রাষ্ট্র ও রাজনীতিতে গণতন্ত্র এবং শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠিত থাকলে বাস্তুতন্ত্র নিরাপদ থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য যেমন গণতন্ত্রের সুরক্ষা প্রয়োজন, তেমনি প্রাণীর অধিকার নিশ্চিত করার জন্য বাস্তুতন্ত্রের সুরক্ষা অত্যন্ত জরুরি।
শনিবার রাজধানীর চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘প্রাণী ও প্রাণের মিলন মেলা’য় লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই ব্যতিক্রমী মেলার স্লোগান ছিল ‘দেশ হোক সকল প্রাণের নিরাপদ আবাসস্থল’।
তারেক রহমান বলেন, প্রাণীর নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষা মানব সভ্যতার উৎকর্ষতা এবং বিকাশের এক গুরুত্বপূর্ণ নির্ণায়ক। এটি শুধু মানবিক দায়িত্বই নয়, বরং জীববৈচিত্র্যের সংরক্ষণ, বাস্তুতান্ত্রিক ভারসাম্য এবং মানবজাতির সুস্থ ও টেকসই ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার জন্যও অত্যাবশ্যক।
পবিত্র কোরআনের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, সৃষ্টিকুলের মধ্যে পশুপাখি ও প্রাণীর গুরুত্ব সকল ধর্মেই বিশেষভাবে বলা হয়েছে। কোরআনে বলা হয়েছে— ‘প্রাণিকুল সৃষ্টির (অন্যতম) কারণ হলো, এগুলোতে তোমরা আরোহণ করে থাকো আর এগুলো সৌন্দর্যের প্রতীক।’
তিনি আরও বলেন, বিগত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বর মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। ব্যাঙের মতো কিছু প্রাণী এডিস মশার লার্ভা খেয়ে মশার বিস্তার রোধে সাহায্য করে। তাই মানব সমাজের নিরাপত্তার স্বার্থে প্রতিটি প্রাণীর নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি।
তারেক রহমান উল্লেখ করেন যে, আন্তর্জাতিক প্রকৃতি বা প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘের (IUCN) এক দশক আগের রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশে ১,৬০০-এর বেশি প্রজাতির প্রাণীর মধ্যে প্রায় ৩৯০টি প্রজাতি বিলুপ্তির পথে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী প্রতীক রয়েল বেঙ্গল টাইগারও এখন বিলুপ্ত প্রজাতির তালিকায় স্থান করে নিচ্ছে। ৮০’র দশকে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা প্রায় ৫০০-এর কাছাকাছি থাকলেও বর্তমানে সেই সংখ্যা ১০০-এর নিচে নেমে এসেছে। হাতির সংখ্যাও এখন ২০০-এর নিচে চলে এসেছে। এভাবে বাংলাদেশের আরও অনেক প্রাণী ধীরে ধীরে বিলুপ্ত প্রজাতির তালিকায় যুক্ত হচ্ছে।
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, জলবায়ুর পরিবর্তন, অপরিকল্পিত নগরায়ন, নদী-জলাভূমি ভরাট, বন উজাড়সহ বিভিন্ন কারণে জীববৈচিত্র্য যেমন হুমকির মুখে পড়ছে, ঠিক একইভাবে বন্য প্রাণী পাচারের ঘটনাও উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে।
তিনি বলেন, দেশে প্রাণী কল্যাণ আইন ২০১৯, বন্য প্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন, জীববৈচিত্র্য রক্ষা আইনসহ সংশ্লিষ্ট অনেকগুলো আইন রয়েছে। জনগণের রায়ে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে পশুপাখি ও বাস্তুতন্ত্রের নিরাপত্তার জন্য এসব আইনকে সময়োপযোগী করা হবে।
অনুষ্ঠানে আরও যারা উপস্থিত ছিলেন:
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় প্রাণীকূলকে রক্ষা করা অপরিহার্য।
যুগান্তর সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার বলেন, মোবাইল রেডিয়েশন এবং বন-জঙ্গল ধ্বংসের কারণে প্রাণীরা বিলুপ্তির পথে। জীববৈচিত্র্য রক্ষা করতে হলে বন ও প্রাণী রক্ষায় মনোযোগ দিতে হবে।
বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল দেশের মানুষকে পশু ও ক্রীড়াপ্রেমী হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, প্রাণীদের অধিকার আদায়ে সামাজিক মাধ্যমে সোচ্চার হতে হবে।
এছাড়াও, অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির কোষাধ্যক্ষ এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আব্দুল লতিফ এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মনোয়ার হোসেন তুহিন।
০৩:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
শিরোনাম:
তারেক রহমানের মন্তব্য: রাষ্ট্রে গণতন্ত্র থাকলে বাস্তুতন্ত্র নিরাপদ থাকবে
তারেক রহমানের মন্তব্য: রাষ্ট্রে গণতন্ত্র থাকলে বাস্তুতন্ত্র নিরাপদ থাকবে
-
নিউজ ডেস্ক - আপডেট: ১১:১৬:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- ৫৬০
সর্বাধিক পঠিত



























