০২:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

রাঙামাটি গণপূর্তের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আনোয়ারুল আজিমের বিরুদ্ধে শতকোটি টাকার অবৈধ সম্পদ ও দুর্নীতির অভিযোগ

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০১:০৬:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
  • ৫০৭

রাঙামাটি গণপূর্ত সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আনোয়ারুল আজিমের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি প্রকল্পে অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ, ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণ এবং দেশ-বিদেশে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, চাকরি জীবনের বিভিন্ন কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনকালে তিনি সরকারি অর্থ আত্মসাৎ ও অনিয়মের মাধ্যমে শতকোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন।

অভিযোগকারীদের দাবি, গণপূর্ত অধিদপ্তরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে দায়িত্ব পালনকালে তিনি নিজের প্রভাব ব্যবহার করে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প থেকে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। এ ছাড়া নামে-বেনামে আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে ঠিকাদারি ব্যবসা পরিচালনা করে সরকারি বরাদ্দ থেকে অবৈধ সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

 কানাডায় একটি বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণ করেছেন আনোয়ারুল আজিম। দেশে তাঁর নামে ও বেনামে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় একাধিক বাড়ি, ফ্ল্যাট ও প্লট রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ঢাকার দক্ষিণখানে একটি গার্মেন্টস কারখানা, মিরপুর রূপনগরে দুটি ছয় কাঠার প্লট, টোলারবাগে একটি ছয়তলা ভবন, উত্তরার ১২ নম্বর সেক্টরে একটি বিলাসবহুল বাড়িসহ আরও একাধিক স্থাবর সম্পদের মালিক তিনি। এছাড়া দামি ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার এবং নিয়মিত বিদেশ ভ্রমণেরও অভিযোগ রয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন বা আদালতের রায় প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।

অভিযোগকারীদের দাবি, নিজের শ্যালক ও ভাইয়ের নামে বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন আনোয়ারুল আজিম। নিকটাত্মীয় রেজাউলকে দিয়ে ‘ইউনিভার্সাল এন্টারপ্রাইজ’সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে ঠিকাদারি কাজ পরিচালনা করলেও প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ তাঁর হাতেই রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালে গাজীপুর গণপূর্ত বিভাগে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন নির্মাণকাজের টেন্ডারে অনিয়ম ও কমিশন বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করেন তিনি।

পরবর্তীতে সিরাজগঞ্জে মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্পে দায়িত্ব পালনকালেও বেনামে ঠিকাদারি, জালিয়াতি ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৯-২০ অর্থবছরে গাজীপুর গণপূর্ত বিভাগের ৩৪টি নির্মাণকাজে প্রকল্প বাস্তবায়ন ছাড়াই প্রায় ৪৯ কোটি ২৯ লাখ ২২ হাজার ৩০৬ টাকা বিল উত্তোলনের ঘটনায় তাঁর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে।

পরে পাবনা গণপূর্ত বিভাগ এবং পরবর্তীতে পাবনা সার্কেলে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে রূপপুর প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির আশ্রয় নেওয়ার অভিযোগ ওঠে।

অভিযোগকারীদের দাবি, ঘুষ বাণিজ্য ও অনিয়মের কারণে স্থানীয় ঠিকাদারদের ক্ষোভের মুখে পড়েন তিনি। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে তাঁকে সাময়িক বরখাস্তও করা হয়েছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

বর্তমানে রাঙামাটি গণপূর্ত সার্কেলে দায়িত্ব পালন করছেন আনোয়ারুল আজিম। অভিযোগ রয়েছে, রাঙামাটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে বাইরের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দিয়ে কমিশন বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন।

অভিযোগকারীদের দাবি, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পকে কেন্দ্র করে এখনও প্রভাব বিস্তার ও অনিয়ম অব্যাহত রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তদন্তের ফলাফল এখনো প্রকাশিত হয়নি।

সূত্রগুলোর দাবি, আনোয়ারুল আজিম এর আগে একাধিকবার দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং বিভাগীয় তদন্তের মুখোমুখি হয়েছেন। তবে অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব তদন্ত তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের কার্যকর প্রতিকার আনতে পারেনি।

এর আগে অভিযোগগুলোর বিষয়ে আনোয়ারুল আজিমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার বা ব্যাখ্যা না দিয়ে সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, “যা পারেন তাই লিখে দেন।”

সর্বাধিক পঠিত

কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই ঠিকাদারকে বিল পরিশোধের অভিযোগ গণপূর্ত প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে

রাঙামাটি গণপূর্তের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আনোয়ারুল আজিমের বিরুদ্ধে শতকোটি টাকার অবৈধ সম্পদ ও দুর্নীতির অভিযোগ

আপডেট: ০১:০৬:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

রাঙামাটি গণপূর্ত সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আনোয়ারুল আজিমের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি প্রকল্পে অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ, ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণ এবং দেশ-বিদেশে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, চাকরি জীবনের বিভিন্ন কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনকালে তিনি সরকারি অর্থ আত্মসাৎ ও অনিয়মের মাধ্যমে শতকোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন।

অভিযোগকারীদের দাবি, গণপূর্ত অধিদপ্তরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে দায়িত্ব পালনকালে তিনি নিজের প্রভাব ব্যবহার করে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প থেকে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। এ ছাড়া নামে-বেনামে আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে ঠিকাদারি ব্যবসা পরিচালনা করে সরকারি বরাদ্দ থেকে অবৈধ সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

 কানাডায় একটি বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণ করেছেন আনোয়ারুল আজিম। দেশে তাঁর নামে ও বেনামে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় একাধিক বাড়ি, ফ্ল্যাট ও প্লট রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ঢাকার দক্ষিণখানে একটি গার্মেন্টস কারখানা, মিরপুর রূপনগরে দুটি ছয় কাঠার প্লট, টোলারবাগে একটি ছয়তলা ভবন, উত্তরার ১২ নম্বর সেক্টরে একটি বিলাসবহুল বাড়িসহ আরও একাধিক স্থাবর সম্পদের মালিক তিনি। এছাড়া দামি ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার এবং নিয়মিত বিদেশ ভ্রমণেরও অভিযোগ রয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন বা আদালতের রায় প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।

অভিযোগকারীদের দাবি, নিজের শ্যালক ও ভাইয়ের নামে বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন আনোয়ারুল আজিম। নিকটাত্মীয় রেজাউলকে দিয়ে ‘ইউনিভার্সাল এন্টারপ্রাইজ’সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে ঠিকাদারি কাজ পরিচালনা করলেও প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ তাঁর হাতেই রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালে গাজীপুর গণপূর্ত বিভাগে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন নির্মাণকাজের টেন্ডারে অনিয়ম ও কমিশন বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করেন তিনি।

পরবর্তীতে সিরাজগঞ্জে মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্পে দায়িত্ব পালনকালেও বেনামে ঠিকাদারি, জালিয়াতি ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৯-২০ অর্থবছরে গাজীপুর গণপূর্ত বিভাগের ৩৪টি নির্মাণকাজে প্রকল্প বাস্তবায়ন ছাড়াই প্রায় ৪৯ কোটি ২৯ লাখ ২২ হাজার ৩০৬ টাকা বিল উত্তোলনের ঘটনায় তাঁর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে।

পরে পাবনা গণপূর্ত বিভাগ এবং পরবর্তীতে পাবনা সার্কেলে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে রূপপুর প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির আশ্রয় নেওয়ার অভিযোগ ওঠে।

অভিযোগকারীদের দাবি, ঘুষ বাণিজ্য ও অনিয়মের কারণে স্থানীয় ঠিকাদারদের ক্ষোভের মুখে পড়েন তিনি। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে তাঁকে সাময়িক বরখাস্তও করা হয়েছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

বর্তমানে রাঙামাটি গণপূর্ত সার্কেলে দায়িত্ব পালন করছেন আনোয়ারুল আজিম। অভিযোগ রয়েছে, রাঙামাটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে বাইরের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দিয়ে কমিশন বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন।

অভিযোগকারীদের দাবি, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পকে কেন্দ্র করে এখনও প্রভাব বিস্তার ও অনিয়ম অব্যাহত রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তদন্তের ফলাফল এখনো প্রকাশিত হয়নি।

সূত্রগুলোর দাবি, আনোয়ারুল আজিম এর আগে একাধিকবার দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং বিভাগীয় তদন্তের মুখোমুখি হয়েছেন। তবে অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব তদন্ত তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের কার্যকর প্রতিকার আনতে পারেনি।

এর আগে অভিযোগগুলোর বিষয়ে আনোয়ারুল আজিমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার বা ব্যাখ্যা না দিয়ে সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, “যা পারেন তাই লিখে দেন।”