযোগের বিষয়ে ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৪-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাসুদ রানার বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

পরে তার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে লিখিত বার্তা পাঠানো হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তিনি কোনো জবাব দেননি।

 

সর্বাধিক পঠিত

কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই ঠিকাদারকে বিল পরিশোধের অভিযোগ গণপূর্ত প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে

কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই ঠিকাদারকে বিল পরিশোধের অভিযোগ গণপূর্ত প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে

আপডেট: ০১:১৩:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৪-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাসুদ রানার বিরুদ্ধে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে কাজ সম্পন্ন না করেই ঠিকাদারকে প্রায় ২ কোটি ৬৪ লাখ টাকার বিল পরিশোধ এবং এর বিনিময়ে কমিশন নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে কয়েকটি প্রকল্প পরিদর্শনে কিছু কাজ অসম্পূর্ণ অবস্থায় পাওয়ার দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, গণপূর্ত অধিদপ্তরের ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৪-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাসুদ রানা ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে এপিপি (বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনা) বরাদ্দের আওতায় পাঁচটি পৃথক দরপত্র আহ্বান করেন। এসব কাজের কয়েকটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন না হলেও সরকারি নথিতে কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে ঠিকাদারকে পুরো বিল পরিশোধ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

দরপত্র আইডি ১২৩৬২৩৯-এর আওতায় ইস্কাটন গার্ডেন সরকারি অফিসার্স কোয়ার্টার্সের অরুণিমা-নিহারিকা ক্যাম্পাসের উত্তর ও দক্ষিণ পাশের ঝুঁকিপূর্ণ ও জরাজীর্ণ সীমানা প্রাচীর পুনর্নির্মাণ এবং উচ্চতা বৃদ্ধির জন্য প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ টাকার কাজ আহ্বান করা হয়।

দরপত্র নোটিশ অনুযায়ী, কাজটি ২৩ জুন ২০২৬-এর মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে অভিযোগের ভিত্তিতে অর্থবছর শেষ হওয়ার পর সরেজমিনে পরিদর্শনে কাজটি অসম্পূর্ণ অবস্থায় পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, কাজটি সম্পন্ন না হলেও জুন ক্লোজিংয়ের সময় সরকারি নথিতে তা সম্পন্ন দেখিয়ে ঠিকাদারকে পুরো বিল পরিশোধ করা হয়েছে।

একই অভিযোগ উঠেছে দরপত্র আইডি ১২৩৬১৩০-এর কাজ নিয়েও। ইস্কাটন গার্ডেন সরকারি কর্মকর্তা কোয়ার্টার্সের সোনালী-রূপালী ক্যাম্পাসের সামনের জরাজীর্ণ সীমানা প্রাচীর পুনর্নির্মাণে প্রায় ৪০ লাখ টাকার এই কাজ ২৩ জুনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, অর্থবছর শেষ হওয়ার সময় পর্যন্ত কাজটি সম্পন্ন হয়নি। এরপরও সরকারি নথিতে কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে বিল পরিশোধ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিভিন্ন কাজেও একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে।

দরপত্র আইডি ১২৭৫৪০২-এর আওতায় হাসপাতালের ৮ম ও ৯ম তলার কলামে ক্ষতিগ্রস্ত এসএস (SS) কলাম গার্ড ও ভাঙা টাইলস পরিবর্তনের জন্য প্রায় ১০ লাখ টাকার কাজ আহ্বান করা হয়। দরপত্র অনুযায়ী, কাজটি ১৪ জুন ২০২৬-এর মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল।

অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে পরিদর্শনে দেখা যায়, কয়েকটি কলামের ভাঙা টাইলস এখনও পরিবর্তন করা হয়নি এবং এসএস কলাম গার্ডে মরিচা রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, কাজটি সম্পন্ন না হলেও ঠিকাদারকে পুরো বিল পরিশোধ করা হয়েছে।

এ ছাড়া দরপত্র আইডি ১২৭৫৪৭৮-এর আওতায় মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু বিস্তার রোধে উপরিভাগের ড্রেন মেরামত ও সংস্কার, সেপটিক ট্যাংক, সোক-ওয়েল ও ইন্সপেকশন পিট পরিষ্কার ও মেরামত, সয়েল পাইপ পরিষ্কার এবং হাসপাতালের আশপাশের আবর্জনা ও আগাছা পরিষ্কারের জন্য প্রায় ১৪ লাখ টাকার কাজ আহ্বান করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, এই কাজের বিলও জুন ক্লোজিংয়ের সময় পুরোপুরি পরিশোধ করা হয়েছে। তবে সরেজমিনে হাসপাতাল ভবনের আশপাশে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ দেখা গেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

মুগদা ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের সামনের ক্ষতিগ্রস্ত ও জলমগ্ন বিটুমিনাস কার্পেটিং সড়ক এবং পার্কিং এলাকা মেরামতের জন্য দরপত্র আইডি ১২৭৫৬৩৮-এর আওতায় প্রায় ২৪ লাখ টাকার কাজ আহ্বান করা হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, জুন ক্লোজিংয়ের সময় সরকারি নথিতে কাজটি সম্পন্ন দেখিয়ে ঠিকাদারকে পুরো বিল পরিশোধ করা হয়েছে। তবে সরেজমিনে হাসপাতালের পার্কিং এলাকা পরিদর্শনে কিছু অংশে বিটুমিনাস কার্পেটিংয়ের কাজ অসম্পূর্ণ পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৪-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাসুদ রানা কাজ সম্পন্ন হওয়ার আগেই ঠিকাদারদের বিল পরিশোধ করে বিশেষ সুবিধা দিয়েছেন। আর এ সুবিধা দেওয়ার বিনিময়ে তিনি মোটা অঙ্কের কমিশন নিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

তবে অভিযোগে উত্থাপিত কমিশন গ্রহণের বিষয়টি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

সরকারি ক্রয়বিধি অনুযায়ী, কাজের বাস্তব অগ্রগতি যাচাই না করে সম্পূর্ণ বিল পরিশোধ করা হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ঠিকাদারের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আর্থিক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিভাগীয় শাস্তি, আর্থিক ক্ষতিপূরণসহ অন্যান্য আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

অভিযোগের বিষয়ে ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৪-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাসুদ রানার বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

পরে তার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে লিখিত বার্তা পাঠানো হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তিনি কোনো জবাব দেননি।