যশোরের শার্শা উপজেলার বাগুড়ী কোটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরী কাম নৈশপ্রহরী কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ে রাতে জুয়ার বোর্ড পরিচালনা, নারী ও খদ্দের এনে অনৈতিক ব্যবসা করা এবং চুরি ও স্বেচ্ছাচারিতার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় এলাকাবাসী একাধিকবার স্কুল কর্তৃপক্ষ ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন।
অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গঠিত তদন্ত কমিটির কাছে সমস্ত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পরেও কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে তাকে স্বপদে বহাল রাখা হয়েছে। স্থানীয় মাতব্বর, স্কুল কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষা কর্মকর্তাদের এমন কার্যকলাপে অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। তাঁরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে কামরুজ্জামানের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
অভিযোগ ও তদন্তের চিত্র
অনুসন্ধানে জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় যুবলীগের কর্মী পরিচয়ে কামরুজ্জামান স্কুলে রাতে এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাতেন। সরকার পরিবর্তনের পর কিছুদিন বন্ধ রাখলেও পরে আবার একই কাজ শুরু করলে গ্রামবাসীরা জুয়ার বোর্ড চলাকালীন সময়ে তাকে ধাওয়া করলে সে পালিয়ে যায়।
এরপর গ্রামের ৪৮ জন অভিভাবক ও সচেতন ব্যক্তি স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগ স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে জমা দেন। প্রধান শিক্ষকের অবহিত করার পর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেনকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন।
তদন্ত কমিটির কাছে অভিযুক্ত দপ্তরী কাম নৈশপ্রহরী কামরুজ্জামান তাঁর সমস্ত অপরাধ স্বীকার করেন। তবুও এলাকার একটি কুচক্রী মহলের তদবিরে তাঁকে মাত্র বিশ হাজার টাকা জরিমানা করে স্বপদে বহাল রাখা হয়।
সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য
* নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অভিভাবক অভিযোগ করেন, কামরুজ্জামান গ্রামের কয়েকজন মাতব্বরকে মোটা টাকা দিয়ে ম্যানেজ করেছেন। তাঁদের তদবির ও প্ররোচনায় উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রেহেনা বানু এত জঘন্য অপরাধের পরেও তাঁকে চাকরি করার সুযোগ করে দিয়েছেন।
* অভিযুক্ত কামরুজ্জামান নিজে স্বীকার করে বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ সত্য এবং তিনি ওই কাজে জড়িত ছিলেন। তবে এলাকাবাসী ও শিক্ষা কর্মকর্তারা তাঁকে ক্ষমা করে দিয়েছেন।
* শার্শা বাগুড়ী কোটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফরিদা আক্তার জানান, তদন্ত কমিটিতে কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয় এবং সে নিজেই অপরাধ স্বীকার করে। পরে এলাকাবাসীর অনুরোধে তাঁকে এবারের মতো ক্ষমা করা হয়েছে।
* শার্শা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রেহেনা বানু জানান, তদন্ত কমিটি তাঁকে রিপোর্ট দিয়েছিল যে অভিযোগ আংশিক প্রমাণিত এবং তাঁকে সাধারণ ক্ষমা করা হয়েছে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযোগ ওঠায় তিনি আবারও তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান।
* শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী নাজিব হাসান জানিয়েছেন, বিষয়টি তাঁর জানা নেই। তবে তিনি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে ঘটনাটি জানতে চাইবেন। তিনি আরও বলেন, ওই দপ্তরি কাম নৈশপ্রহরীর বিরুদ্ধে যদি এসব অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে তাঁকে ক্ষমা করার কোনো সুযোগ নেই।
০৫:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম:
শার্শার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরী কাম নৈশপ্রহরীর বিরুদ্ধে জুয়া ও অনৈতিক কার্যকলাপের গুরুতর অভিযোগ
শার্শার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরী কাম নৈশপ্রহরীর বিরুদ্ধে জুয়া ও অনৈতিক কার্যকলাপের গুরুতর অভিযোগ
-
নিউজ ডেস্ক - আপডেট: ০৭:৫২:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- ৫৭০
সর্বাধিক পঠিত



























