১০:৪৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগ পরীক্ষা ঘিরে ছাত্রদলের দুই নেতার হাতাহাতি

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৯:৫৩:২২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
  • ৫০৬

পটুয়াখালীর বাউফলে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির নিয়োগ পরীক্ষা ঘিরে ছাত্রদলের দুই নেতার মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। পরীক্ষাকেন্দ্রে অননুমোদিত ব্যক্তির প্রবেশ ও পরীক্ষা চলাকালে ভিডিও ধারণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শনিবার (২৫ জুলাই) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

হাতাহাতিতে জড়ানো দুজন হলেন উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবদুল্লাহ আল ফাহাদ এবং পৌর ছাত্রদলের সাবেক সদস্যসচিব সাদিকুজ্জামান রাকিব। পরে উভয় পক্ষই পরস্পরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ করেছে।

জানা গেছে, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় শুমারি সুপারভাইজার ও আইটি সুপারভাইজার নিয়োগের জন্য শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলা পরিষদ হলরুমে লিখিত পরীক্ষা শুরু হয়।

পরীক্ষা চলাকালে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য শহিদুল আলম তালুকদারের ছেলে রাইয়ান আকাশ পরীক্ষাকক্ষে প্রবেশ করে কিছু সময় অবস্থান করেন বলে অভিযোগ ওঠে। একই সময়ে উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবদুল্লাহ আল ফাহাদ বাইরে থেকে পরীক্ষার হলের ভিডিও ধারণ করেন বলে কয়েকজন পরীক্ষার্থী অভিযোগ করেন।

পরীক্ষা শেষে এ বিষয়টি নিয়ে কয়েকজন পরীক্ষার্থীর সঙ্গে ফাহাদের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। পরে তিনি রাইয়ান আকাশের সঙ্গে উপজেলা পরিষদ এলাকা থেকে বের হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে যান। সেখানে পরীক্ষা কেন্দ্রের ভিডিও ধারণের বিষয়টি নিয়ে সাদিকুজ্জামান রাকিবের সঙ্গে তাঁর কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে দুজন হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন।

সাদিকুজ্জামান রাকিবের অভিযোগ, দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগ পরীক্ষায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করায় আবদুল্লাহ আল ফাহাদ তাঁর ওপর হামলা চালান।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আবদুল্লাহ আল ফাহাদ বলেন, সাদিকুজ্জামান রাকিবই অতর্কিতভাবে তাঁর ওপর হামলা করেছেন।

পরীক্ষায় অংশ নেওয়া জসিম উদ্দীন অন্তু বলেন, কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি ছাড়া অন্য কারও অবস্থান করার কথা নয়। নিয়মবহির্ভূতভাবে একজন পরীক্ষার কক্ষে অবস্থান করেছেন এবং বাইরে থেকে ভিডিও ধারণের কারণে পরীক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে পছন্দের প্রার্থীদের নিয়োগ দিতে একটি তালিকা ইউএনও কার্যালয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। এ নিয়ে পরীক্ষা শুরুর আগে উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক তসলিম তালুকদার, রাইয়ান আকাশ ও ছাত্রদল নেতা আবদুল্লাহ আল ফাহাদ উপজেলা পরিষদ এলাকায় অবস্থান করেছিলেন বলে দাবি করা হয়।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন।

রাইয়ান আকাশ জানান, পরীক্ষার সময় তিনি পরীক্ষার হলে গিয়েছিলেন। তবে সেখানে দীর্ঘ সময় অবস্থান করেননি।

ফ্যামিলি কার্ডের মতো সরকারি কর্মসূচির নিয়োগ পরীক্ষা ঘিরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার, অননুমোদিত ব্যক্তির পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশ এবং পরীক্ষার পরিবেশে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠলে তা অবশ্যই নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে হাতাহাতির ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

সর্বাধিক পঠিত

শার্শা সীমান্তে অভিযানে ২৬ বোতল এস্কাফ সিরাপসহ মাদক কারবারি আটক

ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগ পরীক্ষা ঘিরে ছাত্রদলের দুই নেতার হাতাহাতি

আপডেট: ০৯:৫৩:২২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

পটুয়াখালীর বাউফলে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির নিয়োগ পরীক্ষা ঘিরে ছাত্রদলের দুই নেতার মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। পরীক্ষাকেন্দ্রে অননুমোদিত ব্যক্তির প্রবেশ ও পরীক্ষা চলাকালে ভিডিও ধারণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শনিবার (২৫ জুলাই) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

হাতাহাতিতে জড়ানো দুজন হলেন উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবদুল্লাহ আল ফাহাদ এবং পৌর ছাত্রদলের সাবেক সদস্যসচিব সাদিকুজ্জামান রাকিব। পরে উভয় পক্ষই পরস্পরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ করেছে।

জানা গেছে, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় শুমারি সুপারভাইজার ও আইটি সুপারভাইজার নিয়োগের জন্য শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলা পরিষদ হলরুমে লিখিত পরীক্ষা শুরু হয়।

পরীক্ষা চলাকালে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য শহিদুল আলম তালুকদারের ছেলে রাইয়ান আকাশ পরীক্ষাকক্ষে প্রবেশ করে কিছু সময় অবস্থান করেন বলে অভিযোগ ওঠে। একই সময়ে উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবদুল্লাহ আল ফাহাদ বাইরে থেকে পরীক্ষার হলের ভিডিও ধারণ করেন বলে কয়েকজন পরীক্ষার্থী অভিযোগ করেন।

পরীক্ষা শেষে এ বিষয়টি নিয়ে কয়েকজন পরীক্ষার্থীর সঙ্গে ফাহাদের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। পরে তিনি রাইয়ান আকাশের সঙ্গে উপজেলা পরিষদ এলাকা থেকে বের হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে যান। সেখানে পরীক্ষা কেন্দ্রের ভিডিও ধারণের বিষয়টি নিয়ে সাদিকুজ্জামান রাকিবের সঙ্গে তাঁর কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে দুজন হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন।

সাদিকুজ্জামান রাকিবের অভিযোগ, দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগ পরীক্ষায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করায় আবদুল্লাহ আল ফাহাদ তাঁর ওপর হামলা চালান।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আবদুল্লাহ আল ফাহাদ বলেন, সাদিকুজ্জামান রাকিবই অতর্কিতভাবে তাঁর ওপর হামলা করেছেন।

পরীক্ষায় অংশ নেওয়া জসিম উদ্দীন অন্তু বলেন, কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি ছাড়া অন্য কারও অবস্থান করার কথা নয়। নিয়মবহির্ভূতভাবে একজন পরীক্ষার কক্ষে অবস্থান করেছেন এবং বাইরে থেকে ভিডিও ধারণের কারণে পরীক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে পছন্দের প্রার্থীদের নিয়োগ দিতে একটি তালিকা ইউএনও কার্যালয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। এ নিয়ে পরীক্ষা শুরুর আগে উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক তসলিম তালুকদার, রাইয়ান আকাশ ও ছাত্রদল নেতা আবদুল্লাহ আল ফাহাদ উপজেলা পরিষদ এলাকায় অবস্থান করেছিলেন বলে দাবি করা হয়।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন।

রাইয়ান আকাশ জানান, পরীক্ষার সময় তিনি পরীক্ষার হলে গিয়েছিলেন। তবে সেখানে দীর্ঘ সময় অবস্থান করেননি।

ফ্যামিলি কার্ডের মতো সরকারি কর্মসূচির নিয়োগ পরীক্ষা ঘিরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার, অননুমোদিত ব্যক্তির পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশ এবং পরীক্ষার পরিবেশে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠলে তা অবশ্যই নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে হাতাহাতির ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।